বিশ্বকাপের বাইশ তম আসর শেষ হয়েছে গত ১৮ ডিসেম্বর। এক মাসের এই আয়োজন উপলক্ষে বিলিয়ন ডলারের স্টেডিয়াম বানিয়েছিলো কাতার।
এখন বিশ্বকাপ শেষ হবার পর জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে যে, হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এসব স্টেডিয়ামগুলোর ভবিষ্যৎ কী?
বিশ্বকাপের আয়োজনে জন্য ৭ টি নতুন স্টেডিয়াম নির্মান করেছিলো কাতার। এর মধ্য থেকে স্টেডিয়াম নাইন সেভেনটি ফোর ইতিমধ্যে ভেঙে ফেলার কাজ শুরু হয়েছে ।
শোনা যাচ্ছে, এর ভাঙা অংশগুলো পাঠিয়ে দেয়া হবে আফ্রিকার কোনো দেশে এবং এখানে নির্মাণ করা হবে শহরের পানি সরবরাহের স্থাপনা।
অস্থায়ীভাবে তৈরি এই স্টেডিয়ামটি নির্মাণ করতে ব্যবহার করা হয়েছিল ৯৭৪টি শিপিং কন্টেইনার।
কাতার বিশ্বকাপের মূল আকর্ষন ছিলো লুসাইল আইকনিক স্টেডিয়াম। বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর ৮০ হাজার আসন বিশিষ্ট এই স্টেডিয়ামটি ৪০ হাজার আসনে নিয়ে আসা হবে। এবং এখানে নির্মাণ করা হবে শপিংমল, হাসপাতাল, স্কুল এবং দোকান।
এছাড়াও পরিকল্পনা করা হচ্ছে লুসাইল স্টেডিয়ামে একটি ফুটবল মিউজিয়াম তৈরি করার। তবে সবকিছুর পরেও খেলার মাঠের পর্যাপ্ত জায়গা বাকি থাকবে।
কাতারের আল বায়াত স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়েছিল বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচসহ মোট ৮ টি ম্যাচ।
বর্তমানে এর আসন সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনা হবে। এবং এই স্টেডিয়ামে তৈরি করা হবে ফাইভ স্টার হোটেল, শপিং মল এবং ঔষধের দোকান।
মূলত খেলাধুলার জন্য যেসব ওষুধ এবং চিকিৎসা সামগ্রী প্রয়োজন, সেগুলো সহজে পাওয়া যাবে এই ঔষধের দোকানে।
দোহার আহমেদ বিন আলি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিশ্বকাপের ৭ টি ম্যাচ। এর আসন সংখ্যা ছিলো ৪০ হাজার।
বর্তমানে এই স্টেডিয়ামের আসন সংখ্যা ২০ হাজারে নামিয়ে আনা হবে। এই স্টেডিয়ামটি ব্যবহার করবে জনপ্রিয় ফুটবল ক্লাব আল রাইয়ান।
কাতারের আল জানুব স্টেডিয়াম তৈরি করা হয়েছে আরব সাগরে ভেসে বেড়ানো ডৌ নৌকার আদলে। এখানে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিশ্বকাপের ৭ টি ম্যাচ।
বর্তমানে এর আসন সংখ্যা ৪০ হাজার থেকে ২০ হাজারে নামিয়ে আনা হবে এবং এগুলো পাঠিয়ে দেয়া হবে উন্নয়নশীল দেশগুলোর ক্রীড়া সংস্থায়। এই স্টেডিয়ামটি ব্যবহার করবে জনপ্রিয় ফুটবল ক্লাব আল ওয়াকারা।
বিশ্বকাপের আয়োজনে কাতারের একমাত্র পুরোনা স্টেডিয়াম দোহার খলিফা আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম। ৪৫ হাজার আসন বিশিষ্ট এই স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিশ্বকাপের ৮ টি ম্যাচ।
এখন থেকে এই স্টেডিয়ামটি কাতারের জাতীয় দল ব্যবহার করবে ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ও প্রশিক্ষণের জন্য।
বিশ্বকাপের আয়োজনে কাতারে নির্মান করা হয়েছে এজ্যুকেশন সিটি স্টেডিয়াম। এই স্টেডিয়ামের আসন সংখ্যা ৪০ হাজার এবং এখানে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিশ্বকাপের ৮ টি ম্যাচ।
বর্তমানে এর আসন সংখ্যাও ২০ হাজারে নামিয়ে আনা হবে এবং এগুলো কোনো উন্নয়নশীল দেশকে দান করা হবে।
টুপির আদলে তৈরি হয়েছে কাতারের আল থুমামা স্টেডিয়াম। এটিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিশ্বকাপের ৮ টি ম্যাচ এবং এর আসন সংখ্যা ছিলো ৪০ হাজার।
বর্তমানে এই আসন সংখ্যা অর্ধেক কমিয়ে এখানে তৈরি করা হবে উন্নতমানের মসজিদ এবং হোটেল।
অন্যদিকে, বিশ্বকাপ উপলক্ষে আসা দর্শনার্থীদের জন্য নির্মিত হোটেলগুলোকে ভেঙে তৈরি করা হতে পারে ছোট ছোট আবাসন।
কিন্তু এই আবাসনগুলিতে থাকার মতো মানুষ নেই কাতারে। কারন কাতারের ২৯ লক্ষ জনসংখ্যার মধ্যে ৩ লাখ স্থানীয় এবং বাকীরা বহিরাগত শ্রমজীবী প্রবাসী। তাদের থাকার জায়গা আগে থেকেই আছে।