সম্প্রতি সৌরজগতের বাইরে পানিসমৃদ্ধ দুটি গ্রহের সন্ধান পেয়েছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। গ্রহ দুটির নাম কেপলার ১৩৮-সি ও ১৩৮-ডি।
পৃথিবী থেকে ২১৮ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত লিরা নক্ষত্রপুঞ্জকে কেন্দ্র করে ঘুরছে গ্রহ দুটি। বিজ্ঞানীদের ধারণা, ওই গ্রহ দুটির পৃষ্ঠের নিচে পানি আছে।
দূরত্ব বেশি হওয়ায় এখন পর্যন্ত খুঁটিনাটি অনেক কিছুই জানা যায়নি এগুলো সম্পর্কে। তবে যতটুকু জানা সম্ভব হয়েছে, তা রীতিমত অবাক করার মতো বিষয়।
গবেষকদের ভাষ্যমতে এমন গ্রহের অস্তিত্ব সম্পর্কে আগে শুধু ধারণা করাই হচ্ছিলো। তবে বাস্তবে খোঁজ পাওয়াটা বিজ্ঞানীদের বেশ অবাক করেছে।
গ্রহ দুইটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হচ্ছে তাদের গঠন। এর ভিন্ন ধর্মী গঠনের কারণেই বিজ্ঞানীরা সন্দেহ করছে, এখানে পানি থাকার সম্ভবনা রয়েছে।
মুলত যেসব গ্রহের আকার পৃথিবীর তুলনায় কিছুটা বেশি, তাদের বেশিরভাগই পাথুরে গঠনের হয়। আবার অনেক গুলো দেখতে শক্ত বলের মত হয়। তাই এদের সুপার আর্থ বলা হতো।
তবে এবারের আবিষ্কৃত গ্রহ গুলোর আয়তন পৃথিবীর তিন গুন হলেও মাত্র দ্বিগুন ভর বিশিষ্ট।
তাছাড়া এদের ভূমণ্ডল পাথরের চেয়ে হাল্কা ও হাইড্রোজেন এবং হিলিয়ামের চেয়ে ভারী কোনো পদার্থ দিয়ে গঠিত।
তাই ধারনা করা হচ্ছে, এদের আয়তনের বিশাল অংশ জুড়ে পানি থাকার সম্ভবনা রয়েছে। যার ফলে এদেরকে অন্যসব সুপার আর্থ থেকে অনেকটা আলাদা ভাবা হচ্ছে।
কানাডার মন্ট্রিয়ল বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল জোতির্বিজ্ঞানী নাসার হাবল ও স্পিটজা নামে দুটি টেলিস্কোপ ব্যবহার করে তাঁদের গবেষণায় গ্রহ দুটির সন্ধান পান।
গবেষণায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির ইনস্টিটিউট ফর রিসার্চ অন দ্য এক্সোপ্লানেটস–এর ক্যারোলিন পিউলেট। গ্রহ দুটিতে পানি থাকার ব্যাপারে তাঁরা যথেষ্ট তথ্য প্রমাণ পেয়েছে।
তবে এখনও পর্যন্ত জানা যায়নি পানি গুলি কি অবস্হায় আছে। হতে পারে পানি গুলি বিশাল ঘন এক বায়ুমণ্ডলে আবদ্ধ। অনেকটা আমাদের প্রতিবেশী বৃহস্পতির বায়ুমণ্ডলের মত।
বৃহস্পতির বায়ুমণ্ডলের ঘনত্ব বেশি হলেও, এখানে কোনো পানির অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। তবে নব আবিষ্কৃত গ্রহ গুলিতে জলীয় বাষ্পে ঘেরা বায়ুমণ্ডল থাকার সম্ভবনা অনেক বেশি।
জলীয় বাষ্প ছাড়াও, থাকতে পারে বিশাল কোনো জলাশয়। তবে গ্রহ গুলো নক্ষত্রের খুব কাছাকাছি হওয়ায়, তাদের বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা অনেক বেশি।
বিজ্ঞানীরা ধারনা করছেন, তাপমাত্রা প্রায় পানির স্ফুটনাঙ্কের উপরে। তাই জলাশয়ের চেয়ে বায়ুমণ্ডলে বাষ্প আকারে পানি থাকাকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।
তবে এতসব গবেষনার পরেও, বিজ্ঞানীদের কাছে পানি থাকার স্বপক্ষে শক্ত কোনো প্রমান নেই। আসলেই গ্রহ দুটিতে পানি আছে কিনা, তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য প্রয়োজন আরও বিস্তর গবেষণা।
বিজ্ঞানীদের দাবি খুব শীঘ্রই রহস্যের জট খোলা হবে গ্রহ দুইটির। বর্তমানে অত্যাধুনিক হাবল টেলিস্কোপ এর মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ চলছে।
এক প্রকার ধোঁয়াশার মধ্যে থাকা গ্রহ গুলোকে নাসা, এক্সপ্লানেটের তালিকা ভুক্ত করে রেখেছে বলে জানা যায়। এই তালিকায় মুলত আমাদের সৌর জগতের বাইরের গ্রহ গুলোকে স্থান দেওয়া হয়।
তবে এমন পানি সমৃদ্ধ স্থান আমাদের সৌর জগতেও আছে। পৃথিবির চেয়ে অনেক বেশি পানির মজুত রয়েছে সেসব স্থানে।
বৃহস্পতির উপগ্রহ গ্যানিমিডের মোট আয়তনের 69 শতাংশই পানি। যা আমাদের সৌর জগতের সর্বোচ্চ পানির মজুত।
তাছাড়া আমাদের সৌর জগতে পৃথিবী ছাড়াও আরো ২২ টি গ্রহ উপগ্রহে পানির অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।