ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের পোস্টার বয় নেইমার জুনিয়র। গত কয়েক বছর ধরে পৃথিবী মাতাচ্ছেন সেলেসাওদের সবচেয়ে বড় এই সুপারস্টার।
বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম দামি খেলোয়াড় তিনি। পিএসজি ক্লাবে খেলা নেইমার প্রতি সপ্তাহে শুধু বেতন হিসাবেই আয় করেন সাত কোটি টাকার বেশি।
আকাশচুম্বী উপার্জনের পাশাপাশি নেইমারের জীবন যাপন পদ্ধতিও অত্যন্ত বিলাসবহুল। তার কালেকশনে রয়েছে এমন কিছু গাড়ি, যেগুলো অনেক ধনীর পক্ষেও কেনা সম্ভব নয়।
নেইমারের সবচেয়ে দামি গাড়িটি ল্যাম্বরগিনি ভেনেনো। গাড়ির জগতে পৃথিবীর অন্যতম সেরা ব্রান্ড ল্যাম্বরগিনি। তাদের একটি লিমিটেড এডিশনের মডেল হচ্ছে ভেনেনো।
বিরল এই গাড়িটি কেনার জন্য নেইমারের খরচ হয়েছে প্রায় সাড়ে চার মিলিয়ন ডলার। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৫ কোটি টাকার বেশি।
পৃথিবীর অন্যতম দামি এই গাড়িকে বলা হয় চলন্ত পাওয়ার হাউজ। এটির গতি ঘন্টায় ২০০ মাইল থেকেও বেশি।
ল্যাম্বরগিনি ভেনেনো একুশ শতকের অন্যতম সেরা আবিস্কার। দামের মতোই গাড়িটি তার ডিজাইন, ফিচারস এবং বিলাসিতার দিক দিয়েও শীর্ষ স্থানে রয়েছে।
বিলাসবহুল স্পোর্টস কারের জন্য আরেকটি বিখ্যাত কোম্পানি ফেরারি। ইতালিয়ান এই কোম্পানির গাড়িও পছন্দ করেন নেইমার জুনিয়র।
তার কালেকশনে রয়েছে 'ফেরারি ফোর ফিফটি এইট ইতালিয়া' মডেলের স্পোর্টস কার । সাড়ে চার হাজার সিসির এই গাড়িটির মূল্য হয়ে থাকে তিন কোটি টাকা পর্যন্ত।
ফেরারি গাড়ির দিকে ফুটবলারদের আলাদা আগ্রহ লক্ষ করা যায়। মেসুত ওজিল থেকে শুরু করে করিম বেনজেমা পর্যন্ত অনেকেই ব্যবহার করেন এই গাড়ি। ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমারকেও প্রায়ই দেখা যায় লাল ফেরারি গাড়ির ভেতর।
ফোর পয়েন্ট ফাইভ ভি-এইট ইঞ্জিনের এই গাড়ির সর্বোচ্চ গতি ঘন্টায় ২১০ মাইল। শূন্য থেকে ৬২ মাইল গতি তুলতে এটির প্রয়োজন হয় মাত্র সাড়ে তিন সেকেন্ড।
সেলেসাও তারকা নেইমারের কালেকশনে রয়েছে অত্যাধুনিক হাইপারস্পোর্টস সুপারকার। ডব্লিউ মোটরসের তৈরি একটি লিকান হাইপার স্পোর্টস ব্যবহার করেন তিনি।
ল্যাম্বরগিনি ভেনেনোর মতো এই গাড়িটিও একটি লিমিটেড এডিশন হিসাবে তৈরি।
যা বাজারে আসে ডব্লিউ মোটরস কোম্পানির প্রথম হাইপারকার হিসাবে। হলিউডের বিখ্যাত মুভি সিরিজ ফাস্ট এন্ড ফিউরিয়াসে এই গাড়িটি দেখানো হয়েছে ।
অত্যাধুনিক এই গাড়িতে রয়েছে 3.7 টুইন টার্বো ইঞ্জিন। শূন্য থেকে ১০০ কিলোমিটার গতি তুলতে গাড়িটির প্রয়োজন হয় মাত্র তিন সেকেন্ড সময়। বিলাসবহুল এই গাড়ি কিনতে নেইমারের খরচ হয়েছে প্রায় তিন মিলিয়ন ইউরো।
পিএসজি তে খেলা এই তারকার কালেশনে আরো আছে 'অডি আর-এইট স্পাইডার'। কনভার্টিবল ফিচার সমৃদ্ধ এই গাড়ির ছাদ এবং জানালা খুলে ফেলা যায়।
অডি আর-এইট স্পাইডার গাড়ির সর্বোচ্চ গতি ঘন্টায় ৩২৮ কিলোমিটার। শূন্য থেকে ৯৬ কিলোমিটার গতি তুলতে গাড়িটির প্রয়োজন হয় মাত্র সেকেন্ড সময়।
এসব গাড়ি ছাড়াও নেইমারের কালেকশনে আছে পৃথিবীর অন্যতম দুর্লভ একটি গাড়ি। ইতালির বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান মাসেরাতির 'এমসি টুয়েলভ' গাড়ির মালিক নেইমার।
বিরল এই গাড়িটির ডিজাইন নজরকাড়া সুন্দর। এছাড়া গতির দিক দিয়েও গাড়িটি অন্যতম সেরা। ভি টুয়েলভ ইঞ্জিনের এ গাড়িটির সর্বোচ্চ গতি ঘন্টায় ৩৩০ কিলোমিটার।
ব্রাজিলিয়ান এই তারকার কাছে রয়েছে শত কোটি টাকা মুল্যের বিলাসবহুল গাড়ি। তবে তার জন্য এসব গাড়ি কেনা কোন ব্যাপার নয়।
পিএসজি ক্লাবে নেইমারের বার্ষিক বেতন প্রায় ৩ কোটি ১৩ লাখ পাউন্ড। মাত্র কয়েক ঘন্টা খেলার বিনিময়ে এসব গাড়ির মূল্য আয় করে থাকেন তিনি।