ফুটবলারদের নিয়ে সমর্থকদের উন্মাদনার শেষ নেই। তাদের ব্যক্তিগত জীবন থেকে বাৎসরিক আয়- সবকিছু নিয়েই চলে বিস্তর গবেষণা।
ফুটবলার হিসেবে কারা সবচে বেশি বেতন পান কিংবা কার সম্পদের পরিমাণ বেশি, এমন প্রশ্ন ঘুরপাক খায় ফুটবল ভক্তদের মনে।
বর্তমান সময়ে সবচে বেশি আয় করা দশ ফুটবলারের তালিকা প্রকাশ করেছে মার্কিন সাময়িকী ফোর্বস।
মূলত ক্লাব থেকে প্রাপ্ত বেতন এবং এনডোর্সমেন্ট হিসেবে পাওয়া অর্থের উপর ভিত্তি করে এই তালিকা করা হয়েছে।
এ তালিকার শীর্ষে নেই লিওনেল মেসি কিংবা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। মাত্র ২৪ বছর বয়সে গতির ঝড় তুলে তালিকার শীর্ষে আছেন ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে।
পিএসজির শীর্ষ তিন তারকার মধ্যে এমবাপ্পের বেতনই সবচেয়ে বেশি।
পিএসজির চুক্তি শেষে রিয়াল মাদ্রিদে যাওয়ার কথা ছিল এমবাপ্পের, কিন্তু শেষ পর্যন্ত পিএসজির লোভনীয় অফারে রিয়ালে যাওয়ার পরিকল্পনা বাদ দেন তিনি।
এর মধ্য দিয়েই ফুটবলের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া খেলোয়াড়ে পরিনত হয়েছেন এমবাপ্পে। এক মৌসুমে ফরাসি এই স্ট্রাইকার আয় করেন ১২৮ মিলিয়ন ডলার।
এর মধ্যে বেতন হিসেবে আয় করেন ১১০ মিলিয়ন ডলার। এছাড়া বিজ্ঞাপন ও অন্যান্য উৎস থেকে তার আয় হবে আরো ১৮ মিলিয়ন ডলার।
তালিকার ২ নম্বরে আছেন সদ্য বিশ্বকাপ জেতা আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল আন্দ্রেস মেসি। পুরনো ক্লাব বার্সায় থাকা কালীন সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া ফুটবলার ছিলেন তিনি।
তবে সম্প্রতি কিলিয়ান এমবাপ্পের কাছে সেই খেতাব হারিয়ে এখন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া ফুটবলার লিওনেল মেসি।
এক মৌসুমে মেসির আয় ১২০ মিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে অন ফিল্ডে আয় ৬৫ মিলিয়ন ডলার এবং অফ ফিল্ডে মেসির আয় ৫৫ মিলিয়ন ডলার।
ক্যারিয়ারের অন্তিম সময় পার করলেও সর্বোচ্চ আয় করা ফুটবলারদের একজন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।
একসময় মেসির সমমানের বেতন পেলেও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে যোগ দেওয়ার পর বেতনের তালিকায় নিচের দিকে নেমে গেছেন এই পর্তুগিজ ফরওয়ার্ড।
ওল্ড ট্রাফোর্ডে তিনি যে পারিশ্রমিক পেয়েছেন, জুভেন্টাসে পেতেন তার দ্বিগুণেরও বেশি। তবে আয় কমে যাওয়ার পরেও সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত খেলোয়াড়ের তালিকায় আছেন তিনি।
বর্তমানে এক মৌসুমে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর আয় ১০০ মিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে অন ফিল্ডে রোনালদোর আয় ৪০ মিলিয়ন ডলার। এবং অফ ফিল্ডে আয় প্রায় ৬০ মিলিয়ন ডলার।
ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার নেইমার জুনিয়র আছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনলদোর পরেই। পিএসজির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় তিনি।
এক মৌসুমে নেইমারের আয় ৮৭ মিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে অন ফিল্ডের আয় ৫৫ মিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে অফ ফিল্ডে ৩২ মিলিয়ন ডলার আয় করেন নেইমার জুনিয়র।
নেইমারের পরে এই তালিকায় আছেন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব লিভারপুলের তারকা ফুটবলার মোহাম্মদ সালাহ।
দেশ এবং ক্লাবের জন্যে অদ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে নিজের জাত চিনিয়েছেন এই মিশরীয় ফুটবলার। এক মৌসুমে মোহাম্মদ সালাহ এর আয় ৫৩ মিলিয়ন ডলার।
এর মধ্যে অন ফিল্ডের আয় ৩৫ মিলিয়ন। অন্যদিকে অফ ফিল্ডে সালাহ আয় করেন প্রায় ১৮ মিলিয়ন ডলার।
মেসি নেইমারদের উত্তরসূরি হতে আসা আরলিং হ্যালান্ড আছেন এই তালিকার ৬ নম্বরে। বরুসিয়া ডর্টমুন্ড থেকে ম্যানচেস্টার সিটিতে গিয়েই প্রিমিয়ার লিগের সব আলো কেড়ে নেন এই নরওয়েজিয়ান তরুণ।
এক মৌসুমে এই তরুণের আয় প্রায় ৩৯ মিলিয়ন ডলার। অন ফিল্ডে হল্যান্ড আয় করেন ৩৫ মিলিয়ন এবং অফ ফিল্ডে আয় করেন প্রায় ৪ মিলিয়ন ডলার।
বায়ার্ন ছেড়ে বার্সায় আসা রবার্ট লোয়ান্ডিস্কি আছেন এই তালিকার ৭ নম্বরে। এক মৌসুমে এই পোলিশ তারকার আয় ৩৫ মিলিয়ন।
এর মধ্যে অন ফিল্ডের আয় ২৭ মিলিয়ন এবং অফ ফিল্ডের আয় ৮ মিলিয়ন ডলার।
আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে সম্প্রতি অবসরে যাওয়া বেলজিয়াম স্ট্রাইকার ইডেন হ্যাজার্ড আছেন সর্বোচ্চ আয়ের এই তালিকায়।
এক মৌসুমে হ্যাজার্ডের আয় ৩১ মিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে অন ফিল্ডের আয় ২৭ মিলিয়ন ডলার এবং অফ ফিল্ডে আয় ৪ মিলিয়ন ডলার।
বেলজিয়ামের আরেক ফুটবলার কেভিন ডি ব্রুইনা ও আছেন এই তালিকায়।
ম্যানচেস্টার সিটির এই তারকা খেলোয়াড় এর এক মৌসুমে আয় ২৯ মিলিয়ন ডলার।