ক্যারিয়ারের একমাত্র অপূর্ণতা জয় করে সোনালী ট্রফি জিতেছেন লিওনেল মেসি। আর্জেন্টিনার হয়ে খেলা চালিয়ে গেলেও বিশ্বকাপে আর দেখা যাবে না তাকে, এমনটাই জানিয়েছিলেন তিনি ।
মেসির সঙ্গে সঙ্গে ডি মারিয়া ওটামেন্ডীরাও জার্সি তুলে রাখবেন ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে, এটাও এক প্রকার নিশ্চিত।
তাই মেসি ডি মারিয়াদের রিপ্লেসমেন্ট কারা হবেন, কিংবা কেমন হতে পারে ২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার একাদশ, তা নিয়ে চলছে নানা জল্পনা কল্পনা।
এতোদিন আর্জেন্টিনার সবচে বড় ভরসার নাম ছিলেন লিওনেল মেসি। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা-মেক্সিকো তে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৬ বিশ্বকাপে মেসির রিপ্লেসমেন্ট পাওয়া কি আদৌ সম্ভব হবে ?
এক্ষেত্রে মেসির অভাব পূরণ না হলেও মেসির জায়গায় যোগ্য উত্তরসূরি হিসাবে ভাবা হচ্ছে তরুণ তুর্কি হুলিয়ান আলভারেজকে।
সেন্টার ফরোয়ার্ড হিসেবে দুর্দান্ত খেলা আলভারেজ কোচ লিওনেল স্কালোনির আস্থার প্রতিদান দিয়েছিলেন বিশ্বকাপে।
কাতার বিশ্বকাপের পারফরম্যান্স তাকে যেমন এগিয়ে দিয়েছে জাতীয় দলের সুম্মুখে, তেমনি পিছিয়ে দিয়েছে লাওতারো মার্টিনেজের মতো স্ট্রাইকারকে।
এদিকে রাইট উইং একাই সামলেছেন লিওনেল মেসি। বার্সেলোনা , কিংবা পিএসজি সবখানেই এই পজিশনে মেসি ছিলেন অনন্য। এই পজিশনে আর্জেন্টিনার ভবিষ্যৎ ভাবা হচ্ছে তরুণ তুর্কি থিয়াগো আলমাদাকে।
সম্ভাবনাময় এই আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার বা উইঙ্গারেই মেসির অভাব কিছুটা হলেও পূরণ করা সম্ভব হতে পারে, এমনটাই মনে করছেন ফুটবলবোদ্ধারা।
এদিকে ডি মারিয়ার রিপ্লেসমেন্ট হিসেবে ভাবা হচ্ছে ইংলিশ ক্লাব ম্যান ইউর একাডেমিতে বেড়ে ওঠা আলেহান্দ্রো গ্রানাচোকে।
আর্জেন্টাইন কোচ স্কালোনির নজরেও রয়েছেন এই তরুণ। সবকিছু ঠিক থাকলে খুব শীগ্রই জাতীয় দলের জার্সি গায়ে দেখা যেতে পারে তাকে।
এদিকে মাঝমাঠে অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়ে এই বিশ্বকাপেই নিজের জায়গা নিশ্চিত করেছেন এনজো ফার্নান্দেজ।
কাতার বিশ্বকাপের সেরা তরুণ খেলোয়াড় খেতাব জিতে তিনি প্রমাণ করেছেন, লম্বা রেসের ঘোড়া হয়েই এসেছেন ফুটবল মাতাতে।
এদিকে ডি পল কে অর্ধেক সম্ভাবনায় রাখলেও বাকি অর্ধেক সম্ভাবনা থাকবে ম্যাক অ্যালিস্টারের মধ্যে। যদিও ডি পলের বয়স ও ফর্ম বিবেচনায় ম্যাক অ্যালিস্টারকেই এগিয়ে রাখবেন কোচ।
এদের সঙ্গে জিওভান্নি লো সেলসো এবং লিয়ান্দ্রো পারদেস থাকবেন নিঃসন্দেহে।
এদিকে অপ্রীতিকর কোনো ঘটনা না ঘটলে আগামী সাড়ে তিন বছরে আর্জেন্টিনার রক্ষণে খুব একটা পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
তবে বয়সের ভারেই বিদায় নেবেন নিকোলাস ওতামেন্দি, এটা একপ্রকার নিশ্চিত।
এদিকে কাতার বিশ্বকাপে চমকপ্রদ পারফর্ম করে আলোচনায় এসেছেন লিসান্দ্রো মার্টিনেজ। যদিও বিশ্বকাপের আগে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডই আলো ছড়িয়েছেন রক্ষণভাগে।
তাই ক্রিস্টিয়ান রোমেরোর সাথে জুটি গড়বেন লিসান্দ্রো মার্টিনেজ এটিও প্রতীয়মান। অন্যদিকে দুই সেন্টারব্যাকের সাথে ফর্ম ধরে রাখতে পারলে আগামী বিশ্বকাপেও নিশ্চিত থাকবেন রাইটব্যাক নাহোয়েল মলিনা।
তবে লেফট ব্যাক হিসেবে নতুন কাউকে খুঁজতে হবে কোচ লিওনেল স্কলনিকে। বিশ্বকাপে লেফট ব্যকের অভাব কিছুটা হলেও টের পেয়েছিল আর্জেন্টিনা।
আর্জেন্টিনা দলে শাপে বর হয়ে আশা গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজের বিকল্প এখনো হাতে নেই।
তাই আগামী চার বছরেও মার্টিনেজের বিকল্প হয়তো খুঁজতে যাবেন না আর্জেন্টাইন কোচ। ৩০ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক আর্জেন্টিনার মূল শক্তির একটি।
এদিকে মেসির শেষ বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়া আর্জেন্টিনার দলটি ছিল বেশ ভারসাম্যপূর্ণ। দলের সবার মধ্যে সমন্বয় ছিল বোঝাপড়ার।
লিওনেল মেসি, ডি মারিয়া, ওটামেন্ডির মতো অভিজ্ঞদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে গেছেন তরুণ ফুটবলাররা।
তাই মেসি - ডি মারিয়াদের অবসরের পর পারদেস, ডি পল, মার্টিনেজদের সঙ্গে এনজো ফার্নান্দেজ, লিয়ান্দ্রো মার্টিনেজ, নাহুয়েল মলিনার মতো তরুণরাও নতুন সমন্বয় তৈরি করবেন, এমনটাই নিশ্চিত করতে চাইবেন আর্জেন্টিনা কোচ।