ভীষণ ব্যস্ততার মধ্য দিয়ে ২০২২ সাল কেটেছে টাইগাদের। কয়দিন আগেই হোমগ্রাউন্ডে ইন্ডিয়া সিরিজ দিয়ে বছরের সমাপ্তি টেনেছেন তারা।
আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া ক্রিকেট মিলিয়ে বিদায়ী বছরটা মোটামুটি ভালোই কেটেছে বাংলাদেশের। এসেছে বড় কিছু সাফল্য, আবার ব্যর্থতার গল্পও রয়েছে কিছুটা।
অবশ্য দলগত সাফল্যের তুলনায় এবার ব্যক্তিগত অর্জনের পাল্লাটাই ছিলো ভারী। বিশেষ করে লিটন দাস, মেহেদী মিরাজ, তাসকিনের মতো তরুণরা ক্রিকেট বিশ্বে এবার নিজেদের চমক দেখিয়েছেন।
নতুন বছরে বাংলাদেশ দল সবদিক থেকেই সাফল্যের চাদরে মোড়া থাকবে, এমনটাই প্রত্যাশা ক্রিকেটারদের।
গত বছরের মতো ২০২৩ সালেও ব্যস্ত সময় কাটাবেন টাইগাররা। নতুন বছরে আইসিসির ফিউচার ট্যুর প্রোগ্রাম অর্থাৎ এফটিপি-তে রয়েছে বেশ কয়েকটি সিরিজ।
সব মিলিয়ে ২০২৩ সালে ৩৬টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। যার মধ্যে টেস্ট ৫টি, ওয়ানডে ১৮টি এবং টি-টোয়েন্টি ১৩টি।
ওয়ানডে ফরম্যাটে ম্যাচ সংখ্যা ১৮ হলেও এশিয়া কাপ ও ওয়ানডে বিশ্বকাপের কারণে তা আরো বাড়বে।
ওয়ানডে ফরম্যাটে বাংলাদেশ বরাবরই বাকি দুই ফরম্যাটের চেয়ে ভালো ফল করে থাকে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখার পর থেকে ওয়ানডেতেই সবচেয়ে বেশি অর্জন টাইগারদের।
২০২২ সালেও এ ফরম্যাটে টাইগারদের সাফল্যের পাল্লা ছিলো ভারী। দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে সিরিজ জেতার পর এবার ঘরের মাঠে ভারতকে সিরিজ হারিয়েছে তারা।
তাই ওয়ানডে নিয়ে টাইগারদের প্রত্যাশার পারদটাও আকাশচুম্বী। এমনকি ২০২৩ সালের এশিয়া কাপ আর বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নও দেখছে তামিম ইকবালের দল।
আগস্টে শুরু হবে ওয়ানডে ফরম্যাটের এশিয়া কাপ, শেষ হবে সেপ্টেম্বরে। এশিয়া কাপ পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও তা এখনো নিশ্চিত নয়।
অন্যদিকে অক্টোবরে ভারতে বসবে বহুল প্রতীক্ষিত আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপের ত্রয়োদশ আসর। যে আসরে এবার ফেভারিট হিসেবেই অংশ নেবে বাংলাদেশ।
কারণ উপমহাদেশের কন্ডিশনের সাথে বেশ পরিচিত টাইগাররা। তাই সেখানে খেলা মানেই বলে ব্যাটে লড়াইটা জমে উঠা।
এছাড়া পঞ্চপাণ্ডব’-দের অন্যতম চার পাণ্ডব সাকিব, তামিম, মুশফিক ও রিয়াদের সম্ভবত এটা শেষ বিশ্বকাপ।
অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যর মিশেলে তাই ২০২৩ সালে বাংলাদেশের ভালো করার সূবর্ণ সুযোগটা হাতছাড়া করতে চাইবেন না কেউ।।
সে উদ্দেশ্য সম্ভাব্য সেরা দল ও কম্বিনেশন নিয়ে এগোনোর পরিকল্পনাই করেছেন তারা। নিজেদের শেষ বিশ্বকাপ রাঙিয়ে যেতে সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে তাদের।
বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি দলও অনেকটা দাঁড়িয়ে গেছে। রঙ্গিন পোশাকে যে প্রতিপক্ষের চোখে চোখ রেখে লড়াই করতে পারে তা বহুবার প্রমাণ করেছে টাইগাররা।
২০২২ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের গ্রুপ পর্বে জিম্বাবুয়ে ও নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে জয় পায়। ভারতের বিপক্ষে লড়াই করে শেষ মুহূর্তে এসে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠার সুযোগ মিস করে লাল-সবুজ জার্সিধারীরা।
সীমিত ওভারের দুই ফরম্যাটের তুলনায় টেস্টে সেভাবে ভালো অবস্থানে নেই বাংলাদেশ৷ তবে নতুন বছরে সাদা পোশাকেও উল্লেখযোগ্য সাফল্য আশা করছে টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক সাকিব।
তার মতে, ২০২৩ সালে যে কয়টা টেস্ট সিরিজ আছে, সেগুলো টাইগারদের জেতা উচিত।
সব মিলিয়ে তেইশে ভিন্ন কিছু দেখানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি জানান, ২০২২ সালে বাংলাদেশ খুবই ভালো ক্রিকেট খেলেছে। মানসিকতার জায়গায় যে ঘাটতি ছিল, তাও অনেক উন্নতি হয়েছে।
বর্তমানে যে ধরনের চিন্তাধারা, কথাবার্তা, লিডারশিপ দলে রয়েছে, তাতে ২০২৩ সালে ভিন্ন কিছু দেখা যাবে বলে আশাবাদী তিনি।
শুধু ক্রিকেটারই নন, ক্রিকেটভক্তদেরও প্রত্যাশ্যা রয়েছে নতুন বছরকে ঘিরে। ক্রিকেট বিশ্বে টাইগারদের ভাবমূর্তি আরো উজ্জ্বল হবে এমন প্রত্যাশা দেশের কোটি ক্রিকেটপ্রেমীরও।