মাত্র চব্বিশ বছর বয়সেই জীবনের দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করেন বাংলাদেশ দলের তারকা ব্যাটসম্যান লিটন দাস।
২০১৯ সালের জুলাইয়ে দেবশ্রী বিশ্বাস সঞ্চিতার সঙ্গে সাত পাকে বাঁধা পড়েন তিনি। দেবশ্রী তখন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর করছিলেন।
পরিবারের পছন্দেই তাদের পরিণয়। তবে দাম্পত্য জীবন শুরুর পর দুজনের রসায়নটা যেমন জমে উঠে, তেমনি ইতিবাচক প্রভাব পড়ে মাঠে লিটনের পারফরম্যান্সেও।
বর্তমানে টেস্ট, ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টি- তিন ফরম্যাটের সিরিজেই লিটন যেন বাংলাদেশের আস্থার প্রতিমূর্তি হয়ে উঠেছেন।
অথচ একসময় রান খরার কারণে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রলের শিকার হতে হয়েছিলো তাকে। এমনকি ওই সময় ‘ডিসকাউন্ট বয়’ নামেও পরিচিতি পান তিনি।
তবে সেই দুঃসময় কাটিয়ে এখন মাঠের পারফরম্যান্স দিয়ে সমালোচকদের মুখ বন্ধ করেছেন। লিটন যেদিন খেলেন, মুগ্ধ চোখে দেখতে হয় তাঁর ব্যাটিং।
ব্যাটিংয়ে এমন ধারাবাহিকতার পেছনে টেকনিকের পরিবর্তন তো আছেই, তবে এর পাশাপাশি আছে মনস্তাত্ত্বিক বিষয়ও।
মানসিকভাবে লিটনকে বদলে দিয়েছে আসলে বিয়ে। দেবশ্রী বিশ্বাস সঞ্চিতাকে জীবন সঙ্গী করার পরপরই যেন তার ব্যাটের ভাষা বদলে গেছে।
এক বিয়েই তাকে মাঠে ও মাঠের বাইরে বদলে দিয়েছে, আরও পরিণত করেছে। দাম্পত্য জীবন যে মানসিকভাবে তাঁকে স্থিতিশীলতা দিয়েছে তা নিজেই স্বীকার করেন লিটন।
এমনকি কম বয়সে বিয়ে করতে পেরে নিজেকে খুব ভাগ্যবান মনে করেন তিনি। তার মতে, বিয়ে জিনিসটা পরিপক্কতার লেভেল বাড়িয়ে দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে লিটনের অভিষেক হয় সাত বছর আগে। বাংলাদেশ জাতীয় দলের এ উইকেট-কিপার ব্যাটসম্যানের প্রতিভা নিয়ে প্রশ্ন তোলেনি কেউই।
কিন্তু তার সমস্যা ছিলো কেবল একটাই। ব্যাট হাতে ধারাবাহিক ছিলেন না। সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিলো তিনি ইনিংস বড় করতে পারতেন না।
তবে সেসব এখন কেবলই অতীত। বিয়ের পর থেকে মাঠে যে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স শুরু হয়েছিলো, ধীরে ধীরে তা আরো বেড়েই চলেছে।
বর্তমানে তাকে এই জেনারেশনের একজন অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান ধরা হয়। আগের মতো বল পেলেই শট করার চেষ্টা করেন না। পরিণত লিটন এখন বুঝতে পারেন সব ধরনের শট খেলা যাবে না, বেছে খেলতে হবে।
নির্বাচক থেকে গণমাধ্যম, ক্রিকেটবোদ্ধা থেকে সোশ্যাল মিডিয়া-সবার প্রশংসায় সিক্ত হচ্ছেন জাতীয় দলের এ তারকা ব্যাটার।
টি-টোয়েন্টিতে সময়ের সেরা ব্যাটার পাকিস্তানের বাবর আজম ও মোহাম্মদ রিজওয়ানের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রান করছেন।
ইতোমধ্যে এমন সব পারফরম্যান্সের সুফলও পেয়েছেন তিনি। বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা ব্যাটার হিসেবে নিজেকে এগিয়ে নিচ্ছেন অনন্য উচ্চতায়।
তার কেরিয়ারের সেরা মৌসুম হিসাবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে ২০২২ সাল। কারণ, এবছরেই ক্রিকেট বিশ্বে নিজের অবস্থান পাকা করে নিয়েছেন তিনি।
২০২২ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সব ধরনের ফর্ম্যাট মিলিয়ে বাবর আজমের পরেই তার অবস্থান। ১৯২১ রান করে দ্বিতীয় স্থানে লিটন।
এছাড়া টেস্ট ব্যাটসম্যানদের র্যাঙ্কিংয়ের তার অবস্থান ১২ নম্বরে। বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে এটিই কোনো ব্যাটসম্যানের সর্বোচ্চ র্যাঙ্কিং।
এর মধ্য দিয়ে বিরাট কোহলি, জনি বেয়ারস্টোরের মতো তারকা ব্যাটারদের পেছনে ফেলেছেন এল কে ডি।
অধিনায়ক হিসেবেও সফলতা পেয়েছেন লিটন। ভারতের বিরুদ্ধে তাঁর নেতৃত্বেই ওয়ান ডে সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ।
এছাড়া বাংলাদেশের এই উইকেটরক্ষক ব্যাটার দেশের সপ্তম ক্রিকেটার হিসেবে এবার আইপিএলেও সুযোগ পেয়েছেন। নিজের প্রথম আইপিএল খেলবেন কলকাতার হয়ে।