বাংলাদেশ ক্রিকেটে শেষ হয়েছে আলোচিত-সমালোচিত রাসেল ডমিঙ্গো অধ্যায়। দলের হেড কোচের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন এই প্রোটিয়া।
ক্যালেন্ডারের পাতায় ৩ বছর চার মাস। সফলতা ব্যর্থতার হিসেব নিকেশ ছাপিয়েও ভিন্নভাবে বরাবরই আলোচনায় ছিলেন ডমিঙ্গো।
খেলোয়াড়দের সাথে সুসম্পর্ক বজায় না রাখা, ভুল সিদ্ধান্ত থেকে শুরু করে খেলোয়াড় নির্বাচন নিয়েও তাকে নিয়ে সমালোচনার কমতি ছিলো না।
তবে, সেসব সমালোচনা নিয়ে কখনোই তিনি মাথা ঘামাননি। সংবাদমাধ্যমেও বলেছিলেন, সমালোচনা কিংবা আলোচনার কিছুই তিনি দেখেন না। নিজের মতোই নিজের দায়িত্বটা পালন করে গেছেন এই কোচ।
২০১৯ সালের আগস্টে বাংলাদেশের দলের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেন রাসেল ডমিঙ্গো। টি২০ বিশ্বকাপে ব্যর্থতার সাথে দলের মাঝে কড়া হেডমাস্টার হতে না পারার সমালোচনাও আছে তাকে নিয়ে।
তার অধীনে ২২ টেস্টের ১৭টিতেই হেরেছে টাইগাররা। তবে, এর মাঝেও আছে বেশ কিছু প্রাপ্তি। মাউন্ট মঙ্গানুইতে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে ইতিহাস গড়ে বাংলাদেশ। টেস্টে তার অধীনে ৩ জয়ের পাশাপাশি আছে ২ ড্র।
সাদা পোশাকে সাদামাটা হলেও রঙিন পোশাকে ডমিঙ্গোর সাফল্য ছিল রঙিন। ৫৯ টি-টোয়েন্টির মাঝে ২৩টিতে তার অধীনে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ।
এছাড়া হার দেখেছে ৩৫ ম্যাচে। সবচেয়ে বড় সাফল্যের মাঝে আছে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাটিতে সিরিজ জয়।
ওয়ানডেতে সফলতার হার সবচেয়ে বেশি। তার অধীনে ৩০ ওয়ানডের ২১টিতেই জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। এর মাঝে মার্চে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে সিরিজ জয় ছিল অন্যতম।
এরপর ঘরের মাটিতে শেষটাও ছিল রঙিন। বিদায়ের আগে ভারতের বিপক্ষে ঘরের মাঠে সিরিজ জিতিয়েছেন দলকে।
ভারতের বিপক্ষে সিরিজ শেষেই দেশে ফিরে যান তিনি। এরপর সংবাদমাধ্যমের সামনে দল বদলের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন।
ইশারার তীরটা ছিল কোচিং প্যানেলেই। যদিও ডমিঙ্গোর প্রশংসা করে তিনি বলেছিলেন, তার অধীনে পরিসংখ্যানের বিচারে বাংলাদেশ দল বেশ সফল।
বিসিবির বসের এমন কথার একদিন পরেই মেইল দিয়ে অফিসিয়ালি স্বেচ্ছায় পদত্যাগের সিদ্ধান্ত জানান রাসেল ডমিঙ্গো। বিসিবির অপারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস গণমাধ্যমকে এ ব্যাপারে নিশ্চিত করেন।
আর এর মধ্য দিয়েই শেষ হলো ডমিঙ্গোর প্রায় সাড়ে ৩ বছরের বাংলাদেশ ভ্রমণ। আপাতত হেড কোচের পদটা খালি। সেই শূন্যস্থানে কোন নাম বসবে তা নিয়েও ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে আলোচনা ..
তবে, গুঞ্জন আছে হেড কোচ হবার দৌড়ে এগিয়ে আছেন চন্ডিকা হাথুরুসিংহে। সাবেক এই টাইগার কোচকেই আবারো নিয়োগ দেওয়ার কথা ভাবছে বিসিবি।
তবে, এই তালিকায় আরো আছেন সাবেক দক্ষিণ আফ্রিকান তারকা ল্যান্স ক্লুজনার ও সাবেক অজি কিংবদন্তি মাইক হাসি।
গুঞ্জন আছে হাথুরুর (Chandika Hathurusingha )সাথেই চুক্তি করতে আগ্রহী বিসিবি। বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের বেশ ভালোভাবেই চেনেন তিনি। শক্তিমত্তা, দূর্বলতাগুলোও তার জানা।
তার ক্রিকেট মেধা, কোচিং স্টাইলও বিসিবির জানা। তাই ব্যাটে বলে মিলে গেলে হাথুরুসিংহেকেই হয়তো দেখা যেতে পারে বাংলাদেশের পরবর্তী হেড কোচের ভূমিকায়!
অনেকের মত পেস বোলিং কোচ অ্যালান ডোনাল্ডকে হেড কোচের দায়িত্বে আনা হোক।
টি-টোয়েন্টির জন্য আলাদা ও টেস্ট-ওয়ানডের জন্য আলাদা কোচ নিয়োগ দিতে চায় বাংলাদেশ ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থাটি।
আর সবকিছু ঠিক থাকলে দলের টি টোয়েন্টি পরামর্শক হিসেবে শ্রীধরন শ্রীরামই দায়িত্ব পাচ্ছেন শর্টার ফরম্যাটের কোচের।
ডমিঙ্গোর বিদায়ের পর আর কোন বাধা থাকলো না টি টোয়েন্টিতে আনুষ্ঠানিক ভাবে এই ভারতীয় কোচের দায়িত্ব নেয়ার।
মার্চে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজেই হেড কোচ হিসেবে টি টোয়েন্টি সিরিজে টাইগারদের ডাগ আউটে দেখা যেতে পারে শ্রীধরণ শ্রীরামকে।