বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ বিপিএলের নবম আসর শুরু হতে যাচ্ছে ২০২৩ সালের ৬ ই জানুয়ারি। এরই মধ্যে ক্রিকেটারদের সরাসরি চুক্তির মাধ্যমে দলে টেনেছে অংশ নেওয়া দলগুলো।
ঢাকা ডমিনেটর্স এবার বিপিএলের নতুন ফ্রাঞ্চ্যাইজি। রাজধানীর নামের এই দলটিতে অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের ভিড়।
দেশি ও বিদেশি উভয় কোটাতেই অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের দলে নিয়েছে ঢাকা ডমিনেটর্স। দেশি ক্রিকেটারদের মধ্যে দলের সবচেয়ে বড় তারকা তাসকিন আহমেদ। তাসকিনকে সরাসরি চুক্তিতে দলে নিয়েছিল ঢাকা ডমিনেটর্স।
দেশি ক্রিকেটারদের মধ্যে ঢাকা ডমিনেটর্সের দলে আছেন মোহাম্মদ মিঠুন, সৌম্য সরকার, নাসির হোসেন, শরিফুল ইসলাম, আরাফাত সানি, আল আমিন হোসেন, অলক কাপালি, মনির হোসেন খান, আরিফুল হক, মুক্তার আলী, মিজানুর রহমান ও দেলোয়ার হোসেন।
ঢাকার বিদেশি ক্রিকেটাররা হলেন- শান মাসুদ, আহমেদ শেহজাদ, দিলশান মুনাবীরা, উসমান ঘানি, সালমান ইরশাদ, ও চামিকা করুনারত্নে।
ঢাকার ব্যাটিংয়ে নেতৃত্ব দিবেন মিঠুন, সৌম্য, শান মাসুদ, আহমেদ শেহজাদ, উসমান, ও দিলশানরা। সৌম্য সরকার ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেন না।
তবে ঘরোয়া ক্রিকেটে বরাবরই ভালো পারফর্ম করেন মিঠুন, কিন্তু তার স্ট্রাইকরেট হতে পারে ঢাকার মাথাব্যথার কারণ।
তবে ঢাকার ব্যাটিং লাইনআপে শক্তি বৃদ্ধি করতে পারেন শান মাসুদ। বিশ্বকাপেও দারুণ ব্যাটিং করেছিলেন তিনি। ফলে টপ অর্ডারে শান মাসুদের দিকে তাকিয়ে থাকবে ঢাকা।
পাকিস্তানের আহমেদ শেহজাদ নিজের প্রাইম টাইমে বিপিএলে দুর্দান্ত সব ইনিংস খেলেছেন। হাঁকিয়েছেন সেঞ্চুরিও। বিপিএলে তার পরিসংখ্যান বেশ সমৃদ্ধ।
শেহজাদ জ্বলে উঠলে ঢাকাকে থামানো কঠিন হবে। শেহজাদ, সৌম্য, মাসুদরা ব্যর্থ হলেও মিডল অর্ডারে ভরসা করার মতো আছেন নাসির হোসেন। নাসির ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি অফ স্পিনেও ঢাকাকে ভালো কিছু এনে দেওয়ার সক্ষমতা রাখেন।
পেস বোলিং বিভাগে তাসকিনের আহমেদের সঙ্গী হবেন আল আমিন হোসেন, শরিফুল ইসলাম, দেলোয়ার হোসেন, চামিকা করুনারত্নে কিংবা সালমান ইরশাদ।
বর্তমানে বাংলাদেশের সেরা পেসার তাসকিন আহমেদ। এছাড়া মিডিয়াম ফাস্ট বোলিং অলরাউন্ডার হিসেবে আছেন আরিফুল হক, মুক্তার আলি ও সৌম্য সরকার। সৌম্য করতে পারেন কার্যকরী বোলিং।
স্পিনারদের মধ্যে ঢাকার সবচেয়ে বড় নাম আরাফাত সানি। একসময় জাতীয় দলের নিয়মিত মুখ ছিলেন তিনি। তবে কয়েক বছর ধরেই জাতীয় দলে থেকে বহুদূরে আছেন।
সানির বাঁহাতি স্পিন জাদুতে কাবু হতে পারে যেকোনো দল। ফলে মিরপুরের উইকেটে ঢাকার বড় ভরসা হবেন সানি।
তবে ঢাকার দুর্বলতার জায়গা হতে পারে লোয়ার অর্ডার। কারণ মুক্তার আলি, আরিফুল হকদের মতো ক্রিকেটারদের বড় শট খেলার ক্ষমতা থাকলেও তারা কেউ ধারাবাহিক নন।
এদিকে আবার বিদেশি ক্রিকেটার চামিকা করুনারত্নেকে ভরসা করা যেতে পারে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও বেশ কয়েকটি ম্যাচেই লোয়ার অর্ডারে ঝড় তুলেছেন তিনি।
সবমিলিয়ে বলা যায় ব্যাটিংয়ে ঢাকার শক্তি ও ভরসা কেবল টপ অর্ডার৷ টপ অর্ডার ব্যর্থ হলে বড় সমস্যায় পড়তে পারে দলটি।
অপরদিকে, বোলিংয়ে সবার দৃষ্টি থাকবে তাসকিন-শরিফুল পেস জুটির দিকেই। আর আরাফাত সানি হতে পারেন মিরপুরের উইকেটে ট্রাম্পকার্ড।
৬ জানুয়ারি শুরু হওয়া বিপিএলের ম্যাচগুলো সরাসরি সম্প্রচার করবে টি স্পোর্টস , গাজী টিভি ও মাছরাঙা টেলিভিশন।
ভারতে বিপিএল দেখা যাবে ফ্যানকোডে, অন্যদিকে পাকিস্তানে দেখা যাবে জিও টিভিতে। ক্যারিবিয়ানে সম্প্রচার করবে ফ্লো স্পোর্টস এবং যুক্তরাষ্ট্রে দেখা যাবে বিটি স্পোর্টসে।
প্রায় এক দশক ধরে চলা বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের গুণগত মান ক্রমাগত নিম্নমুখী হওয়ায় বাংলাদেশী ক্রিকেট সমর্থকদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা হারাচ্ছে লিগটি।
পাশাপাশি বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতার বিচারেও মুখ থুবড়ে পড়ছে বাংলাদেশ ক্রিকেটের সবচে বড় ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগটি। ব্যর্থতার কারণ হিসেবে নানান রকম অব্যবস্থাপনা আর অনিয়মকেই দায়ী করছেন সচেতন মহল।
বিপিএলের এই মুখ থুবড়ে পড়ার কথা অজানা নয় বিসিবি কর্তাদের ও। তাই নতুন করে বিপিএলের জৌলুস ফেরাতে নানান পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছিল বিসিবি। তবে সেটি কতখানি ফলপ্রসূ হবে তা সময়ই বলে দেবে।