বিপিএলে শক্তিশালী দল গড়েছে রংপুর রাইডার্স। তবে প্লেয়ার্স ড্রাফটে খুব বেশি খরচ করেনি দলটি।
রংপুর রাইডার্সের সবচেয়ে বড় শক্তি হতে পারেন বিদেশি তারকারা। ড্রাফটের বাইরে থেকে বড় বড় নাম দলে ভিড়িয়েছে এই ফ্রাঞ্চ্যাইজি।
ড্রাফটের আগে যেমন তারকাদের দলে ভিড়িয়ে চমক দিয়েছিল রংপুর, ড্রাফটের পরেও বিদেশি ক্রিকেটারদের দলে ভিড়িয়ে স্কোয়াডের শক্তি বৃদ্ধি করেছে তারা।
ডিরেক্ট সাইনিংয়ে নুরুল হাসান সোহানকে দলে নিয়েছিল রংপুর রাইডার্স। রংপুরের অধিনায়ক হিসেবে দেখা যেতে পারে এই উইকেটরক্ষক ব্যাটারকে।
বিদেশি ক্রিকেটারদের মধ্যে ড্রাফটের আগেই তারা দলে ভিড়িয়েছিল সিকান্দার রাজা, মোহাম্মদ নওয়াজ, হারিস রউফ, শোয়েব মালিক ও পাথুম নিসাঙ্কাকে। ড্রাফটের পরে রংপুরে নাম লিখিয়েছেন বেনি হাওয়েল, মুজিব উর রহমান ও মহিশ থিকশানা।
রংপুরের বড় শক্তি হলেন বিদেশি অলরাউন্ডাররা। ব্যাটিংয়ে রংপুরের শক্তি হতে পারেন দুই বিদেশি ক্রিকেটার শোয়েব মালিক ও সিকান্দার রাজা।
অভিজ্ঞতায় ভরপুর শোয়েব মালিক জ্বলে উঠলে তাকে থামানো কঠিন। সাথে আছেন সিকান্দার রাজা। ২০২২ সালে অস্ট্রেলিয়ার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দুর্দান্ত খেলেছিলেন সিকান্দার রাজা।
বিপিএলে নতুন নন তিনি। প্রায় প্রতি আসরেই তিনি বিপিএলে খেলেন। বাংলাদেশের কন্ডিশন রাজার অনেকটা পরিচিত। এসব উইকেটে রাজা হতে পারেন ট্রাম্পকার্ড।
রংপুরের আরেক তারকা মোহাম্মদ নওয়াজ। সম্প্রতি তিনি ব্যাটে-বলে দুর্দান্ত পারফর্ম করেছেন। বেশ কয়েকটি ম্যাচে পাগলাটে ব্যাটিং করে ম্যাচ ঘুরিয়ে দিয়েছেন নওয়াজ।
ড্রাফটের পর আরেক বিদেশি অলরাউন্ডার বেনি হাওয়েলকে দলে নিয়েছে রংপুর। গত আসরে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের পক্ষে দুর্দান্ত খেলেছিলেন হাওয়েল। এবার মাঠ মাতাবেন রংপুরের পক্ষে।
রংপুরের আরেক পাকিস্তানি ক্রিকেটার হলেন হারিস রউফ। পাকিস্তান দলের অন্যতম সেরা পেসার তিনি। হারিসকে ছাড়া যেন এখন পাকিস্তান দল কল্পনায় করা যায় না। তার পেস তোপে পুড়তে পারে বিপিএলের দলগুলো।
এছাড়া রংপুরে বিদেশি ক্রিকেটারদের মধ্যে আছেন শ্রীলঙ্কার মহিশ থিকশানা, পাথুম নিসাঙ্কা, আফগানিস্তানের আজমতউল্লাহ ওমরজাই ও মুজিব উর রহমান।
গত আসরেও দারুণ খেলেছিলেন মুজিব। স্পিনে একদিকে মুজিব ও আরেক দিকে শেখ মেহেদী নাস্তানাবুদ করতে পারেন প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের। ফলে পেস বোলিং ও স্পিন বোলিং দুই দিকেই শক্তিশালী রংপুর।
রংপুরের স্কোয়াডে তাকালে দেখা যায় টপ অর্ডারে নেতৃত্ব দিবেন নাঈম, ইমন, নিসাঙ্কা, রনি ও অ্যারন জোন্স।
মিডল অর্ডারে দেখা যাবে মালিক, রাজা, নওয়াজ, সোহান, শামীমদেরকে। শেখ মেহেদী হতে পারেন বাজির ঘোড়া। ওপেনিং থেকে শুরু থেকে লোয়ার অর্ডার- যেকোনো পজিশনেই খেলতে পারবেন এই অলরাউন্ডার।
সবমিলিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ দল গড়েছে রাইডাররা। দেশি ও বিদেশি তারকা জ্বলে উঠতে পারলেই রংপুর বাজিমাত করতে পারে বিপিএলে। এখন অপেক্ষা মাঠের লড়াইয়ে তা প্রমাণ করতে পারে কিনা একবারের চ্যাম্পিয়নরা।
রংপুর রাইডার্স বিপিএলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ২০১৭ সালের আসরে। সেবারো রংপুরে জমেছিল তারার মেলা। বিশ্বের বাঘা বাঘা ক্রিকেটাররা খেলেছিলেন দলটিতে।
নেতৃত্বে ছিলেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। তার অধীনে খেলেছিলেন লাসিথ মালিঙ্গা, ক্রিস গেইল, ব্রেন্ডন ম্যাককালামের মতো বিশ্ব কাঁপানো ক্রিকেটারর। টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ও ছিলেন রংপুরের ওপেনার ক্রিস গেইল।