বান্ধবীকে নিয়ে বিপাকে পড়েছেন বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টাইন তারকা জুলিয়ান আলভারেজ। যেখানে বান্ধবীকে নিয়ে বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দে মেতে থাকার কথা, সেখানে উল্টো এখন তার সাথে সম্পর্ক শেষ করার দাবী উঠছে।
জুলিয়ানের বান্ধবীর নাম মারিয়া এমিলিয়া ফেরারো। তবে আলভারেজ ভক্তদের কাছে তার পরিচিতি "ম্যারি জেন" নামে।
সম্প্রতি আলভারেজ আর মারিয়ার একটি ভিডিও প্রকাশিত হয়। যেখানে দেখা যায়, একদল শিশু আলভারেজের কাছে অটোগ্রাফের আবদার নিয়ে আসে।
কিন্তু অটোগ্রাফ দেওয়ার বদলে এমিলিয়া তাদেরকে কেবল দলগত ছবি তোলার সুযোগ দিয়েছিলেন। আর তাতেই চটে যান অ্যালভারেজ ভক্তরা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একজোট হয়ে প্রেমিকা ছাড়ার জন্য চাপও দিচ্ছেন তারা। এমনকি এমিলিয়ার সঙ্গে আলভারেজের বিচ্ছেদ দাবি করে তাঁর ভক্তরা একটি পিটিশনও করেছেন।
বিশ্বকাপ জয়ের পর বেশ খোশ মেজাজেই ছিলেন অ্যালভারেজ। ছুটি কাটাচ্ছিলেন পরিবারের সঙ্গে। উইন্টার ব্রেক শেষ করেই ইংল্যান্ডে ফিরে এসে ম্যান সিটিতে যোগ দেবার কথা ছিলো তার।
কিন্তু এর মাঝেই এমন অদ্ভুত বিড়ম্বনার মধ্যে পড়তে হলো তাকে। অ্যালভারেজ নিজে অবশ্য ভক্তদের এ অনৈতিক দাবীতে খুব একটা কান দিচ্ছেন না।
স্কুলজীবন থেকেই জুলিয়ানের সাথে এমিলিয়ার বন্ধুত্ব। তখন থেকেই পরষ্পরের সুখ-দুঃখের অংশীদার তারা। তাদের স্কুলজীবনের সে বন্ধুত্ব বড় হতে হতে প্রেমে রূপ নেয়।
তবে বহুবছর ধরে তাদের সে প্রেম চলছিলো আড়ালে। ২০২২ সালের জানুয়ারিতে আলভারেজ ম্যান সিটিতে সই করার পর প্রথম এই প্রেমের কথা প্রকাশ্যে আনেন তারা।
আলভারেজের মতো মারিয়া এমিলিয়াও একজন ক্রীড়াপ্রেমী। প্রেমিকের খেলা খুব উপভোগ করেন তিনি। তাছাড়া তিনি নিজেও কর্ডোবার অ্যাথলেটিক ক্লাবের সদস্য।
পাশাপাশি আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকারের বান্ধবী একজন শারীর শিক্ষার শিক্ষিকা। চোখ ধাঁধানো ফিটনেসের অধিকারী তিনি। অন্যদেরও এভাবেই ফিট রাখতে চান, তা নিয়ে প্রায়ই অনেক উপদেশ দিয়ে থাকেন।
কাতার বিশ্বকাপের প্রায় প্রতি ম্যাচেই গ্যালারিতে বসে নিজের প্রিয় মানুষটি সমর্থন দিয়েছেন এমিলিয়া। অ্যালভারেজও তরুণ ফুটবলার হিসেবে বেশ ভালোভাবেই দর্শকদের নজর কেড়েছেন।
যদিও বিশ্বকাপে শুরুর দিকে একাদশে তার নাম ছিলো না। তবে লাওতারো মার্তিনেজের ছন্দহীনতার কারণে সুযোগ দেওয়া হয় তাকে।
আর সুযোগ পেয়েই তা দারুণভাবে কাজে লাগিয়েছেন আলভারেজ। টুর্নামেন্টে চার গোল করে স্কালোনির আস্থার প্রকৃত মর্যাদা রেখেছেন তিনি।
ছোটবেলা থেকেই ফুটবলের প্রতি ঝোঁক তার। মাত্র ১৩ বছর বয়সেই স্প্যানিশ ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ থেকে ট্রায়ালের ডাক আসে।
জুলিয়ানের প্রতিভা মুগ্ধ করে মাদ্রিদ কর্তাদের। কিন্তু ছোট্ট জুলিয়ানকে সই করানোর ক্ষেত্রে আইনি সমস্যায় পড়ে ক্লাব।
সুযোগটা মিস করলেও হাল ছাড়েননি অ্যালভারেজ। দিনরাত এক করে পরিশ্রম করে গেছেন। আর এখন তার সুফল পাচ্ছেন।
ছোটবেলায় এত বেশি সময় ধরে বল পায়ে রাখতেন যেন দুই পা নয়, মাকড়সার মতো আট পা দিয়ে খেলছেন আলভারেজ। যে কারণে রিভারপ্লেটের বয়সভিত্তিক দলে থাকতেই তাই তাঁর নাম হয়ে যায় মাকড়সা।
এখনো আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম, ক্লাব ফুটবল কিংবা দেশের হয়ে খেলা সতীর্থরা মাঝেমাঝেই এই ডাকনামে ডেকে থাকেন তাঁকে।
২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে, জন্মদিনে ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টার সিটি ক্লাবে চুক্তি স্বাক্ষর করেন আলভারেস। তাকে উচ্চমূল্যে দলে ভিড়িয়েছিল ম্যানচেস্টার সিটি।
কেন তাকে পেপ গার্দিওলা দলে টেনেছেন তার প্রতিফলন দেখা গেছে কাতার বিশ্বকাপে। আর্জেন্টিনার বিশ্বজয়ে তাঁর অবদান অস্বীকার করার উপায় নেই।