২০২২ সালের বর্ষসেরা ওয়ানডে ক্রিকেট dole জায়গা পেয়েছেন বাংলাদেশী অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ। একমাত্র বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে ১১ জনের এই দলে জায়গা পেয়েছেন তিনি।
বছরজুড়ে বল হাতে বরাবরই দলের বড় এক ভরসার নাম ছিলেন tini ,পাশপাশি ব্যাট হাতেও চমক দেখিয়েছেন বাংলাদেশি এই অলরাউন্ডার। আফগানিস্তান ও ভারতের বিপক্ষে সিরিজজয়ী ব্যাটিং করে এই তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন মিরাজ।
ইসপিএনক্রিকইনফোর এই বর্ষসেরা ওয়ানডে একাদশের অধিনায়ক হলেন পাকিস্তানের বাবর আজম।
বাবর আজমের জন্য ব্যাট হাতে এই বছরটাও ছিল দারুণ। ২০২২ সালে বাবর ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছে নয়টি। রান করেছেন ৬৭৯। বাবরের ব্যাটিং গড় ছিল ৮৪.৮৭।
অধিনায়ক হিসেবেও তার সময়টা ভালো গেছে। এ বছর পাকিস্তান খেলেছিল তিনটি ওয়ানডে সিরিজ এবং তিনটি সিরিজই তারা জিতেছে।
এই একাদশের ওপেনিংয়ে আছেন অস্ট্রেলিয়ার ট্রেভিস হেড ও ভারতের শুবমান গিল। হেড ৫৫০ রান ও গিল করেছেন ৬৩৮ রান। তিনে আছেন বাবর আজম।
চারে আছেন ভারতের শ্রেয়াস আইয়ার। তার ব্যাট থেকে এ বছর এসেছে ৭২৪ রান। ব্যাটিং লাইনআপে পাঁচে ও উইকেটরক্ষক হিসেবে আছেন নিউজিল্যান্ডের টম ল্যাথাম।
ল্যাথাম ব্যাট হাতে ৫৫৮ রান এবং গ্লাভস হাতে ১৩টি ক্যাচ ও ৩টি স্টাম্পিং করেছেন। তারপর আছেন দুই অলরাউন্ডার সিকান্দার রাজা ও মেহেদী হাসান মিরাজ।
রাজা এবার ১৫ ম্যাচে ব্যাট হাতে করেছেন ৬৪৫ রান ও বল হাতে নিয়েছেন আটটি উইকেট। রাজার ব্যাটিং গড় প্রায় ৫০ ছুঁইছুঁই।
বোলার হিসেবে আছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের আলজারি জোসেফ, ভারতের মোহাম্মদ সিরাজ, অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডাম জাম্পা ও নিউজিল্যান্ডের ট্রেন্ট বোল্ট। জোসেফ ২৭, সিরাজ ২৪, জাম্পা ৩০ ও বোল্ট ১৮টি উইকেট শিকার করেছেন।
২০১৬ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় মিরাজের। প্রায় সাত বছর ধরে জাতীয় দলে খেলছেন। একাদশে মোটামুটি নিয়মিতই তিনি।
তবে বল হাতে কারিশ্মা দেখিয়েই দলে টিকে ছিলেন মিরাজ। ব্যাট হাতে মিলছিল না সময় সুযোগ। তবে ২০২২ সালের প্রথম থেকেই ব্যাট হাতে নিজেকে প্রমাণ করে আসছেন এই বাংলাদেশি অলরাউন্ডার।
আফগানিস্তানের বিপক্ষে খাদের কিনারা থেকে ম্যাচ জেতানো কিংবা ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জেতানো, মিরাজের ব্যাট চওড়া ছিল প্রতিটি বিপদের মুহূর্তেই।
আফগানিস্তানের বিপক্ষে দল যখন বিপদে ছিল, তখন আফিফ হোসেন ধ্রুবর সাথে জুটি বেঁধে জয় এনে দিতে রেখেছিলেন বড় ভূমিকা।
প্রথম ম্যাচে ওই জয়ের ফলেই সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতেছিল বাংলাদেশ। বছরের শেষে এসে ভারতের বিপক্ষেও চওড়া হয় মিরাজের ব্যাট।
নয়টি উইকেট হারিয়ে যখন বাংলাদেশ চোখe সর্ষে ফুল দেখছিল, তখন ত্রাতা হয়ে এসে মিরাজ মনে করিয়ে দেন ব্যাট হাতে তার কী সামর্থ্য আছে।
দশম উইকেটে মুস্তাফিজুর রহমানকে নিয়ে গড়েন ৫১ রানের জুটি। সেই জুটির সুবাদে অবিশ্বাস্য এক জয় পায় বাংলাদেশ।
ভারতের বিপক্ষে সিরিজে দ্বিতীয় ম্যাচেও ব্যর্থ হয় বাংলাদেশের টপ অর্ডার। আবারো ত্রাতা হয়ে আসেন সেই মিরাজ। এবার মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের সাথে গড়েন জুটি।
ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম শতকটিও হাঁকান সেই ম্যাচে। শতক হাঁকিয়ে বাংলাদেশকে সিরিজ জয় এনে দেন মিরাজ। তার আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে বল হাতে জ্বলে উঠে দলকে জিতিয়েছিলেন ম্যাচ। বছর জুড়েই বল হাতে দারুণ ছন্দে ছিলেন এই অফস্পিনার।
এ বছর ব্যাট হাতে মোট ৩৩০ রান করেছেন মিরাজ। ব্যাটিং গড় ৬৬। বল হাতে নিয়েছেন ২৪টি উইকেট, গড় ছিলো ২৮.২০।