গুঞ্জনটা অবশেষে সত্যি হলো। দীর্ঘ দুই দশক ইউরোপ দাপিয়ে বেড়ানো ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো শেষ বেলায় পাড়ি জমিয়েছেন সৌদি ক্লাব আল নাসেরে।
বছরের শেষ দিনে এক টুইট বার্তায় সময়ের অন্যতম সেরা এই খেলোয়াড়কে দলে ভেড়ানোর অফিসিয়াল এনাউন্সমেন্ট দিয়ে দিয়েছে ক্লাবটি।
এই চুক্তির ফলে ক্রীড়া ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বেতন প্রাপ্ত এবং আয় করা খেলোয়াড়ের তকমাটা নিজের করে নিলেন সিআর সেভেন।
রোনালদোর ক্লাবটিতে যোগ দেওয়ার গুঞ্জনটা নতুন কিছু নয়। দুই বছর আগে ম্যান ইউতে যোগ দেওয়ার আগেও অনেকেই বলেছিল তিনি আল নাসেরে যোগ দেবেন।
তবে আগেরবারের মত এবারের গুঞ্জনটা আর বাতাসে মিলিয়ে যায়নি। এশিয়ার ক্লাবটির সঙ্গে রোনালদো চুক্তি করেছেন ২০২৫ সালের গ্রীষ্ম পর্যন্ত।
ঠিক কত টাকায় ক্লাবটি তাকে দলে ভিড়য়েছে তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে বিভিন্ন সুত্রের তথ্য মতে প্রতি মৌসুমে ৭৫ মিলিয়ন ডলার করে পেতে যাচ্ছেন রোনালদো, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৭৫০ কোটি টাকারও বেশি।
চুক্তির এই তথ্য সত্য হলে তিনি হবেন এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি বেতন ভুক্ত ফুটবলার। তালিকায় তার নিচে রয়েছেন এম্বাপ্পে। পিএসজির সাথে নতুন চুক্তি অনুযায়ী চলতি মৌসুম থেকেই এম্বাপ্পে পাচ্ছেন ৬৩ মিলিয়ন ডলার।
চুক্তি সম্পাদনের পর এক বিবৃতিতে রোনালদো সৌদিকে ফুটবলে সম্ভবনাময়ী দেশ হিসেবে উল্লেখ করেন।
আল নাসের নিজেদের এক টুইটে জানিয়েছে তাদের লিগে রোনালদোকে সাইন করানোর মুল কারন সৌদি ফুটবলের সামগ্রিক উন্নতি।
তাদের মতে রোনালদোর সৌদিতে আগমন দেশটির সাধারন মানূষকে ফুটবলের প্রতি আগ্রহী করে তুলবে খেলোয়াড়েরা নতুন করে অনুপ্রানিত হবে।
সৌদি ক্লাবটিতে রোনালদো খেলবেন তার প্রিয় সাত নাম্বার জার্সি গায়ে জড়িয়ে। রোনালদোর মধ্যপ্রাচ্যে আগমনকে অনেকেই পেলের আমেরিকান লিগে খেলার সাথে তুলনা করছেন।
পেলে মুলত শেষ বয়সে আমেরিকায় ফুটবলের সামগ্রিক উন্নতি ঘটাতেই নিউ ইয়র্ক কসমসের জার্সি গায়ে তুলেছিলেন এবারে রোনালদো ও অনেকটা তাই করলেন।
তবে এই উদ্দেশ্যে তিনি কতটা সফল হবেন তা সময়ই বলে দেবে। এদিকে রোনালদোর এশিয়া আগমনে তার বাংলাদেশে আসার সম্ভবনা সৃষ্টী হয়েছে।
তার দল এবং বাংলাদেশের বসুন্ধরা কিংস যদি এএফসি কাপে উঠতে পারে তাহলে সম্ভবনা রয়েছে দুই দল মুখোমুখি হওয়ার। সেক্ষেত্রে একটি লেগের ম্যাচ বাংলাদেশেও হবে।
দীর্ঘদিন ধরেই মাঠের পারফরম্যান্সটা ভালো যাচ্ছিলনা রোনালদোর। চলতি মৌসুমের বেশিরভাগ সময় ম্যানইউ কোচ টেন হেগ তাকে বসিয়ে রেখেছিলেন সাইড বেঞ্ছে।
এতেই মনঃক্ষুণ্ণ হন ক্রিস্টিয়ানো। বিশ্বকাপের আগেই পিয়ার্স মরগানের শোতে গিয়ে কোচ এবং ক্লাবের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলেন এই পর্তুগিজ তারকা।
আর তাতেই ক্ষুদ্ধ হয় ম্যান ইউনাইটেড। ক্লাবটি রোনালদোর সঙ্গে চলমান চুক্তি বাতিল করে এবং তাকে ক্লাব ইতিহাস থেকে মুছে ফেলারও সিদ্ধান্ত নেয়।
তবে ভক্তদের আশা ছিল বিশ্বকাপে আবারো নিজেকে প্রমান করবেন প্রিয় তারকা। তবে সে আশা পুরন হয়নি। শেষ পর্যন্ত জাতীয় দলেও
বসে থাকতে হয়েছে সাইড বেঞ্ছে।
রোনালদোর এমন ক্লাবহীন বিষন্ন সময়ে সর্বকালের সেরা বিতর্কে তার অন্যতম প্রতিদ্বন্ধী লিওনেল মেসি মেতেছিলেন বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দে।
রোনালদোর আল নাসেরে যোগ দেওয়ার মধ্যে দিয়ে সম্ভাব্য ইতি ঘটে গেল ইউরোপিয়ান ফুটবলের অন্যতম মহাতারকার পথচলা।
পাঁচবার ব্যালন ডি'অর জয়ী রোনালদো জিতেছেন সমান সংখ্যক চ্যাম্পিয়ন্স লিগ। এই টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ ১৪০ গোলও রয়েছে তার দখলে।