মাত্র ক'দিন আগেই বহু আরাধ্য সোনার ট্রফিটি তুলেছেন নিজ হাতে। টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হয়ে এরই মধ্যে হয়েছেন কাতার বিশ্বকাপের রাজা। আর তাই রাজার মতোই যেন নতুন বছরের শুরু করলেন মেসি।
২০২৩ এর শুরুতেই নান্দনিক সাজে দেখা গেলো এই ফুটবল তারকাকে। আজ সকালে নিজের ভেরিভায়েড ফেসবুক পেইজ থেকে পরিবারের সঙ্গে কিছু ছবি পোস্ট করেন মেসি।
সেখানে দেখা যায়, সবুজের সাথে কমলার মিশেলে চমৎকার একটি শার্ট পরেছেন তিনি। বিশ্বের অন্যতম বিলাসবহুল ব্র্যান্ড গুচির সে শার্টের দাম প্রায় দেড় লক্ষ টাকা।
স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জো সেজেছেন শুভ্র সাদার সাজে। টু-পিস গাউন আর ছিমছাম গড়নে দারুণ দেখাচ্ছে মেসি-পত্নীকে। তাদের তিন পুত্রও সঙ্গে আছে ছবিতে।
একে অপরের সঙ্গে মায়ার বন্ধনের উজ্জ্বল এক প্রতিফলন ঘটেছে ছবিতে। আর্জেন্টাইন সুপারস্টার এক হাতে স্ত্রী আন্তোনেলাকে জড়িয়ে আছেন, আরেক হাতে কোলে নিয়েছেন ছোটপুত্র চিরো মেসিকে।
এদিকে মা আন্তোনেলার আঙুল জড়িয়ে আছে মেজোপুত্র মাতিও মেসি। আর মাতিওর কাঁধে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে মেসির প্রথম পুত্র থিয়াগো। যেন এক অবিচ্ছেদ্য সংযোগে একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে আছেন তারা!
তবে এই পাঁচজনের মাঝে ভক্তদের চোখ বার বার মেসির দিকেই আটকাচ্ছে। সবুজ রঙের নজরকাড়া শার্টটিতে দারুণ মানিয়েছে তাকে।
মেসির পরনের এ শার্টটির পেছনে রয়েছে চমৎকার একটি ইতিহাস৷ বর্তমান সময়ে তেমন জনপ্রিয় না হলেও পঞ্চাশের দশকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এ শার্টের জনপ্রিয়তা ছিলো তুঙ্গে।
তখন মূলত 'বোলিং শার্ট' বলা হতো এ পোশাককে। কারণ বোলিং খেলার সময় খেলোয়াড়দের পরনে থাকতো এই বিশেষ শার্ট।
তবে এটি ক্রিকেটের সেই ব্যাট-বলের বোলিং নয়। বিনোদনের জন্য বিশ্বের অনেক দেশে রয়েছে অন্যরকম খেলাটির ব্যাপক সুনাম।
এ খেলাতে মূলত একটি পিচ্ছিল লন থাকে। আর থাকে কিছু টার্গেট বা লক্ষ্য। লন দিয়ে বল গড়িয়ে দিয়ে একজন খেলোয়াড় যতটা টার্গেটকে মাটিতে ফেলতে পারবেন, তিনি হবেন তত নম্বরের অধিকারী।
মূলত বসন্ত ও গ্রীষ্মের অবকাশের দিনগুলোতে এই খেলাটি হতো। এর জন্যই বিশেষভাবে বানানো হয়েছিলো মেসির পরনের এই ধরনের বোলিং শার্টগুলো।
গরমের দিনগুলোতে তা ছিলো ভীষণ আরামদায়ক। কোনো প্ল্যাকেট থাকতো না শার্টগুলোতে। ফলে শরীরে বাতাসের প্রবেশও পর্যাপ্ত পরিমাণে হতো।
খেলার উদ্দেশ্যে এ পোশাকের উদ্ভব হলেও দ্রুতই তা হয়ে ওঠে মার্কিনিদের প্রিয় ফ্যাশন উপকরণ। তবে এর পেছনে ছিলো ৫০ এর দশকের রক অ্যান্ড রোল কালচারের ছায়া।
গত শতকের মধ্যবর্তী সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় রকসংগীত। মূলত পুরোনো ধাঁচের গান শুনতে শুনতে আমেরিকার তরুণসমাজ তখন বেশ ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলো।
আর ঠিক তখনই বিশ্বসংগীতে আবির্ভাব ঘটে এলভিস প্রিসলি, কার্ল পারকিনস, জনি ক্যাশের মতো বিখ্যাত রকতারকাদের। ব্যতিক্রমী গান আর ছন্দে খুব সহজেই তারা জায়গা করে নেন বিশ্বের অসংখ্য কিশোর-তরুণদের মনে।
আর এই তারকারাই নিজেদের ফ্যাশনকে নান্দনিক করতে বোলিং শার্টকে বেছে নেন। যে শার্টের উদ্ভব একটি খেলার পোশাক হিসেবে; সেটি রাতারাতি ঠাঁই পেয়ে যায় '৫০ এর দশকের ফ্যাশন আইকনদের ওয়্যারড্রোবে।
যদিও পরবর্তীতে এ শার্টের জনপ্রিয়তা তুলনামূলক কমে গেছে, তবুও হাওয়াইয়ান শার্টের মতো নানা নামে এখনো রয়ে গেছে এই ফ্যাশনের অস্তিত্ব।
নতুন বছরের শুরুতে বোলিং শার্ট গায়ে জড়িয়ে লিও মেসি এটাই প্রমাণ করলেন, শুধু খেলার মাঠেই নয়, ফ্যাশন সেন্সের দিক থেকেও নিজেকে অনন্যই রেখেছেন ফুটবলের এই রাজপুত্র।