খেলাধুলা


আইপিএলে সবচেয়ে সফল বাংলাদেশি খেলোয়াড় কে


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:০১ জানুয়ারি ২০২৩, ০৫:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার

আইপিএলে সবচেয়ে সফল বাংলাদেশি খেলোয়াড় কে

এ পর্যন্ত সাতজন বাংলাদেশি ক্রিকেটার আইপিএলে সুযোগ পেয়েছেন। এর মধ্যে চলতি বছরেই রেকর্ড করে একসাথে সুযোগ পেয়েছেন তিনজন বাংলাদেশি।  

তবে তিনজনের মধ্যে শুধু লিটন কুমার দাস এবার প্রথমবারের মতো আইপিএল খেলবেন। বাকি দুজন এর  মধ্যে আছেন মুস্তাফিজ এবং সাকিব আল হাসান।

এই তিনজন ছাড়াও আইপিএল এর শুরু থেকে সুযোগ পেয়েছেন আরো চারজন ক্রিকেটার।   

তাদের কেউ খেলার সুযোগ পাননি। কেউ সুযোগ পেয়েও পারফর্মেন্স করে দেখাতে পারেননি। কেউ কেউ আবার সাফল্য অর্জন করে বারবার সুযোগ পাচ্ছেন আইপিএলে।  

এর মধ্যে ২০০৮ সালের আইপিএল আসরে একমাত্র বাংলাদেশি খেলোয়াড় হিসাবে সুযোগ পেয়েছিলেন জাতীয় দলের সাবেক স্পিনার আব্দুর রাজ্জাক। 

সে আসরে পঞ্চাশ হাজার ডলার খরচ করে তাকে কিনেছিলো রয়াল চ্যালেঞ্জারস ব্যাঙ্গালুরু। তবে মাঠের খেলায় মাত্র এক ম্যাচেই সুযোগ পেয়েছিলেন রাজ্জাক। 

রাজস্থানের বিপক্ষে খেলা সেই ম্যাচে মাত্র দুই অভার বল করে ২৯ রান দিয়েছিলেন তিনি। এরপর আর মাঠে নামানো হয়নি তাকে। 

২০০৯ সালে এরপরের আইপিএল  আসরে দল পান মাশরাফি এবং মোহাম্মদ আশরাফুল।  সে সময় বাংলাদেশ দলের অন্যতম সেরা ব্যাটিং তারকা ছিলেন আশরাফুল।  মাশরাফি ছিলেন বোলিং আক্রমনের সেরা অস্ত্র। 

নিলামেও বাজিমাত করেছিলেন নড়াইল এক্সপ্রেস। তবে মাঠের খেলায় তার প্রতিফলন দেখাতে পারেননি মাশরাফি। 

এক ম্যাচ মাঠে নেমে চার অভারে দিয়েছিলেন ৫৮ রান। এমন পারফর্মেন্স এর পর তাকে আর মাঠে নামায়নি কলকাতা।  

অন্যদিকে ৭৫ হাজার ডলারে বিক্রি হওয়া আশরাফুলও খেলেছিলেন মাত্র একটি ম্যাচ। ১০ বল খেলে সেই ম্যাচে মাত্র দুই রান করেছিলেন এই ব্যাটার। 

ফলে আশরাফুল ও নাম লেখান ব্যর্থদের তালিকায়। যেখানে তার সাথে আছেন মাশরাফি এবং আব্দুর রাজ্জাক। তিনজনেই নিজেদের প্রথম আইপিএল ম্যাচে ব্যর্থ হয়ে আর কখনো সুযোগ পাননি। 

এদিকে ২০১২ সালে বাংলাদেশি অপেনার তামিম ইকবাল ও সুযোগ পেয়েছিলেন আইপিএলে। 

 তাকে কিনেছিলো পুনে ওয়ারিওর্স। তবে টুর্নামেন্টের কোন ম্যাচেই মাঠে নামার সুযোগ পাননি তিনি। ফলে আইপিএলে তামিম ইকবালকে সফল বা ব্যর্থ কোনটাই বলা যাচ্ছে না। 

এরপর থেকে বাংলাদেশিদের আইপিএল ছিলো পুরোপুরি সাকিব এবং মুস্তাফিজ নির্ভর।  তাদের বাইরে গত দশ বছরের মধ্যে এবার শুধু সুযোগ পেয়েছেন লিটন দাস। 

সাকিব আল হাসানের আইপিএল ক্যারিয়ার শুরু হয় ২০১১ সালে। ৪ লাখ ডলারে তাকে দলে নিয়েছিলো কলকাতা নাইট রাইডার্স।  

সেবার বল হাতে দুর্দান্ত খেলেছিলেন সাকিব,  ৭ ম্যাচে নিয়েছিলেন ১১ উইকেট।  যেখানে তার ইকোনমি রেট ছিলো ৭ থেকেও কম। 

এরপর ২০১৭ পর্যন্ত কলকাতার হয়ে আইপিএল মাতিয়েছেন সাকিব। ২০১৮ ও ১৯শের আইপিএলে সাকিব ছিলেন হায়দ্রাবাদ দলে। এরপর ২০২১ সালে আবারো কলকাতায় ফেরেন তিনি। 

সব মিলিয়ে আইপিএলে মোট ৭১ ম্যাচ খেলেছিলেন সাকিব। তাতে ১২৪.৪৯ স্ট্রাইক রেটে করেছেন ৭৯৩ রান। ব্যাটিং গড় ২০ এর কাছাকাছি। 

এছাড়া বল হাতে পেয়েছেন ৬৩ উইকেট। যেখানে তার ইকোনমি রেট সাড়ে সাত থেকে সামান্য কম। 

সাকিব আল হাসানের মতো প্রথম আইপিএল আসরেই জাত চিনিয়েছিলেন মুস্তাফিজ।  ২০১৬ সালে হায়দ্রাবাদ দলে সুযোগ পান তিনি। 

সেবার বল হাতে ১৬ ম্যাচে ১৭ উইকেট নিয়েছিলেন কাটারফিজ।  অভার প্রতি রান দিয়েছিলেন মাত্র ৬.৯০ করে। 

এই আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল হায়দ্রাবাদ, মুস্তাফিজ হয়েছিলেন টুর্নামেন্টের ইমার্জিং খেলোয়াড়।  
পরের আসরেও হায়দ্রাবাদে ছিলেন মুস্তাফিজ।  

এরপর ২০১৮ সালে মুম্বাইয়ে নাম লেখান তিনি। আবার ২০২১ সালে রাজস্থানের হয়ে মাঠে নেমেছিলেন ।  এরপর থেকে দিল্লি ক্যাপিটালসে খেলছেন বাংলাদেশের এই তারকা বোলার। 

২০১৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত আইপিএলে ৪৬ ম্যাচে মাঠে নেমেছেন তিনি।  তাতে ৪৬ উইকেট নিয়েছেন ৭.৮০ ইকোনমি তে।  

সব মিলিয়ে সাকিব এবং মুস্তাফিজ দুজনকেই আইপিএলে সফল বলা যায়। পারফর্মেন্স দিয়েই বারবার সুযোগ পাচ্ছেন তারা। 

আগামী ২০২৩ সালের আইপিএলে প্রথমবারের মতো সুযোগ পেয়েছেন বাংলাদেশি ব্যাটার লিটন দাস। ২০২২ সালে বাংলাদেশ জাতীয় দলের সেরা ব্যাটার ছিলেন তিনি। 

আইপিএলে এবার কলকাতার হয়ে, মাঠে নামবেন এই ক্রিকেটার। 
একাদশে  সুযোগ পেলে  সামর্থের সর্বোচ্চ ব্যবহার করবেন লিটন, এমনটাই প্রত্যাশা করছেন ক্রিকেট প্রেমীরা। 






জনপ্রিয়


খেলাধুলা থেকে আরও পড়ুন

জিম্বাবুয়েকে ১৪১ রানে অলআউট করে বড় জয় বাংলাদেশের

জিম্বাবুয়েকে ১৪১ রানে গুঁড়িয়ে দিয়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে দারুণ সূচনা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে স্বাগতিকদের মাত্র ৩৬.৪ ওভারে ১৪১ রানে অলআউট করে সহজ জয় তুলে নেয় টাইগাররা। ম্যাচের নায়ক ছিলেন তরুণ পেসার নাহিদ রানা, যিনি নিজের গতির ঝড় তুলে ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ে ৬ উইকেট শিকার করেন।

বিশ্বকাপের আনন্দে প্রযুক্তিপ্রেমীদের জন্য চমক, পণ্য কিনে কক্সবাজার ভ্রমণের সুযোগ

ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬ উপলক্ষে প্রযুক্তিপ্রেমী ক্রেতাদের জন্য বিশেষ প্রচারণামূলক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডের ইসিএস কম্পিউটার সিটি (মাল্টিপ্লান সেন্টার)। ‘প্রযুক্তির সঙ্গে বিশ্বকাপের উন্মাদনা’ শীর্ষক এই আয়োজনে নির্দিষ্ট সময়ে প্রযুক্তিপণ্য কিনলে লটারির মাধ্যমে কক্সবাজার ভ্রমণের সুযোগ পাবেন ক্রেতারা।

রোনাল্ডো না মদ্রিচ, আজ কার শেষ বিশ্বকাপ?

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে আজ মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপের দুই পরাশক্তি পর্তুগাল ও ক্রোয়েশিয়া। তবে এটি শুধু শেষ ষোলোর একটি ম্যাচ নয়, বরং সময়ের বিরুদ্ধে দুই কিংবদন্তির লড়াইও। একদিকে ৪১ বছর বয়সী ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো, অন্যদিকে ৪০ বছর বয়সী লুকা মদ্রিচ। দুজনেরই এটি হতে পারে শেষ বিশ্বকাপ। ফলে টরন্টোর রাতটি হতে যাচ্ছে আবেগ, অভিজ্ঞতা ও ইতিহাসের এক অনন্য মঞ্চ।

ব্রাজিল-জাপান মুখোমুখি, কী বলছে পরিসংখ্যান?

ফুটবল বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব শেষ করে এখন শুরু নকআউট লড়াই। আজ মুখোমুখি হচ্ছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল এবং এশিয়ার শক্তিশালী দল জাপান। ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায়।