কিছুদিন পরেই শুরু হতে যাচ্ছে ঘরোয়া ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় আয়োজন বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ। এবারের আসরে ব্যবহার করা হবে ভারতের আইপিএলের মতো অত্যাধুনিক সব প্রযুক্তি।
যার মধ্যে রয়েছে আলট্রা এজ, বল ট্র্যাকিং, আলট্রা মোশন ক্যামেরা, জিং বেল, আধুনিক স্ট্যাম্প ক্যামেরা, স্পাইডার ক্যাম এবং ড্রোনের মতো উঁচুমানের প্রযুক্তি।
মূলত বিপিএলকে আরো উপভোগ্য করতে আর টেলিভিশন সম্প্রচারের মান বাড়াতেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড।
পুরো মাঠ কভারের জন্য ৩০ থেকে ৩৬টি ক্যামেরা থাকবে। কেবল মাঠই নয়, পুরো ভেন্যুই থাকবে ক্যামেরার আওতাধীন।
ভেন্যুর কোথাও কেউ কিছু করছে কি না-নজরদারি করা যাবে নিখুঁতভাবে। যার ফলে মাঠে না থেকেও মাঠের ভিউ খুব ভালোভাবে দেখতে পাবেন দর্শকরা।
ক্রিজের কোনোকিছুই যেন মিস না হয়ে যায়, সেজন্য স্ট্যাম্পে থাকছে দ্বিমুখী ক্যামেরা। অর্থাৎ স্ট্যাম্পের সামনে এবং পেছনে দুদিকেই ক্যামেরা থাকবে।
একইসঙ্গে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বহুল ব্যবহৃত জিং বেইল লাইটিং পদ্ধতিও থাকবে, যার মাধ্যমে বল স্ট্যাম্পে লাগলেই লাইট জ্বলে উঠবে।
ব্যবহৃত হবে ড্রোন ক্যামেরা, যা ওপর থেকে মাঠের যাবতীয় কর্মকাণ্ড ধারণ করে সবকিছু পরিষ্কার করে দেখাবে। স্পাইডার ক্যামরার মাধ্যমে বিভিন্ন অ্যাঙ্গেলে খেলা দেখানো হবে।
অন্যদিকে ম্যাচ চলাকালীন দু’দলের ডাগআউটের সামনে থাকবে রোবোটিক ক্যামেরা। ফলে দর্শকরা পছন্দের দলের ডাগআউটে প্রিয় খেলোয়াড়দের উপস্থিতি দেখতে পারবেন।
গত বছরের মতো এ বছরও বিপিএলের শুরুতে ডিআরএসের বিকল্প হিসেবে এডিশনাল ডিসিশন রিভিউ সিস্টেম বা এডিআরএস থাকবে। ডিআরএস যুক্ত হবে এলিমিনেটর পর্ব থেকে।
এছাড়া টিভি ও মোবাইল-কম্পিউটারের পর্দায় খেলা আরও উপভোগ্য করে তুলতে নামীদামী ধারাভাষ্যকারদেরও আনা হচ্ছে।
সেই সাথে ক্রিকেটের ব্র্যান্ডিং আর বাণিজ্যিক প্রসার ঘটাতে ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিপিএল দেখানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
মূলত বাংলাদেশের জনপ্রিয় ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি লিগটিকে বিশ্ব দরবারে আরো গ্রহণযোগ্য করে তুলতেই এতসব উদ্যোগ বিসিবির।
সব কিছু ঠিক থাকলে ৬ জানুয়ারি শুরু হবে বিপিএলের নবম আসর। ১৬ ফেব্রুয়ারি ফাইনালের মধ্যদিয়ে পর্দা নামবে এই টুর্নামেন্টের।
এক মাসের বেশি সময় যাবত ৪৬টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে তিনটি ভেনুতে। দিনে দুটি করে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। যার মধ্যে প্রথম খেলাটি মাঠে গড়াবে বেলা দুটায়। আর দ্বিতীয় ম্যাচটি হবে সন্ধ্যা সাতটায়।
তবে শুক্রবার দিনের প্রথম ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে আড়াইটায়, আর দ্বিতীয় ম্যাচ হবে সন্ধ্যা সোয়া সাতটায়। প্লে-অফ এবং ফাইনাল ম্যাচের জন্য রিজার্ভডের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
মূল লড়াইয়ে মাঠে নামার আগে ২ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে দলগুলোর আনুষ্ঠানিক অনুশীলন। তার আগেই বিদেশি ক্রিকেটাররা চলে আসবেন ঢাকায়।
প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আগামী ৪ জানুয়ারি বসুন্ধরা স্পোর্টস কমপ্লেক্সে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে রংপুর রাইডার্স ও খুলনা টাইগার্স।
আগের আসরের চেয়ে এবারের বিপিএল আকর্ষণীয় করতে দারুণ সব পদক্ষেপ নিয়েছে গভর্নিং কাউন্সিল। বর্তমানে তারা ব্যস্ত শেষমুহুর্তের প্রস্তুতি নিয়ে।
বিপিএলের এবারের আসরে অংশ নিচ্ছে ৭টি ফ্র্যাঞ্চাইজি। তবে হবে না কোনো উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। তাতে অবশ্য জৌলুস কমবে বলে মনে করছেন না কর্তারা।
তারা বলছেন, এবার টিভি স্ক্রিনে বিপিএল দেখে আইপিএল-বিগ ব্যাশের মতো স্বাদ পাবেন দেশ ও দেশের বাইরের ক্রিকেটাপ্রেমীরা।
ইতিমধ্যে ক্রিকেট দুনিয়ার অন্যতম শীর্ষ টি-টোয়েন্টি লিগ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে বিপিএল। ঘরোয়া এ টুর্নামেন্টের প্রতিদ্বন্দ্বিতা, সম্প্রচার এখন বিশ্ব পর্যায়ের।
অন্যান্য বিদেশি লিগের মতোই ক্রিকেট বিশ্বে স্বীকৃতি পাক বিপিএল- এমনটাই প্রত্যাশা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ও ক্রিকেট সংশ্লিষ্টদের।