বিপিএলের গত হওয়া আসরগুলোতে ভিন্ন ভিন্ন মালিকের অধীনে ভিন্ন নামে খেলেছে সিলেট। কিন্তু সাফল্যের দেখা পায়নি সিলেটের নাম নিয়ে খেলা কোনো দলই।
২০১৩ সালের আসরে সেরা চারে খেলাই এ পর্যন্ত তাদের সর্বোচ্চ সাফল্য। সিলেট স্ট্রাইকার্স তাই এবার বেশ আঁটঘাঁট বেধে দল গুছিয়েছে।
দল গঠনে তাদের টাকা খরচ দেখেই বোঝা যায় শিরোপা ছাড়া কিছু ভাবছে না দলটি। এই দলের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা মাশরাফী। সিলেটের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করবেন তিনিই।
বাংলাদেশের ও বিপিএল ইতিহাসে সবচেয়ে সফল অধিনায়ক মাশরাফী। তাই সিলেটের স্বপ্নও এবার একটু বড়। শিরোপা জয়ী অধিনায়ককে নিয়ে শিরোপার খোঁজ করবে চায়ের দেশের ফ্রাঞ্চ্যাইজিটি।
সিলেটের বড় শক্তিও বোলিং বিভাগ। মাশরাফি সাথে এখানে আছেন পাকিস্তানি পেসার মোহাম্মদ আমির, বাংলাদেশের রুবেল হোসেন, তরুণ তুর্কি রেজাউর রহমান রাজা ও তানজিম সাকিব।
এই তো গেলে সিলেটের পেস বোলিং ইউনিট।
স্পিন বোলিং ইউনিটে, তেমন বড় নাম না থাকলেই আছেন ঘরোয়া ক্রিকেটের অন্যতম অভিজ্ঞ ও নিয়মিত পারফর্মার নাবিল সামাদ ও নাজমুল ইসলাম অপু।
এছাড়া পাকিস্তানি অলরাউন্ডার ইমাদ ওয়াসিম কিংবা জিম্বাবুয়ের রায়ান বার্লের স্পিনও আদর্শ হতে পারে বাংলাদেশের উইকেটে।
ব্যাটিংয়ে সিলেটের বাজির ঘোড়া হতে পারেন মোহাম্মদ হারিস। পাকিস্তানি তরুণ ব্যাটার হারিস বিশ্বকাপে সুযোগ পেয়েই করেছিলেন বাজিমাত। টর্নেডো এক ইনিংসে কুড়িয়েছিলেন সুনাম।
তারপরই তাকে সরাসরি চুক্তিতে দলে ভিড়িয়েছিল সিলেট। এই পাকিস্তানি তরুণই হতে পারেন সিলেটের ব্যাটিংয়ের অন্যতম স্তম্ভ। সেই সাথে ব্যাটিংয়ে আছেন মুশফিকুর রহিম ও নাজমুল হোসেন শান্ত।
মুশফিক সম্প্রতি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিকে বিদায় বলেছেন। কারণ জাতীয় দলে তার সময়টা ভালো যাচ্ছিল না৷ তবে বিপিএলের নিয়মিত পারফর্মার মুশফিক।
অপরদিকে, নাজমুল হোসেন শান্ত জাতীয় দলে খেললেও তার খেলার ধরন নিয়ে আছে যথেষ্ট সমালোচনা। বিশ্বকাপে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচজয়ী ইনিংস খেললেও তারপর আবার হারিয়ে গেছেন শান্ত।
তবে ঘরোয়া ক্রিকেটে টি-টোয়েন্টিতেও শতক আছে তার৷
সিলেটের ভালো ফলাফল পাওয়ার জন্য শান্ত ও মুশফিকের পারফরম্যান্স খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যদি এই দুই দেশি ক্রিকেটার পারফর্ম করতে না পারেন তাহলে বিপদে পড়বে সিলেট।
এছাড়া সিলেটেই আছেন জাকির হাসান ও আকবর আলি। জাকির সম্প্রতি জাতীয় দলে টেস্টে প্রমাণ করেছেন নিজেকে। ঘরোয়া ক্রিকেটে তিন সংস্করণেই তার রেকর্ড ভালো।
সিলেটের ওপেনিংয়ে ঝড় তুলতে দেখা যেতে পারে তাকে। এছাড়া লোয়ার-মিডল অর্ডারে দেখা যেতে পারে আকবর আলিকে।
যুব বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক আকবর সিনিয়রদের ক্রিকেটে খুব একটা নজরকাড়া পারফরম্যান্স এখনো করতে পারেননি। তবে ঝলক দেখিয়েছেন কয়েকবার। বিপিএলকেই হয়ত নিজেকে প্রমাণের মঞ্চ হিসেবে তুলে রেখেছেন আকবর।
বিদেশি ক্রিকেটারদের মধ্যে অলরাউন্ডার রায়ান বার্ল, ধনঞ্জয়া ডি সিলভা কিংবা ইমাদ ওয়াসিম রাখতে পারেন বড় ভূমিকা। সবমিলিয়ে ভালো দল গড়েছে সিলেট।
এদিকে সিলেটের মূল ভরসার নাম মাশরাফি হলেও, গত বছরের এপ্রিলের পর আর খেলার মধ্যে ছিলেন না মাশরাফি। তাই এই কয়েক মাসে মাসে ফিটনেসেও দেখা দিয়েছে ঘাটতি।
প্রশ্ন থেকে যায়, তিনি আদৌ বিপিএলের পুরো আসরে খেলতে পারবেন কি না? মাশরাফি নিজেও চিন্তা করছেন নিজের ফিটনেস নিয়ে। তবে টুর্নামেন্ট শুরুর আগে এটি ঠিক করে ফেলার ব্যাপারে আশাবাদ জানিয়েছিলেন তিনি।
সিলেটের স্কোয়াড-a, নিয়মিত মুখ হতে পারেন : মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা , মোহাম্মদ আমির,
মোহাম্মদ হারিস, রায়ান বার্ল,
কামিন্দু মেন্ডিস, ধনঞ্জয়া ডি সিলভা,
থিসারা পেরেরা, ইমাদ ওয়াসিম,
মুশফিকুর রহিম, নাজমুল হোসেন শান্ত,
রেজাউর রহমান রাজা, নাবিল সামাদ,
তৌহিদ হৃদয়, রুবেল হোসেন,
টম মুরর্জ, গুলবাদিন নায়েব,
জাকির হোসেন, নাজমুল ইসলাম অপু,
আকবর আলী, মোহাম্মদ শরিফুল্লাহ, ও তানজিম সাকিব।