নতুন বছরের শুরুতেই মাঠে গড়াতে যাচ্ছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ। টূর্ণামেন্টকে ঘিরে ইতোমধ্যেই সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল৷
সময় যত ঘনিয়ে আসছে- ততোই বিপিএলের ব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্রিকেট সমর্থকদের তোপের মুখে পড়তে হচ্ছে বিসিবিকে।
প্রাইজমানি হিসেবে চ্যাম্পিয়ন ও রানার্স আপ দলের জন্য চার কোটি টাকা ঘোষনা করেছে বিসিবি। আর এরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে, তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হয় বিসিবিকে।
ভক্ত-সমর্থকদের প্রশ্ন,
যেখানে আইপিএলে সাকিব-মুস্তাফিজ-লিটনের দাম-ই ৪ কোটি টাকা,, সেখানে পুরো বিপিএলের প্রাইজমানি ৪ কোটি টাকা হয় কি করে?
গেল শনিবার বৈঠক শেষে, বিসিবি গর্ভনিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব "ইসমাইল হায়দার মল্লিক' গণমাধ্যম কে বলেন,
" বিপিএলে চ্যাম্পিয়ন দলের প্রাইজমানি হচ্ছে দুই কোটি টাকা এবং রানার্সআপ দলের জন্য থাকছে এক কোটি টাকা।
এছাড়া টূর্ণামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের জন্য বরাদ্দ থাকছে দশ লাখ টাকা। এর পাশাপাশি বিপিএলের সেরা ব্যাটসম্যান ও বোলারের জন্য বিশেষ পুরষ্কারের চিন্তা করছে আয়োজক কমিটি।
প্রাইজমানি ছাড়াও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে," ডিআরএস" ba ডিসিশন রিভিউ সিস্টেম" প্রযুক্তি না থাকার কারণে।
সভা শেষে, ইসমাইল হায়দার মল্লিক বলেন, কোয়ালিফায়ারের তিন ম্যাচ এবং ফাইনালে ,শুধুমাত্র ডিআরএস থাকবে।
বাকি ম্যাচ গুলোতে "অলটারনেটিভ ডিসিশন রিভিউ সিস্টেম" বা এডিআরএস থাকবে।
ডিআরএস না থাকার কারণে, বিপিএল মান হারাবে বলে অভিমত ক্রিকেট প্রেমীদের।
বিপিএলকে বিশ্বের দ্বিতীয় সেরা লীগ দাবি করেও, ডিআরএস প্রযুক্তি সংযুক্ত করতে না পারায়, বিসিবির সমালোচনায় মুখর হয়েছেন ক্রিকেট সমর্থকরা।
অন্যদিকে শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটারদের অনাপত্তিপত্র প্রদানে টালবাহানা করছে, শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট বোর্ড। ফলে বিপিএলে লঙ্কান ক্রিকেটারদের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে দেখা দিয়েছে শঙ্কা।
শেষ পর্যন্ত লঙ্কান ক্রিকেটারদের বিপিএলে পাওয়া না গেলে, ফ্যাঞ্চাইজী মালিকদের বিপাকে পড়তে হতে পারে।
আইপিএলের আদলে ২০১২ সালে শুরু হয় বিপিএলের যাত্রা।
প্রথম আসরে পাঁচ কোটি টাকা প্রাইজমানি প্রদান করে বিসিবি। প্লেয়ার অব দ্যা টূর্ণামেন্টের জন্য বরাদ্দ ছিলো গাড়ীও!
বিশ্বের সব নামি-দামি খেলায়াড়দের উপস্থিতিতে জমজমাট আয়োজন হতো বিপিএলের!
পরবর্তিতে এই দাপট ধরে রাখতে পারেনি বিসিবি। নানা অনিয়ম, ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকদের অর্থ প্রদানে গড়িমসি,
দলের মালিকানা বারবার বদলে যাওয়াসহ নানা কারণে আন্তর্জাতিক বড় তারকাদের, দলে টানতে পারেনি ফ্যাঞ্চাইজী মালিকরা।
বিপিএলের উদ্দেশ্য ছিলো যে, আন্তর্জাতিক তারকা ক্রিকেটারদের সাথে, ড্রেসিংরুম ভাগাভাগির মাধ্যমে অভিজ্ঞতা অর্জন করবে দেশি খেলোয়াড়েরা।
কিন্তু এসব অনিয়মের কারণে সেটি অর্জিত হচ্ছে না।
সময়ের সাথে বিপিএলের পরিসর না বেড়ে উল্টো ছোট হয়েছে। ফলে স্পন্সরদের টানতে ব্যর্থ হয়েছে বিপিএল।
দল কমে যাওয়ার কারণে অনেক প্রতিভাবান ক্রিকেটার দলে যেমন সুযোগ পাননি, আবার অনেকে দল পেলেও, একাদশে সুযোগ না পেয়ে নিজের প্রতিভার প্রকাশ ঘটাতে পারেননি।
এছাড়া বিপিএল আয়োজন করা হয় পুরোপুরি মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়াম কেন্দ্রীক। খুব অল্প সংখ্যক ম্যাচ বরাদ্দ রাখা হয়, সিলেট ও চট্টগ্রাম স্টেডিয়ামে৷
মিরপুরের লো স্কোরিং পিচে খেলে, খেলোয়াড়দের পাওয়ার হিটিং দক্ষতা গড়ে উঠছে না।
ফলশ্রুতিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে গিয়ে ভালো পারফর্ম করতে ব্যর্থ হচ্ছেন, দেশের ক্রিকেটাররা।
এইসব সীমাবদ্ধতার মধ্যে আগামী ৬ জানুয়ারি সিলেট স্ট্রাইকার্স ও চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স ম্যাচের মধ্য দিয়ে মাঠে গড়াবে বিপিএলের নবম আসর।
হোম অব ক্রিকেট মিরপুর শের-ই বাংলা স্টেডিয়ামে দুপুর আড়াইটায় শুরু হবে এবারের বিপিএল।
প্রথম পর্বে ঢাকায় ৮টি ম্যাচের পর ১৩ জানুয়ারি (ফেব্রুয়ারী) শুরু হবে চট্টগ্রাম পর্ব।
সেখানে ১২টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।
পুণরায় ঢাকায় ৪টি ম্যাচ আয়োজনের পর, সিলেটে চতুর্থ পর্ব শুরু হবে ২৭ জানুয়ারি। সিলেট স্টেডিয়ামে ৮ টি ম্যাচের পর শেষ পর্ব খেলতে আবারও ঢাকায় ফিরবে বিপিএল।
১৬ ফেব্রুয়ারী ফাইনাল ম্যাচের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের বিপিএল আসর।