বিপিএলের গত আটটি আসরে সবচেয়ে বেশি হতাশ হতে হয়েছে সিলেট বিভাগের ক্রিকেট প্রেমিদের।
আট আসরে সিলেট বিভাগের ফ্রাঞ্চাইজি মালিকরা ভালো দল গড়তে যেমন ব্যর্থ হয়েছেন, তেমনি নানা অব্যবস্থাপনার কারণে বিপিএলের সৌন্দর্য নষ্ট করেছেন।
তবে এবার সম্পূর্ণ ভিন্ন আঙ্গিকে বিপিএলে পা রেখেছে সিলেট ফ্রাঞ্চাইজি। ফিউচার স্পোর্টস বাংলাদেশ নামক একটি প্রতিষ্ঠান এবার সিলেট দলের মালিকানা পেয়েছে।
দলের দ্বায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই পেশাদ্বারিত্ব বজায় রেখে কাজ করে চলেছে প্রতিষ্ঠানটি।
শুরুতেই একে একে দেশি-বিদেশি তারকা ক্রিকেটারদের দলে ভিড়িয়ে সমর্থকদের মন জয় করে ফেলেছে সিলেট স্ট্রাইকার্স।
দলের জার্সি উন্মোচনের জন্য লন্ডনে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করে এ ফ্রাঞ্চাইজি। অসাধারণ একটি প্রমো ভিডিওর মাধ্যমে নিজেদের জার্সি প্রকাশ করে তারা।
জার্সি উন্মোচনের ভিডিও যখন সবার প্রসংশা কুড়াচ্ছে তখন নিজেদের থিম সং প্রকাশ করে আবারও সবাইকে অবাক করে সিলেট স্ট্রাইকার্স।
এতো এতো চমকের পর আসল চমক তখনও লুকিয়ে রেখেছিলো ফিউচার স্পোর্টস বাংলাদেশ। স্থানীয় প্রতিভাবান বোলার খোঁজে বের করতে "পেসার হান্টের" আয়োজন করে তারা।
সেইভ সিলেটের সহযোগিতায় সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে তিনদিন ব্যাপী রেজিস্ট্রেশন হয়। এরপর সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাছাই পর্বে অংশ নেন সাতশ'র বেশি পেসার।
বিপিএলে অন্যান্য অনেক দল যেখানে প্রেক্টিস কিট সরবরাহ করতে পারেনি, সেখানে রেজিষ্ট্রেশন করা প্রত্যেক বোলারকে জার্সি উপহার দিয়েছে ফ্রাঞ্চাইজি টি।
বাছাই প্রক্রিয়ায় উত্তীর্ণ ১০ জন সেরা বোলার নেট বোলার হিসেবে সিলেট স্ট্রাইকার্স দলের সাথে পুরো বিপিএলে অংশ নেবেন।
ভালো বোলিং করতে পারলে যেমন সুযোগ আসবে সামনে এগিয়ে যাওয়ার, তেমনি আন্তর্জাতিক তারকা ক্রিকেটারদের বিপক্ষে বোলিং করে ভবিষ্যতের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করতে পারবে এইসব তরুণ প্রতিভাবান বোলাররা!
মাঠের বাইরের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও সরব সিলেট স্ট্রাইকার্সের ফেইসবুক পেইজ সহ স্যোশাল একাউন্ট গুলো।
কখনও কাব্যিক ভাষায় আবার কখনও পরিসংখ্যানের সঠিক উপস্থাপনের মাধ্যমে- সিলেট স্ট্রাইকার্সের হয়ে বিপিএলে অংশ নেওয়া খেলোয়াড়দের সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হচ্ছে ক্রিকেটপ্রেমিদের।
পেশাদ্বারিত্বের সাথে এমন দূর্দান্ত উপস্থাপনার প্রশংসা তাই সবার মুখে মুখে। পেইজের বিভিন্ন পোস্টের কমেন্ট বক্সে ভক্ত, শুভাকাঙ্ক্ষিদের প্রশংসা সূচক মন্তব্য তার-ই প্রমাণ।
অন্যান্যবারের তুলনায় এবার বেশ ভালো দল গড়েছে সিলেট স্ট্রাইকার্স।
অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা ছাড়াও অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম, রুবেল হোসেন, নাজমুল হোসেন শান্ত, জাকির হাসানের পাশাপাশি দলে রয়েছেন মোহাম্মদ আমির, মোহাম্মদ হারিস, ধনঞ্জয় ডি সিলভা, থিসারা পেরেরা, রায়ান বার্ল, কলিন একারম্যানের মতো আন্তর্জাতিক তারকা ক্রিকেটার।
ফলে দীর্ঘদিন পর আবারও বিপিএলের শিরোপা জয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে দুটি পাতা, একটি কুঁড়ির দেশ সিলেট।
বিপিএলের প্রথম আসরে চূড়ান্ত রকমের ব্যর্থ হওয়ার পর, পরের আসরে ঘুরে দাঁড়িয়েছিলো সিলেট রয়েলস। মুশফিকুর রহিমের নেতৃত্বাধীন দলটি কোয়ালিফায়ারে হেরে শিরোপা বঞ্চিত হয়।
এরপর আর ভালো প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখাতে পারে নি সিলেটের কোন ফ্রাঞ্চাইজি!
২০১৮ সালে বিদেশি ডেভিড ওয়ার্ণার, আন্দ্রে ফ্লেচার, ইমরান তাহির, নিকোলাস পুরান ও দেশি আফিফ হোসেন, লিটন, তাসকিনদের নিয়ে দল সাজানো হয়েছিলো। তবুও দলগত ব্যর্থতায় সাত দলের মধ্যে ষষ্ঠ হয়ে টূর্ণামেন্ট শেষ করে সিলেট সিক্সার্স।
বিপিএলের অষ্টম আসরে ব্যর্থতার ষোলকলা পূর্ণ করে পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে থেকে প্রডিযোগিতা শেষ করে সিলেট সানরাইজার্স নামক দলটি।
তবে এবার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। টূর্ণামেন্ট শুরুর আগেই ফ্রাঞ্চাইজি মালিকদের আন্তরিকতা, পরিশ্রম ও ভিন্নধর্মী প্রচেষ্ঠা শুধু সিলেটের মানুষকেই অভিভূত করেনি, বিপিএলের ফ্রাঞ্চাইজি মালিকদের জন্য একটি মডেল ফ্রাঞ্চাইজি রুপে আভির্ভূত হয়েছে সিলেট স্ট্রাইকার্স!
দেশের ক্রিকেট অনুরাগীদের প্রত্যাশা, বিপিএলের হারানো মান ফেরাতে এবং দেশের ক্রিকেটের ভিত্তি মজবুত করার লক্ষ্যে- সকল ফ্রাঞ্চাইজি মালিকরা সিলেট স্ট্রাইকার্স দলকে অনুসরণ করবেন এবং দেশের ক্রিকেটকে এগিয়ে নিতে অবদান রাখবেন।