ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে অন্য উচ্চতায় পৌঁছে গেছে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ আইপিএল। বিশ্ব ক্রিকেটে আইপিএল খেলতে স্বপ্ন দেখে না- এমন ক্রিকেটার খুঁজে পাওয়া কঠিন।
আইপিএলের বছর তিনেক পরেই যাত্রা করেছিলো বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ- বিপিএল। তবে প্রায় এক যুগ পার করেও মানের দিক থেকে এগোতে পারেনি।
আইপিএলের কাছাকছিতো নয়ই, অন্য ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টের কাছেও হার মানতে হচ্ছে বাংলাদেশি এই আসরকে।
প্রায় প্রতি আসরেই বিতর্ক সঙ্গী হয় দেশের একমাত্র ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি লিগটির। নবম আসর শুরু হচ্ছে ৬ জানুয়ারি। তার আগেই অনেক কিছুতেই ঘাটতি দেখা গিয়েছে।
বাংলাদেশ দলের টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক সাকিব আল হাসান এসব নিয়ে মুখ খুলেছেন। তাকে দায়িত্ব দেয়া হলে এক মাসে সব অব্যবস্থাপনা ঠিক করে ফেলবেন, এমনটাই দাবি করছেন তিনি।
এবারের বিপিএলে শুরু থেকে পাওয়া যাচ্ছে না ডিসিশন রিভিউ সিস্টেম -ডিআরএস। এ নিয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর হতাশা দেখা গিয়েছে।
তাদের দাবি বিসিবির যে অর্থ তাতে অনায়েসেই ডিআরএস ব্যবস্থা করা যেত। হাতে সময় থাকলেও কেন করা যায়নি- এমন প্রশ্ন রেখেছেন দল সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে ১ জানুয়ারি থেকে অনুশীলন শুরু হলেও বেশ কয়েকটি দলের জার্সিও ছিলো না। এ নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করেন খোদ খুলনা টাইগার্স কোচ খালেদ মাহমুদ সুজন৷
অনুশীলনের শুরুতে বিদেশি ক্রিকেটারও পায়নি দলগুলো। এমনকি প্লেয়ার্স ড্রাফটের দিন দুয়েক আগে বদলে যায় মালিকানাও।
৪ জানুয়ারি নিজের 'গালফ অয়েল বাংলাদেশ লিমিটেড' এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন সাকিব। সেখানে বিপিএলে অব্যবস্থাপনার কড়া সমালোচনা করেছেন টাইগার অলরাউন্ডার।
এবারের বিপিএলেও ফরচুন বরিশালের হয়ে খেলবেন সাকিব। তার মতে ইচ্ছে থাকলে গুছানো ভাবে বিপিএল আয়োজন অসম্ভব কিছু নয়।
বোর্ড কর্তাদের সৎ ইচ্ছের অভাব দেখেন টাইগার ক্রিকেটের পোস্টার বয়। দেশে ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা কাজে লাগাতে পারছে না বিসিবি, এমন ধারণা সাকিবের।
সাকিবকে প্রধান নির্বাহী করা হলে সিনেমার গল্পের মতো বদলে দিতে পারবেন সবকিছু। এক মাসের মধ্যে অনেক কিছু বদলে দেওয়া সম্ভব বলে জানান সাংবাদিকদের।
তিনি বলেন, 'আমাকে যদি প্রধান নির্বাহীর দায়িত্ব দেয়া হয় বিপিএলের, আমার বেশিদিন লাগবে না। আমার ধারণা সবকিছু ঠিক করতে খুব বেশি হলে এক থেকে দুই মাস লাগবে সর্বোচ্চ। দুই মাসও লাগার কথা না, দুই মাস অনেক দূরের কথা বলছি।'
নিজের অধীনে বিপিএল হলে জৌলুসের কমতি থাকবে না বলছেন সাকিব। প্লেয়ার্স ড্রাফট থেকে শুরু করে আধুনিক প্রযুক্তি, ব্রডকাস্ট, হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে ভেন্যু- সবকিছুতেই পরিবর্তনের ছোঁয়া থাকতো।
বিপিএলের বেশ পরে যাত্রা করেছে ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ -সিপিএল ও পাকিস্তান সুপার লিগ -পিএসএল। তবে ইতোমধ্যে নিজেদের অবস্থান শক্ত করে ফেলেছে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ দুটি।
বিশেষ করে পিএসএলকে বর্তমানে আইপিএল মানের কাছাকাছি ধরা হয়। তাদের প্রচার প্রচারণা ও প্রযুক্তির ব্যবহার নজর কেড়েছে সবার।
এদিকে চলতি বছর যাত্রা করতে যাওয়া দক্ষিণ আফ্রিকা টি-টোয়েন্টি লিগ এবং দুবাই ভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল লিগ টি-টোয়েন্টি বেশ সাড়া ফেলে দিয়েছে। বড় বড় তারকারা নাম লিখিয়েছেন এই দুই টুর্নামেন্টে।
অথচ ফিক্সিং বিতর্কে দ্বিতীয় আসর শেষে এক বছর মাঠেই গড়ায়নি বিপিএল। পারিশ্রমিক বকেয়া নিয়েও আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে নেতিবাচক শিরোনাম হত নিয়মিত।
প্রতিবছর মালিকানা বদল, ক্রিকেটারদের সাথে ফ্র্যাঞ্চাইজিদের ঝামেলায় দ্রুতই মান কমেছে বিপিএলের।