বাংলাদেশে আসতে পারেন ব্রাজিলিয়ান ‘পোষ্টার বয়' নেইমার জুনিয়র। এ তারকাকে শুভেচ্ছাদূত হিসেবে আনতে চায় বাংলাদেশের ফুটবল ক্লাব বসুন্ধরা কিংস।
নেইমারের প্রচারের দায়িত্বে থাকা রবিন মিয়ার মাধ্যমেই এ অসম্ভবকে সম্ভব করার চেষ্টায় নেমেছে তারা।
নেইমারের জীবনে বড় একটা অংশ জুড়ে রয়েছে বাংলাদেশি তরুণ রবিন মিয়া। কাতার বিশ্বকাপের সময় দুজনের বন্ধুত্বের কথা উঠে এসেছিলো মিডিয়ায়।
আর এ সুযোগটাই কাজে লাগাতে চাচ্ছে বসুন্ধরা কিংস। এরইমধ্যে প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি ইমরুল হাসান রবিনের সঙ্গে এক বিশেষ সাক্ষাত করেছেন।
নেইমারকে কোনোভাবে বাংলাদেশের ফুটবলের সঙ্গে যুক্ত করা যায় কিনা- এটাই ছিলো তাদের আলোচনার বিষয়।
বসুন্ধরা কিংসের সভাপতি জানান, নেইমারকে স্পোর্টস কমপ্লেক্স উদ্বোধনের দিনে আনা যায় কিনা-এমন চিন্তাভাবনা তাদের মাথায় আছে। তবে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় নি।
বসুন্ধরা গ্রুপের ক্লাব বসুন্ধরা কিংস বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে বেশ উজ্জ্বল নাম। অভিষেকের পর থেকে টানা তিনবারের লিগ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে তারা।
এছাড়া দেশের ফুটবল উন্নয়নে অসামান্য ভূমিকা রেখে যাচ্ছে বসুন্ধরা গ্রুপ। শুধু কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নিয়েছে।
বাংলাদেশের ফুটবলে প্রথমবারের মতো ইউরোপিয়ান কোনো দেশের জাতীয় দলে খেলা ফুটবলারও উপহার দিয়েছে কিংস।
ভালো খেলোয়াড়ের সঙ্গে ভালো অনুশীলনের মাঠ, ভালো কোচিং স্টাফ, আবাসন, মেডিকেল টিম ও পুনর্বাসন ব্যবস্থা সবই রেখেছে তারা।
এছাড়া দেশের প্রথম স্পোর্টস কমপ্লেক্সও নির্মাণ করেছে বসুন্ধরা কিংস। সেটি উদ্বোধনের জন্য নেইমারকে আনার পরিকল্পনা করছে এখন।
প্রায় তিন হাজার একর জমির উপর ১৫ হাজার কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মাণ করা হচ্ছে স্পোর্টস কমপ্লেক্স বসুন্ধরা কিংস এরেনা।
যেখানে ফুটবলের পাশাপাশি ক্রিকেট, হকি, শুটিং, ভলিবল, হ্যান্ডবল, টেনিস, স্কোয়াশ, সুইমিংসহ অনেক খেলার সুবিধা থাকছে। রয়েছে ওয়ার্টার পার্ক আর কিডস জোনও।
কিংস এরেনায় গেলে পাওয়া যাবে আন্তর্জাতিক মানের ক্লাব স্টেডিয়ামের স্বাদ। যেখানে রয়েছে কংক্রিটের গ্যালারি ও নয়নাভিরাম মাঠ।
হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে দলগুলোর জন্য রয়েছে সুন্দর দু’টি ডাগআউট। স্টেডিয়ামের ভেতরে আর্সেনাল, বার্সেলোনার মতো আছে ড্রেসিং রুম। ম্যানেজারদের জন্যও তৈরী করা হয়েছে আলাদা কক্ষ।
বসুন্ধরা কিংসের সভাপতি ইমরুল হাসান বলেন, ফিফা এবং এএফসির গাইডলাইন অনুযায়ী এই ফুটবল স্টেডিয়াম তৈরী করেছেন তারা।
তার মতে, শুধু দক্ষিণ এশিয়া নয়, পুরো এশিয়ার অনেক ক্লাবেরই এমন স্টেডিয়াম নেই। খুব যত্ন সহকারে মাঠ তৈরী করা হয়েছে। যে কোন আন্তর্জাতিক ম্যাচ এখন এই মাঠে হতে পারে।
সব মিলিয়েই দেশের ফুটবলে নতুন রাজা হয়ে উঠেছে কিংস। আর এবার নেইমারকে আনতে পারলে তাদের রাজত্ব আরো পাকাপোক্ত হবে।
বাংলাদেশের ফুটবল উন্নয়নে বসুন্ধরা গ্রুপের প্রচেষ্টাতে দারুণ খুশি রবিন। তাই নেইমারকে আনার ব্যাপারে তিনিও আগ্রহী।
রবিন মিয়া বলেন, ‘নেইমারকে যদি বাংলাদেশের কোনো কোম্পানির শুভেচ্ছাদূত হিসেবে কাজ করানো হয়, সেক্ষেত্রে অবশ্যই বসুন্ধরা গ্রুপের নাম আসবে সবার আগে।
নিজের জায়গা থেকে তিনি চেষ্টা করছেন একটা সম্পর্ক তৈরি করার। সবকিছু মিলে প্রাথমিক আলোচনা চলছে। এখনও চূড়ান্ত কিছু হয়নি।
বাংলাদেশে নিজের অসংখ্য ফ্যান-ফলোয়ারের কথা নেইমারেরও অজানা নয়। ব্রাজিলের একটি ইন্টারনেট সাইটে নেইমারের ফ্যান সংখ্যা প্রকাশ করা হয়।
সেখানে ব্রাজিলের পরেই বাংলাদেশি ফ্যানদের অবস্থান। ভক্তদের ভালোবাসার প্রতিদান দিতে এই তারকা বাংলাদেশে আসেন কিনা সেটাই এখন দেখার বিষয়।