মাঠের ক্রিকেটের চেয়ে মাঠের বাইরেই বেশি জমে উঠেছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগের নবম আসর!
বিসিবি কর্মকর্তা আর খেলোয়াড়দের কথার লড়াইয়ে সরগরম দেশের ক্রিকেট পাড়া।
এবার সেই কথার লড়াই যেন সবকিছুকেই ছাড়িয়ে গেলো।
স্বয়ং সাকিব আল হাসানকে বিপিএলের প্রধান নির্বাহী পদে আসীন হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল!
তবে এর জন্য জুড়ে দেওয়া হয়েছে কঠিন এক শর্ত। বিপিএলের দ্বায়িত্ব নিতে হলে খেলা ছেড়ে দিতে হবে সাকিব কে।
সাকিব যদি বিপিএল আয়োজনের জন্য রাজি থাকেন , তবে বিসিবির তরফ থেকে তাকে স্বাগত জানানো হবে বলে জানিয়েছেন- বিসিবি পরিচালক ও বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের চেয়ারম্যান শেখ সোহেল!
ঘটনার সূত্রপাত গত ৪ জানুয়ারি সাকিব আল হাসানের একটি প্রেসমিটের মাধ্যমে। সেদিন " Gulf oil Bangladesh Ltd " নামক একটি প্রতিষ্ঠানে একদিনের জন্য সিইও হয়েছিলেন সাকিব। তখন নিজের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে উঠে আসে বিপিএল প্রসঙ্গ।
বিপিএলের আয়োজনে বিসিবির অব্যবস্থাপনা বিষয়ে সাকিবের দৃষ্টি আকর্ষন করা হয়েছিলো, সাকিবও কোন রাখ-ঢাক না রেখে বিপিএলকে বলেন যা-তা টূর্ণামেন্ট।
ঢাকা ডিভিশন লীগের সাথে তুলনা দিয়ে বলেন, এরচেয়ে ঢাকা প্রিমিয়ার লীগ সুন্দর ভাবে আয়োজন হয়।
বিপিএল আয়োজনে বিসিবির সৎ ইচ্ছার অভাব উল্লেখ করে সাকিব বলেন, তাকে বিপিএলের দ্বায়িত্ব দেওয়া হলে দুই মাসেরও কম সময়ে বিপিএলকে একটি মান সম্মত টূর্ণামেন্টে পরিণত করবেন তিনি!
জবাবে পরদিন- বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ইসমাইল হায়দার মল্লিক গণমাধ্যম কে বলেন, বিসিবির সীমাবদ্ধতা জানা থাকলে সাকিব এমন মন্তব্য করতেন না।
গুঞ্জন উঠে সাকিব আল হাসানের বিরুদ্ধে কঠিন পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে বিসিবি!
কিন্তু একই দিন বাংলাদেশ দলের সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা সাকিবের সাথে একাত্মতা পোষন করে বলেন, "আমি সাকিবের সাথে পুরোপুরি একমত"!
বিপিএল কে হ-য-ব-র-ল টূর্ণামেন্ট উল্লেখ করে তিনি বলেন, " আপনি খালি চোখে দেখলে দেখবেন একই মাঠে অনুশীলন হচ্ছে, সবকিছু হচ্ছে। এটা হ-য-ব-র-ল ব্যাপার বলতে পারেন।"
এতো সব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল সাকিব কে বিপিএলের সিইও পদে আসীন হওয়ার জন্য নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করে বিসিবি।
বিপিএলের প্রথম ম্যাচ শেষে বিসিবির মিডিয়া রুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ সোহেল বলেন, " সাকিবকে অবশ্যই স্বাগত জানাই। আমরা তো পারলে এখনই তাকে সিইও করে দেই। এখন তো সে খেলছে, তাকে খেলোয়াড়ের দৃষ্টিতেই দেখতে হবে। এবার তো সে খেলা ছেড়ে আসতে পারবে না। পরের বছর সে চলে আসুক।
বলিউডের বিখ্যাত "নায়ক" সিনেমার উদাহরণ টেনে সাকিব বলেছিলেন, ইচ্ছা থাকলে একদিনেই সব পাল্টে দেওয়া সম্ভব!
সাকিবের এমন কথার জবাবে শেখ সোহেল বলেন, " সিনেমা এবং বাস্তবতা এক জিনিস নয়।' তিনি বলেন, "সিনেমা দেখে তো বাস্তবতা হয় না। আর গভর্নিং বডির এখানে কোন ভূমিকা নেই।"
এসময় সাকিবের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলে ,বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ,ইসমাইল হায়দার মল্লিক বলেন, " আমি তো দেখি সাকিব প্রিমিয়ার ডিভিশনের অনেক খেলায় অংশ নেয় না, কিন্তু বিপিএলের কোন ম্যাচ বাদ দিতে দেখিনি!
সাকিবের মতো ক্রিকেটার যদি নিয়মিত ঘরোয়া ক্রিকেট খেলতো, তাহলে দেশের ক্রিকেটের মান আরও বৃদ্ধি পেতো।
সাকিবের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি-না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, "এই রকম কোন চিন্তা ভাবনা আপাতত আমাদের নেই। সে তো আমাদের-ই লোক৷ পরিবর্তন আমরাও চাই।
কিন্তু একটা জিনিস আমাদের মাথায় রাখতে হবে আমাদের অর্থনৈতিক কাঠামোটা কি? আমরা সবাই একই পরিবারের। ভিন্ন মত থাকতেই পারে।
প্রসঙ্গত, গত ৬ জানুয়ারি মাঠে গড়িয়েছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগের নবম আসর।
ডিআরএস সুবিধা না থাকা, সম্প্রচার সত্ত্ব বিক্রি করতে না, মিরপুর কেন্দ্রীক বিপিএল আয়োজন, আন্তর্জাতিক তারকাদের বিপিএলমুখি করতে না পারা সহ- নানা অব্যবস্থাপনা ঘিরে ধরেছে বিপিএলকে।
এসব নিয়ে মাশরাফি, সাকিব ছাড়াও তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে।