রক্ষনশীল সৌদি আরব সময়ের সাথে সাথে খোলস ছেড়ে বের হচ্ছে। এবার সৌদি আরবের প্রথম নারী রেফারি হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন আনুদ আল আসমারি।
প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক ফুটবলে দেশটির নারী রেফারি হিসেবে ফিফার নিয়োগ পেয়েছেন তিনি।
সৌদি আরবে এমনিতেই খেলাধুলার বিস্তার খুব একটা ছিলো না। শুধুমাত্র ছেলেদের ফুটবল নিয়েই যা একটু আলোচনা হত।
তবে সম্প্রতি এই খাতগুলোতে নজর দিয়েছে সৌদি সরকার। কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বকে সে বার্তাও দিয়েছে তারা।
এর আগে গত বছর আন্তর্জাতিক অভিষেক হয়েছে সৌদি আরব নারী দলের। তার এক বছরের মাথায় আন্তর্জাতিক নারী রেফারি পেয়ে গেল মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি।
বার্তা সংস্থা এএফপিকে আনুদ আল আসমারি নিজের আনন্দ, উচ্ছ্বাসের কথা জানিয়েছেন। ৩৪ বছর বয়সী এই নারী রেফারি বলেন, "সৌদি আরবের খেলাধুলার ইতিহাসে প্রথম নারী রেফারি হিসেবে আন্তর্জাতিক ব্যাজ পেয়ে আমি আনন্দিত।"
তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল- যদি পুরুষদের ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব পান তবে কেমন লাগবে?
জবাবে আসমারি বলেছেন, দায়িত্ব পাওয়ার আগ পর্যন্ত এসব নিয়ে ভাবছেন না তিনি, কিছু বলতেও চান না।
সৌদি গেজেটের তথ্য অনুসারে আসমারি ২০১৮ সালে রেফারি ক্যারিয়ার শুরু করেন। ওই সময় সৌদি নারী ফুটবল দলের কয়েকটি ম্যাচ পরিচালনা করেছেন তিনি।
আগামী ২০৩০ বিশ্বকাপের সহ আয়োজক হতে চায় সৌদি আরব। ২০২৬ সালের নারী বিশ্বকাপ আয়োজনের আগ্রহ প্রকাশ করে ইতোমধ্যে আবেদনও করেছে দেশটি। সে লক্ষ্যেই নিজেদের ফুটবল কাঠামো সংস্কারে নেমেছে তারা।
মূলত ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের মেগা প্রকল্পের অংশ এসব। সৌদির ক্লাবে তারকা ফুটবলার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর যোগ দেওয়াও সে দিক থেকে ইতিবাচক ব্যাপার।
এদিকে কাতার বিশ্বকাপেই নারী রেফারিরা ইতিহাস গড়েছেন। গ্রুপ পর্বে জার্মানি-কোস্টারিকা ম্যাচ দিয়ে প্রথমবার পুরুষদের বিশ্বকাপে নারী রেফারি অধ্যায় শুরু হয়।
ম্যাচটি পরিচালনা করেন ফ্রান্সের নারী রেফারি স্টেফানি ফ্রাপা। তার সহযোগীরাও ছিলেন নারী।
স্টেফানিকে সাহায্য করেছেন ব্রাজিলের নেওজা ব্যাক ও মেক্সিকোর ক্যারেন দিয়াজ। ভিডিও রিভিউ টিমের চতুর্থ অফিশিয়াল হিসেবে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাথরিন নেসবিট।
স্টেফানি অবশ্য পুরুষদের ম্যাচ পরিচালনা করেছেন আরও আগেই। নিজ দেশের ফুটবল লিগের পাশাপাশি অন্য দেশের লিগেও তাকে দেখা গেছে।
২০১৯ সালে পুরুষদের উয়েফা কাপ, চ্যাম্পিয়নস লিগেও প্রথম নারী হিসেবে ম্যাচ পরিচালনার কীর্তি গড়েছেন। ২০২২ সালে ফ্রেঞ্চ কাপ ফাইনালেও বাঁশি হাতে বিচরণ করেছেন স্টেফানি ফ্রাপা।
বাংলাদেশের পুরুষ ফুটবলেও ২০২১ সালে যাত্রা করেছে নারী রেফারি। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে উত্তর বারিধারা ও আরামবাগ ক্রীড়া সংঘের ম্যাচে এই কীর্তি গড়েন সালমা আক্তার।
এর আগে ২০২০ সালেই সালমা আক্তার অর্জন করেন ফিফার সহকারী রেফারির স্বীকৃতি। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েই এই যোগ্যতা অর্জন করেন তিনি।
সালমার বাঁক বদলের গল্পটাও দুর্দান্ত। খেলোয়াড় হিসেবে নিজের ফুটবল ক্যারিয়ার সমৃদ্ধ করার সুযোগ পাননি। বয়সভিত্তিকে এথলেটিক আর হ্যান্ডবলের পাশাপাশি খেলতেন ফুটবল।
নেত্রকোনার এই যুবতীকে রেফারিংয়ে নিয়ে আসেন তার গ্রামেরই আরেম ফিফা রেফারি- ফেরদৌস আহমেদ। এথলেটিক ও রানিংয়ে তার প্রতিভা দেখে ফেরদৌসের মনে হয়েছিল রেফারিংয়ের জন্যই উপযুক্ত সালমা।
সেভাবেই তার পরিবারে সুপারিশ করেন তিনি। এরপর বাকি গল্পের পূর্ণতা পেতেও সময় লাগেনি খুব বেশি।
তবে নারীদের আন্তর্জাতিক ম্যাচ পরিচালনায় বাংলাদেশের প্রথম নারী রেফারি জয়া নামের আরেকজন। বিভিন্ন ধাপে কোচিং কোর্স শেষে জয়া ২০১৯ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ফিফার স্বীকৃতি পান।