বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ- বিপিএল যেন বিতর্কের সমার্থক শব্দ।
প্রায় এক যুগের যাত্রা দেশের একমাত্র ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি লিগটির, অথচ সময়ের সাথে উন্নতির চেয়ে মানের দিক থেকে অবনতিই হয়েছে।
নবম আসর মাঠে গড়িয়েছে গত ৬ জানুয়ারি। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে থেকেই লেগে আছে বিতর্ক। মাঠের ক্রিকেট শুরু হতেই একের পর এক কান্ডে সমালোচনার জায়গা বড় হচ্ছে।
প্রথম দুইদিনেই যেমন বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটে গেলো। গত শুক্রবার উদ্বোধনী দিন প্রথম ম্যাচের ঘন্টা দেড়েক আগেই জানানো হয় সূচি বদলে যাচ্ছে।
এরপর টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় দিনই আম্পায়ারিং বিতর্ক আলোচনার জন্ম দেয়। অধিনায়ক নিয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর যে অপেশাদারিত্ব দেখা যাচ্ছে, তাও দৃষ্টিকটু।
তবে সব ছাপিয়ে বিপিএল সামগ্রিকভাবে বিতর্কিত হয়েছে কয়েকটি কারণে।
যেখানে অন্যতম ইস্যু ছিল ক্রিকেটারদের বকেয়া পাওনা। ২০১২ সালে উদ্বোধনী আসরে ১৩ জন কাউন্টি ক্রিকেটারের পারিশ্রমিক বকেয়া ছিল। এমন খবর প্রকাশ করে ইংল্যান্ডের জনপ্রিয় সংবাদ মাধ্যম 'দ্য গার্ডিয়ান'।
বিদেশি ক্রিকেটারদের পাশাপাশি দেশি ক্রিকেটারদের বকেয়া পাওনা পরিশোধ হয় ২০১৫ সালে। দেশের ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিসিবি দায়িত্ব নিয়ে এই বকেয়া পাওনা মিটিয়েছিল।
সাম্প্রতিক আসরগুলোতে ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক ইস্যুতে বিতর্ক কমেছে। এ ক্ষেত্রে বিসিবির ভূমিকা প্রশংসনীয়।
টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় আসর মাঠে গড়ায় ২০১৩ সালে। এখনো পর্যন্ত বিপিএল ইতিহাসে সবচেয়ে বিতর্কিত ঘটনা সেবারই ঘটেছে। সেই আসরে ম্যাচ ও স্পট ফিক্সিং কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে নিষিদ্ধ হন মোহাম্মদ আশরাফুল।
এক সময়কার তারকা ও জনপ্রিয় ক্রিকেটার আশরাফুলের এমন কান্ডে অবাক হয়েছিল ভক্ত সমর্থকরা। তার ফিক্সিংয়ের সাথে জড়ানোর খবর শুধু বিপিএল নয়, দেশের ক্রিকেটেই দারুণ আলোচিত ইস্যু।
বিপিএলে আম্পায়ারিং বিতর্ক বেশ পুরনো। এই বিতর্কে সাকিব আল হাসানের নাম আসে বেশির ভাগ সময়। চলতি বিপিএলেই যেমন নিজেদের প্রথম ম্যাচে সাকিব মেজাজ হারান আম্পায়ারের সাথে।
এবারের আসরে আম্পায়ার হিসেবে অবশ্য দেখা যাচ্ছে ইংল্যান্ডের ডেভিড মিলনস ও শ্রীলঙ্কার রবীন্দ্র ভিমালাশ্রীকে।
এরপর বিপিএল বিতর্কের বড় ইস্যু ডিআরএস। আধুনিক ক্রিকেটে বিশ্বজুড়ে চলা ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ গুলোতে আকর্ষণ বাড়াচ্ছে উন্নত মানের ব্রডকাস্ট, প্রযুক্তির ব্যবহার।
তবে এ দিক থেকে বরাবরই পিছিয়ে আছে বিপিএল। গত বারের মতো এবারও শুরু থেকে পাওয়া যাচ্ছে না ডিআরএস। যার বিকল্প হিসেবে নেয়া হয়েছে এডিশনাল ডিসিশন রিভিউ সিস্টেম- এডিআরএস।
চলতি আসরে খুলনা ও ঢাকার মধ্যকার ম্যাচে সৌম্য সরকারের নট আউট বিতর্কে ডিআরএস নতুন সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
এ নিয়ে খুলনা টাইগার্সের পেসার পল ভ্যান মিকিরেন সংবাদ সম্মেলনে হতাশা প্রকাশ করেন।
বিপিএলের আরও একটি বিতর্কিত ব্যাপার হল হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে ভেন্যু না থাকা। বিষয়টি নিয়ে শুরু থেকেই ইতিবাচক কথা বলে আসছিল বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল।
কিন্তু নবম আসরও মাঠে গড়াচ্ছে ঘুরে ফিরে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটে।
আসর শুরুর আগে সাকিব বিপিএল নিয়ে যে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন, সেখানেও হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে ভেন্যুর বিষয়টি ছিল।
সাকিবের দাবি তিনি বিপিএলে সিইও'র দায়িত্ব পেলে এক মাসেই অব্যবস্থাপনা বদলে দিতেন। তার জবাবে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলও পাল্টা মন্তব্য করে।
সংবাদ সম্মেলন করে সাকিবকে সামনের আসর থেকে বিপিএলের দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
তার আগে বিসিবি সিইও নিজাম উদ্দিন চৌধুরী সংবাদ মাধ্যমে বলেছেন বিসিবির সীমাবদ্ধতা জানা থাকলে সাকিব এমন মন্তব্য করতেন না।
শুধু সাকিব নয়, টুর্নামেন্ট শুরুর আগে দেশের অন্যতম সফল অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজাও বলেছেন খালি চোখে বিপিএল হ-য-ব-র-ল।