বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের আম্পায়ারিং মানসম্মত হয় না, এমন অভিযোগ বহুদিনের। আর এবার সেই আগুনে যেন ঘি ঢাললো, বিপিএলের নবম আসরের প্রথম কয়েকটি ম্যাচ।
গত ৭ জানুয়ারি, বরিশাল-সিলেটের ম্যাচে ভুল করে বিতর্কের জন্ম দেন, আম্পায়ার মাহফুজুর রহমান লিটু।
ঐদিন বরিশালের ইনিংসের ১৬তম ওভারে বল করছিলেন, সিলেট স্ট্রাইকার্সের পেসার রেজাউর রহমান রাজা।
তার করা বলটি ব্যাটিংয়ে থাকা সাকিবের মাথার প্রায় ২ ফুট ওপর দিয়ে যায়, যাকে অনায়াসেই হয়তো ওয়াইড দেওয়া যেত।
কিন্তু দায়িত্বে থাকা আম্পায়ার ওয়াইড ডাকেননি। ওয়াইড দাবি করে, সাকিব মাঠেই আম্পায়ারের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। এমনকি ক্ষুব্ধ হয়ে চিৎকার করে আম্পায়ারের দিকে তেড়ে যান।
তবে তেড়ে গেলেও গতবারের মতো বড় কোনো অঘটন ঘটাননি তিনি। শুধু ঝাঁঝালো কণ্ঠে বাক্য বিনিময় করে ফিরে যান ক্রিজে।
তবে আম্পায়ারিং নিয়ে এর চেয়ে বাজে দৃষ্টান্ত তৈরি হয়েছে মিরপুরে ঢাকা ডমিনেটরস আর খুলনা টাইগার্সের ম্যাচে।
সেই ম্যাচে ঢাকার টপ অর্ডার ব্যাটার সৌম্য সরকারের আউট নিয়েও উঠেছিলো নানা প্রশ্ন। এমনকি বিতর্কিত হয়েছেন টিভি আম্পায়ারও।
খুলনার দেওয়া ১১৪ রানের টার্গেটে ব্যাটিং করতে নামে ঢাকা। কিন্তু ইনিংসের ৬ষ্ঠ ওভারেই শুরু হয় বিতর্ক।
নাসুম আহমেদের করা ওই ওভারের তৃতীয় বলে, ডমিনেটরস ব্যাটসম্যান সৌম্য সরকারকে এলবিডব্লিউ আউট দেন আম্পায়ার গাজী সোহেল।
তবে সঙ্গে সঙ্গে রিভিউ নেন সৌম্য। ব্যাটার রিভিউ নিলে স্লো-মোশন দেখে মনে হয়, পায়ে লাগার আগে গ্লাভসে লেগেছিলো সেই বল!
তবে ডিআরএস না থাকায় নিশ্চিত হওয়ার উপায় ছিলো না। তাই টিভি আম্পায়ারের সঙ্গে কথা বলে, ফিল্ড আম্পায়ার আবারও আঙুল উচিয়ে আউট কল দেন।
তবে এখানেই শেষ নয়, নাটকের তখনো বাকি ছিলো। আউট দেওয়ায় মাঠেই আম্পায়ারের সঙ্গে তর্ক জুড়ে দেন সৌম্য। বারবার দাবি করেন, বল তার গ্লাভসে লেগেছে।
তার দাবির মুখে মাঠে থাকা আম্পায়ার, পুনরায় টিভি আম্পায়ারের সাথে যোগাযোগ করেন। দ্বিতীয়বার চেক করার পর সিদ্ধান্ত বদল করে, নট আউট ঘোষণা করেন আম্পায়ার।
এবার সেটি নিয়ে আপত্তি জানায় খুলনা। দলের অভিজ্ঞ ক্রিকেটার তামিম ইকবালের সঙ্গে কথা কাটাকাটিও হয় আম্পায়ারের।
এমন সিদ্ধান্তহীনতার কারণে হতাশা প্রকাশ করেন বাংলাদেশ দলের ওয়ানডে অধিনায়ক। অনেকটা সময় আম্পায়ারের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায় তামিমকে। তবে শেষ পর্যন্ত নট-আউটের সিদ্ধান্তই বহাল থাকে।
একই টিভি আম্পায়ার একজন ক্রিকেটারকে আউট দেওয়ার পর, আবার নট আউট দেওয়ার এমন ঘটনা ক্রিকেট বিশ্বে বিরল।
এছাড়াও ওয়াহাব রিয়াজের করা একটি বল নিয়েও দেখা দিয়েছিল বিতর্ক। ক্রিকেটের আইন অনুযায়ী, নো বল না হলেও সেটি কল করেন আম্পায়ার। দাগের পিছনে পায়ের অংশ থাকা সত্ত্বেও ফ্রি হিট দেন তিনি।
অবশ্য বিপিএলে আম্পায়ারিং বিতর্ক নতুন কিছু নয়। গত আসরেও বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণে মেজাজ হারিয়ে, আম্পায়ারদের সঙ্গে কয়েকবার তর্কে জড়িয়েছিলেন অলরাউন্ডার সাকিব।
এমনকি আগের আসরগুলোতে মাঠে বাজে আম্পায়ারিংয়ের কড়া প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে, জরিমানাও গুনেছেন অনেক খেলোয়াড়েরা।
যার ফলে স্বাভাবিকভাবেই আম্পায়ারিং নিয়ে চিন্তিত বেশির ভাগ দল। ডিআরএস নিয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছিলো বিসিবিকেও।
তবে তাদের দাবি, অন্যান্য দেশে ফ্রাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট থাকার কারণে পাওয়া যায়নি এই প্রযুক্তি।