বছরের প্রথম সুপার এল ক্ল্যাসিকোতে, রিয়াল মাদ্রিদকে ৩-১ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়ে, স্প্যানিশ সুপার কাপের ফাইনাল জিতে নিয়েছে বার্সেলোনা।
এর মাধ্যমে স্প্যানিশ সুপার কাপে ১৪তম শিরোপা জিতেছে দলটি। এইদিন বার্সার হয়ে অসাধারন নৈপুন্য দেখিয়েছেন দুই তারকা লেভানদোভস্কি এবং গাভী।
এছাড়া বার্সার হয়ে অপর গোলটি করেছেন পেদ্রী। তবে ম্যাচের একদম অন্তিম মুহুর্তে, দলের হয়ে একমাত্র গোলের দেখা পেয়েছেন মাদ্রিদ তারকা করিম বেনজেমা।
বছর কয়েক আগেই মাদ্রিদ এবং বার্সেলোনা থেকে বিদায় নিয়েছেন, তাদের সেরা তারকা রোনালদো এবং মেসি। তবে তাতে সামান্যতম কমেনি এল ক্ল্যাসিকোর উত্তাপ।
তারই ধারাবাহিকতায়, বছরের শুরুতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এল ক্ল্যাসিকো, ক্লাব ফুটবলের ভক্তদের প্রত্যাশা বাড়িয়ে দিয়েছিল বহুগুনে। সেই প্রত্যাশা একেবারেই মেটাতে পারেনি মাদ্রিদ।
এবারে সুপার কাপের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়েছিল, সৌদি আরবের কিং ফাহাদ স্টেডিয়ামে। দুই চির প্রতিদ্বন্ধীর ম্যাচে, শুরুতেই দেখা গিয়েছিল লড়াইয়ের আভাস।
বলের দখলে খানিকটা এগিয়েছিল মাদ্রিদ। তবে ম্যাচের শুরু থেকেই গোছানো আক্রমনে, প্রতিপক্ষের নাভিশ্বাস তুলে দিয়েছিল জাভি হার্নান্দেজের বার্সা।
ম্যাচের মাত্র ১৩ মিনিটের মাথায় গোলের সুযোগ পেয়ে বসে বার্সা। তবে ডিবক্সের বাইরে থেকে নেওয়া লেভানদোভস্কির দুর্দান্ত শট প্রতিহত করেন মাদ্রিদ গোল রক্ষক কর্তুয়া।
এরপরই মাত্র ১৯ মিনিটের মাথায় ম্যাচে গোল করার সবচেয়ে বড় সুযোগ পায়, স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদ। তবে করিম বেনজেমার হেড অল্পের জন্যে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
এভাবে চলতে থাকে আক্রমন পালটা আক্রমনের খেলা। কাঙ্খিত গোলের দেখা মেলে ম্যাচের ৩৩ মিনিটে। ডিফেন্ডারদের ভুলে বক্সে বল পেয়ে যান বার্সা স্ট্রাইকার লেভানদোভস্কি।
তিনি বল বাড়িয়ে দেন গাভীর উদ্দেশ্যে। সেই বলে গোল করতে ভুল করেননি আঠারো বছরের এই তরুন। প্রথম গোলের পরেই ম্যাচ অনেকটা একপেশে হয়ে যায়।
প্রথমার্ধে উল্লেখযোগ্য আর কোন আক্রমন সৃষ্টি করতে পারেনি, ফেভারিট হিসেবে মাঠে নামা মাদ্রিদ। বরং শেষ মুহুর্তে আবারো গোল খেয়ে বসে তারা।
এবারেও ভুল হয় মাদ্রিদ ডিফেন্স লাইনে। ম্যান টু ম্যান মার্কিং না থাকায়, তাদের ডি বক্সে আবারো ফাকায় বল পেয়ে যান প্রথম গোল করা গাভী।
এবারে তার বাড়ানো বলে ফিনিশিং করতে ভুল করেননি লেভানদোভস্কি। প্রথমার্ধেই দুই গোল হজম করা মাদ্রিদ আর ঘুরে দাড়াতে পারেনি পুরো ম্যাচ জুড়ে।
দ্বিতীয়ার্ধে একাধিক পরিবর্তন করেও ম্যাচে ফিরে আসতে পারেনি তারা। বরং কোচ জাভির অসাধারন স্ট্রাটেজিতে একাধিক গোলের সুযোগ সৃষ্টি করে বার্সেলোনা।
ম্যাচের ৬৯ মিনিটে মাদ্রিদের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেন বার্সা ফরোয়ার্ড পেদ্রী। এবারেও গোলের পেছনে মুল কারন ছিল মাদ্রিদ ডিফেন্সের ভুল।
৩-০ গোলের ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে, শিরোপা রেস থেকে অনেকটাই ছিটকে যায় রিয়াল মাদ্রিদ। তবে এরপর তারা একাধিক গোলের সুযোগ সৃষ্টি করে।
কিন্তু প্রতিবারই বাধ সাধেন বার্সা গোল রক্ষক টের স্টেগান। ডি বক্সের বাইরে থেকে করিম বেনজেমা এবং রদ্রিগোর অসাধারন দুটি শট সেভ করেন এই জার্মান গোলকিপার।
ম্যাচের একেবারে শেষদিকে করিম বেনজেমা একটি গোল করে, দলের হারের ব্যবধান কমিয়ে আনেন। সেটি ছিল শুধুই সান্তনা।
মাদ্রিদকে ঘিরে ভক্ত সমর্থকদের প্রত্যাশা ছিল অনেক বেশি। এইদিন তাদের কপাল পুড়িয়েছে ডিফেন্সে ভুল এবং আক্রমনে ভুল স্ট্রাটেজি।
মুলত দলটি দুরপাল্লার শটে গোল করার চেষ্টা করছিল, যা পুরো ম্যাচেই ব্যার্থতা ডেকে এনেছে। সেই তুলনায় বার্সার ছোট পাসে গোল করার স্ট্রাটেজি অনেক বেশি কাজে দিয়েছে।