একটি দুর্ঘটনা সারাজীবনের কান্না। প্রচলিত কথাটি হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন ভারতীয় উইকেট কিপার ব্যাটার- রিশাব পান্ট। সম্প্রতি গাড়ি দুর্ঘটনায় পড়ে কোনোমতে প্রাণে বেঁচেছেন তিনি।
তবে সবধরনের ক্রিকেট থেকে তাকে বাইরে থাকতে হতে পারে অন্তত ১৮ মাস। এমনটাই জানাচ্ছে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম 'নিউজ এইটিন''।
এ ছাড়া ক্রিকেটভিত্তিক ওয়েবসাইট ইএসপিএন ক্রিকইনফো বলছে, ২০২৩ সাল পুরোটাই পান্টের ক্রিকেট ক্যারিয়ার থেকে বাদ পড়তে পারে।
তাদের প্রতিবেদন অনুসারে, বিসিসিআইয়ের মেডিকেল বিভাগের তথ্য বলছে- পান্টের তিনটি লিগামেন্ট ছিঁড়ে গেছে। যার দুইটি সম্প্রতি সার্জারির মাধ্যমে ঠিক করা হয়েছে। তবে তৃতীয়টির সার্জারি হবে অন্তত ৬ সপ্তাহ পর।
চোটের ধরণ সম্পর্কে ধারণা নিয়ে 'নিউজ এইটিন' বলছে, পুরোপুরি সেরে উঠতে এই কিপার ব্যাটারের লাগতে পারে ১৮ মাস।
এমন কিছু হলে ২৫ বছর বয়সী এই তরুণের খেলা হবে না আইপিএলের এবারের মৌসুম, ঘরের মাঠে ওয়ানডে বিশ্বকাপ, ২০২৪ সালের আইপিএল ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ।
মুম্বাইয়ের কোকিলাবেন ধিরুভাই আম্বানি হাসপাতালে বর্তমানে চিকিৎসা নিচ্ছেন পান্ট। তার আগে ভর্তি ছিলেন দেহরাদুনের ম্যাক্স হাসপাতালে।
সেখান থেকে বিসিসিআইয়ের ব্যবস্থাপনায় এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তকে পরবর্তী চিকিৎসার জন্য মুম্বাই নেওয়া হয়। হাসপাতাল থেকে মুক্ত হলে তাকে বেঙ্গালুরে ন্যাশনাল ক্রিকেট একাডেমিতে পাঠানো হবে। সেখানেই চলবে লম্বা পুনর্বাসন প্রক্রিয়া।
পান্টের চিকিৎসার সাথে সংশ্লিষ্ট একজন 'নিউজ এইটিন' কে জানিয়েছেন, উইকেট কিপার হওয়াতেই সময়টা বেশি লাগবে।
কারণ মাঠে তাকে প্রচুর নড়াচড়া করতে হয়। ডানে-বাঁয়ে লাফ-ঝাঁপ দেওয়ার ফলে হাঁটুর লিগামেন্টে প্রচুর চাপ পড়ে। তাই কোনোভাবেই ঝুঁকি নিয়ে পান্টকে মাঠে নামানো সম্ভব না।
সত্যিই ১৮ মাস সময় লাগলে পান্ট নিশ্চিতভাবেই মিস করবেন বেশ কিছু মেগা ইভেন্ট। এর মাঝে আছে দুইটি বিশ্বকাপ, দুইটি আইপিএল ও একটি এশিয়া কাপ। পাশাপাশি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের চক্র তো আছেই।
পান্টকে ছাড়া ভারতীয় ক্রিকেট দল কঠিন সময় পার করবে। বিশেষ করে টেস্ট ফরম্যাটে মিডল অর্ডারে তার ম্যাচ জেতানো সামর্থ্য প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে। উইকেটের পেছনেও বিরুদ্ধ কন্ডিশনে দারুণ চনমনে এই কিপার।
মিডল অর্ডারে তার বিধ্বংসী ব্যাটিং অধিনায়ক ও টিম ম্যানেজমেন্টকে পাঁচ বোলার খেলানোর সুবিধা দিত। তার অনুপস্থিতিতে কম্বিনেশন ঠিক করতে প্রচুর পরীক্ষা নীরিক্ষা হবে বলে অনুমান করা যাচ্ছে।
৩৩ ম্যাচের টেস্ট ক্যারিয়ারে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে পান্ট খেলেছেন বেশ কিছু ম্যাচ জেতানো ও ম্যাচ বাঁচানো ইনিংস। ২২৭১ রান করার পথে ৫ সেঞ্চুরির বিপরীতে হাঁকিয়েছেন ১১ ফিফটি।
সামনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঘরের মাঠে ৪ ম্যাচ টেস্ট সিরিজ শুরু হচ্ছে ফেব্রুয়ারিতে। ঘোষিত স্কোয়াডে উইকেট কিপার হিসেবে আছেন ইশান কিষান ও কেএস ভারত। তবে মূল একাদশে ইশানকে দিয়ে বাজি ধরতে চাইবে টিম ম্যানেজমেন্ট।
পান্টের লম্বা সময় মাঠের বাইরে থাকার প্রভাব বেশ ভালোভাবে পড়বে দিল্লি ক্যাপিটালসে। আইপিএলে ফ্র্যাঞ্চাইজিটির অধিনায়ক, মূল কিপার ও মিডল অর্ডারের অন্যতম ভরসা তিনি।
তার না থাকাটা দলটির ভারসাম্য কমাবে বেশ খানিকটা। দলে বর্তমানে উইকেট কিপার হিসেবে আছেন ইংল্যান্ডের ফিল সল্ট।
কিন্তু বিদেশি ক্রিকেটার হওয়ায় তাকে প্রতি ম্যাচে খেলানোটা চাপে ফেলতে পারে দিল্লিকে। পাশাপাশি নতুন অধিনায়ক খুঁজে বের করাটাও চ্যালেঞ্জিং কাজ হবে ফ্র্যাঞ্চাইজিটির জন্য।
দুর্ঘটনায় পড়ে ক্রিকেটকে থেকে লম্বা সময়ের জন্য দূরে গেলেও পান্টের আর্থিক স্বার্থ রক্ষা করছে বোর্ড। আইপিএলে এবারের মৌসুমের জন্য পান্টের পেছনে ১৬ কোটি রুপি ব্যয় করার কথা দিল্লির।
কিন্তু কোনোভাবেই তার এবারের মৌসুম খেলার সম্ভাবনা নেই। তবুও নিয়ম অনুসারে বাঁহাতি এই ব্যাটারকে আইপিএলের পুরো অর্থই দিবে বিসিসিআই।
সাথে কেন্দ্রীয় চুক্তির অধীনে বার্ষিক রিটেইনশিপ বাবদ আরও ৫ কোটি টাকা দিবে বোর্ড। সবমিলিয়ে চলতি বছর কোনো ম্যাচ না খেলেই ২১ কোটি টাকা পেতে যাচ্ছেন ভারতীয় তরুণ। তার পুরো চিকিৎসা ব্যয়ও বহন করছে বিসিসিআই।
ডিসেম্বরে বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ শেষে দলের সাথে দিল্লিতে ফেরেন রিশাব পান্ট। সেখান থেকে নিজে গাড়ি চালিয়ে উত্তরখান্ডে নিজের বাড়ির উদ্দেশে রওয়ানা দেন।
৩০ ডিসেম্বর ভোরে দিল্লি-দেহরাদুন হাইওয়েতে ডিভাইডারের সাথে ধাক্কায় আগুন লাগে তার গাড়িতে। গাড়িটি দুমড়ে মুচড়ে যায়, কোনোভাবে প্রাণে বেঁচে যাওয়া পান্টকে দ্রুতই নেওয়া হয় হাসপাতালে।