ক্রিকেট ক্যারিয়ারে টিকে যাওয়ার পেছনে, সবসময়ই নিজের স্ত্রীকে ক্রেডিট দেন মাশরাফি।
বারবারই বলেন, "সুমনা হক সুমি" তার ক্যারিয়ারের, আড়ালের নায়িকা।
আর এবার স্বামীকে সুপার হাসবেন্ড বললেন মাশরাফি পত্নী।
বিপিএলে মাশরাফির দল সিলেট স্ট্রাইকার্সকে সমর্থন দিতে স্টেডিয়ামে এসেছিলেন তিনি।
সে সময় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে দেখা যায় তাকে।
মাশরাফির অধিনায়কত্বে বিপিএলে টানা চতুর্থ জয় পেয়েছে সিলেট। সুমির মতে, মাশরাফির নেতৃত্বে বিশেষ কিছু আছে।
তাঁর হাতে কোনো জাদু আছে কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে সুমি বলেছেন, ‘সব দর্শকের মতো তিনিও বিশ্বাস করেন, ম্যাশের কাছে বিশেষ কিছু একটা আছে।
সে ভাঙা দলকে কীভাবে দাঁড় করাতে হয়, সেটা ভালোভাবে জানে।’
স্বামী হিসেবে মাশরাফি কেমন, জিজ্ঞেস করলে উত্তরে সুমী সরাসরি বলেন,‘ অবশ্যই তিনি সুপার হাজবেন্ড।’
মাঠে যেমন সহখেলোয়াদের অনুপ্রেরণা, তেমনি পরিবারেও অত্যন্ত দায়িত্ববান মাশরাফি।
সর্বস্ব দিয়ে স্ত্রী-ছেলে-মেয়েকে আগলে রাখেন।
মাঠেও সেটির প্রমান দেখেছে দর্শক।
বিপিএলে ম্যাচ জয়ের পর, গ্যালারির পাশে গিয়ে জড়িয়ে ধরেছেন সন্তানদের। চুমু খেয়েছেন তাদের কপালে।
অনেক ক্রিকেটারের ব্যক্তিজীবন নিয়ে রয়েছে বিতর্ক। কিন্তু মাশরাফির নামের পাশে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ নেই।
ক্রিকেট ও সংসার, দু দিকেই সমান তালে এগিয়ে যাচ্ছেন।
ক্রিকেটটা তার কাছে চাকরির মতো, আর সংসারটা ভালোবাসার।
দুটোকে দারুণভাবে সামলাতে পেরেছেন বলেই, সবার চেয়ে মাশরাফি আলাদা।
২০০৬ সালে, সুমনা হক সুমির সঙ্গে জীবনের দ্বিতীয় ইনিংসের সূচনা করেন মাশরাফি।
তবে দুজনের মন দেওয়া নেওয়া হয়, সেই স্কুল জীবন থেকেই।
পরিবার শুরুতে রাজি ছিল না। কিন্তু মাশরাফির জেদের কাছেই হার মেনে, দুই পরিবারের সিদ্ধান্তে পরিণয় হয়।
তাদের সংসার জীবন পেরিয়ে গেছে এক যুগেরও বেশি সময়। কিন্তু প্রেমের যেন কমতি নেই।
এখনো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখা যায় দুজনের খুনসুটির গল্প।
এই দম্পতির ঘর আলো করে দুই সন্তান এসেছে। প্রথম সন্তান মেয়ে, নাম হোমায়রা মুর্তজা। ছেলের নাম সাহেল মুর্তজা।
ক্রিকেট মাঠে মাশরাফির সাফল্যে, কখনো টিভির সামনে, আবার কখনো মাঠে বসে উল্লাসে মেতেছেন সুমি।
আবার দল পরাজিত হলে কিংবা মাশরাফি ইনজুরিতে পড়লে কেঁদেছেন তিনি।
দুই সন্তানসহ সংসারের সব কিছু নিপুণ দক্ষতায় সামলিয়েছেন।
তাই সব ভুলে শুধু খেলায় মন দিতে পেরেছেন, বাংলাদেশের ওয়ানডে দলের সাবেক অধিনায়ক। কখনোই তাকে পেছনে তাকাতে হয় নি।
মাশরাফিকে অনুপ্রেরণা দেওয়ার বিষয়ে সুমি বলেছেন,‘ স্টেডিয়ামে উপস্থিত থেকে তাকে সমর্থন দেওয়ার কিছু নেই। মানসিক শান্তি দেওয়াটাই গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি তার সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেন। তার মতে, এই সমর্থন দেওয়ার জন্য প্রত্যেক খেলোয়াড়ের কেউ না কেউ আছে।’
এবার বিপিএলে মাশরাফির হাত ধরে, প্রথমবারের মতো শিরোপা জেতার স্বপ্ন দেখছে সিলেট।
নেতৃত্বের গুনে সিলেট দলটাকে যেন বদলে দিয়েছেন তিনি।
দলে তেমন তারকা ক্রিকেটার না থাকলেও, ক্রিকেটারদের থেকে সেরাটা নিয়ে সিলেটকে দুর্দান্তভাবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন মাশরাফি।
নড়াইল এক্সপ্রেসের ম্যাজিকে, সিলেট স্ট্রাইকার্সের বিপক্ষে হারতে হয়েছে, শক্তিশালী দলগুলোকেও। ঢাকায় বিপিএলের প্রথম পর্ব শেষে, সবার উপরে আছে তারাই।
তবে সিলেটের এমন দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পরও, মাশরাফিকে এককভাবে কৃতিত্ব না দিয়ে, পুরো দলের প্রশংসা করেন সুমি।