ফুটবলের বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন, আর্জেন্টিনার ক্লাবে খেলার প্রস্তাব পেয়েছেন বাংলাদেশী দুই ফুটবলার। অবিশ্বাস্য মনে হলেও এটিই এখন বাস্তবতা।
মেসিদের দেশের ক্লাবে ,খেলার প্রস্তুাব পেয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় দল ও বসুন্ধরা কিংসের ডিফেন্ডার তপু বর্মন।
বাংলাদেশের সার্জিও রামোস খ্যাত ,জাতীয় দলের ডিফেন্ডার তপু বর্মন ছাড়াও ,
মাহমুদ হাসান কিরণকে দলে বেড়াতে আগ্রহ দেখিয়েছে আর্জেন্টিনার ক্লাব।
আর্জেন্টিনার তৃতীয় বিভাগের 'টরেনো রিজিওনাল ফেডারেল অ্যামেচার' লিগের ক্লাব- সোল ডে মায়ো। এই ক্লাব থেকেই, লিগে খেলতে ডাক পেয়েছেন তপু বর্মন।
তবে এই ক্লাব ছাড়াও তাকে পেতে যোগাযোগ করেছে আর্জেন্টিনার আরো দুটি ক্লাব।
খবরটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি চাউর হলেও- তপু বর্মন এই প্রস্তাব পেয়েছেন আরো আগে।
এই বিষয়ে তপু বলেন, বেশ কিছুদিন আগেই তিনি আর্জেন্টিনার তৃতীয় বিভাগের ক্লাব, সোল ডে মায়ো থেকে খেলার আমন্ত্রণ পেয়েছেন।
সোল ডে মায়ো ক্লাব ছাড়া আরও দুটি ক্লাবও তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তবে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেননি তিনি।
বর্তমানে দেশ সেরা ক্লাব- বসুন্ধরা কিংসের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ থাকায়, ক্লাবের সঙ্গে আলোচনা করে তবেই সিদ্ধান্ত নেবেন।
জানা যায় 'সোল ডে মায়ো' ক্লাবটি ,বর্তমানে আর্জেন্টিনার তৃতীয় বিভাগের, “টরেনো রিজিওনাল ফেডারেল অ্যামেচার লিগে” খেলছে।
চতুর্থ বিভাগে খেলে একবার চ্যাম্পিয়নও হয়েছিল তারা।
শেষবার তৃতীয় বিভাগে খেলে ,পঞ্চম স্থানে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছিল মেসির দেশের ক্লাবটি।
নতুন মৌসুম শুরুর আগে তাই নতুন করে দল গোছাতে ব্যস্ত তারা।
এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশী ফুটবলারদের উপর নজর দিয়েছে ক্লাবটি।
ক্লাবের বর্তমান অবস্থান জানিয়ে তপু বর্মন জানিয়েছেন, ক্লাবটির প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতি চলছে এখন। এ বছরের মার্চে, নতুন করে লিগ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে তাদের।
আর্জেন্টিনার মত দেশ থেকে পাওয়া প্রস্তাব হাতছাড়া করতে, তপুকে বরাবরই নিষেধ করেছেন শুভাকাঙ্খীরা।
তবে ক্লাবের অনুমতি ছাড়া কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন না তিনি, এমনটিই জানিয়েছেন গণমাধ্যমে।
ডিসেম্বরের শেষ দিকে মূলত আর্জেন্টিনার তৃতীয় বিভাগের ক্লাবটি ,তপুর সঙ্গে যোগাযোগ করে বলে জানিয়েছেন, জাতীয় দলের রক্ষণভাগের এই ফুটবলার।
এদিকে তপু বর্মন শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার ক্লাবে খেলতে যাবেন কিনা, সেটি ধোঁয়াশায় রয়েছে।
তবে মেসিদের দেশের কোনো ক্লাব থেকে খেলার প্রস্তাব পাওয়াকেই, বড় ব্যাপার হিসেবে দেখছেন ফুটবলপ্রেমীরা।
প্রথমবারের মতো কোনো বাংলাদেশী ফুটবলার আর্জেন্টিনায় খেলার প্রস্তাব পেলেও, বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ খেলতে নিয়মিতই আসেন আর্জেন্টাইন ফুটবলাররা।
লিগের স্তরের তারতম্য থাকলেও, মানগত দিকে বাংলাদেশ এবং আর্জেন্টিনার লীগের মধ্যে, কোনো পার্থক্য নেই বলে মনে করেন তপু বর্মন।
তিনি মনে করেন, বাংলাদেশে যেসব ব্রাজিলিয়ান ও আর্জেন্টাইন আসেন- তারা মূলত তৃতীয় ও দ্বিতীয় বিভাগ স্তরের ফুটবলার।
তাদের তৃতীয় বিভাগ লিগ বাংলাদেশের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়- বলে মনে করেন তিনি।
তার প্রস্তাব পাওয়ার পেছনের কারণ হিসেবে, বাংলাদেশে আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়দের উপস্থিতিই ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করেন তপু বর্মন।
তিনি বলেন , ‘গত কয়েক বছর ব্রাজিল, আর্জেন্টিনার অনেকেই আমাদের কিংসে খেলেছে।
এজন্য কিংসের ম্যাচ এবং আমাদের লিগ, ব্রাজিল-আর্জেন্টিনায় অনুসরণ করা হয়।
সেখান থেকেই মূলত তাদের এই প্রস্তাব দেয়ার ধারণা।’
এদিকে কাতার বিশ্বকাপ জয়ের পর দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশে আসতে পারে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা।
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের আমন্ত্রণে ,আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ,মঙ্গলবার বাংলাদেশে আসার আগ্রহের কথা জানিয়েছে ।
সবকিছু ঠিক থাকলে এই বছরের জুনে ,বাংলাদেশে পা রাখতে পারেন লিওনেল মেসিরা।