আর্জেন্টিনা দল বাংলাদেশে আসছে, বাফুফের এক কর্মকর্তার এমন বার্তার পরই, আলোচনা সমালোচনার ঝড় ওঠে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সহ গণমাধ্যমগুলোতে।
তবে, সব আলোচনা যেনো শেষ হয়ে গেছে মাত্র এক দিনের ব্যবধানেই। আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনের ঘোষণা দিয়েও, পরবর্তীতে সেটি স্থগিত করে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন।
আর্জেন্টিনার শীর্ষ সংবাদমাধ্যম 'টিওয়াইসি স্পোর্টস' এর সাংবাদিক, গাস্তুন এদুলের এক টুইট ভাইরাল হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
সেই টুইট বার্তায় গাস্তুন জানান, আর্জেন্টিনার ফুটবল এসোসিয়েশনের সাথে বাংলাদেশের কোনো সমঝোতাই হয়নি।
তার ভাষ্যমতে, বিশ্বকাপ জেতানো আর্জেন্টাইন কোচ লিওনেল স্কালোনির সাথে, আনুষ্ঠানিক ভাবে AFA-এর চুক্তির মেয়াদ না বাড়ানো পর্যন্ত, কোনো কিছুই নিশ্চিত নয়।
বাফুফের পক্ষ থেকে আর্জেন্টিনার আসা নিয়ে গুঞ্জন শোনা গেলেও, দেশটির ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে, গণমাধ্যমে এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
আর্জেন্টিনার অন্যতম সিনিয়র সাংবাদিক, সার্জিও ল্যাভেন্সকি বাংলাদেশ সফর নিয়ে জানান,
"আর্জেন্টিনা ফুটবল এসোসিয়েশন তাদেরকে কিছু জানায়নি। তবে যতটুকু জানতে পেরেছেন, বিষয়টি নিয়ে সবে মাত্র আলোচনা শুরু হয়েছে। "
অর্থাৎ, AFA-এর পক্ষ থেকে, বাফুফেকে প্রীতি ম্যাচ, কিংবা আর্জেন্টিনার বাংলাদেশে আসার ব্যাপারে, কোনো কিছুই নিশ্চিত করা হয়নি।
এতেই আবারো সমালোচনার মুখে পড়ে বাফুফে।
এর আগে ২০১১ সালে, আর্জেন্টিনাকে বাংলাদেশে এনে, বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন। সেবার জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে, আর্জেন্টিনা ও নাইজেরিয়াকে ঢাকায় খেলিয়েছিলো বাফুফে।
আর সেই ম্যাচ আয়োজন করতে গিয়েই, ফেডারেশনের ওপর চলে আসে বিশাল ঋণের বোঝা। যা ২০২৩ সালে এসেও পরিশোধ করতে পারেনি বাফুফে।
অতীতের ঋণের বোঝা নিয়ে, আবারও মেসির দলকে আনার বিলাসী স্বপ্ন দেখছেন বাফুফে বস কাজী সালাউদ্দিন।
আর্জেন্টিনা- নাইজেরিয়ার সেই ম্যাচ আয়োজন করতে গিয়ে, আইএফআইসি ব্যাংকের কাছ থেকে ৮ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিল বাফুফে।
সেই ঋণ তো পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি, বরং এক যুগ পরে এসে ঋণের পরিমাণ এসে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২০ কোটি টাকায়।
শুধু তাই নয়, ফুটবলের উন্নয়ন হয়নি ছিটেফোঁটাও। মেসিরা যেবার প্রথম ঢাকায় এসেছিলেন, তখন বিশ্ব র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৬০ এরও নিচে।
এক যুগ পর ২০২৩ সালে, আবারো একটা সম্ভাবনা জেগেছে আর্জেন্টিনার বাংলাদেশ সফরের। তবে র্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান এখন ১৯২ তে।
তবুও আর্জেন্টিনা দলকে বাংলাদেশে আনতে মরিয়া বাফুফে। আর এতে ১০০ কোটিরও বেশি খরচ হবে বলে অনুমান করছে, দেশের ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
সম্ভাবনা আছে স্কালোনির সাথে চুক্তি বর্ধিত হলেই, ফাকা সময় দেখে বাংলাদেশে এসে প্রীতি ম্যাচ খেলবে আলবিসেলেস্তারা।
সেই অনুযায়ী ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সাথে আলাপ করে, দ্রুত বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের সংস্কার কাজ শেষ করতে চায় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন।
মেসি, মারিয়াদের ম্যাচ এদেশের লাখো ফুটবলপ্রেমীদের আনন্দ দিলেও, আদতে ফুটবলের উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ কোনো ভূমিকাই রাখেনি বাফুফে।
বিশ্বব্যাপী আর্জেন্টিনার কোটি কোটি সমর্থক আছে। ব্যতিক্রম নয় বাংলাদেশেও। কাতার বিশ্বকাপ চলাকালে বাংলাদেশের আর্জেন্টাইন সমর্থকদের কান্ড পুরো বিশ্ব দেখেছে।
বাংলাদেশের আর্জেন্টাইন সমর্থকদের চিত্র জায়গা করে নিয়েছে, ফিফা ও আর্জেন্টিনা ফুটবল ফেডারেশনের ভেরিফাইড পেজেও।
এমনকি আর্জেন্টাইনরাও সমর্থন করতে শুরু করেছে বাংলাদেশের ক্রিকেটকে। দুই দেশের এই মেলবন্ধন থেকেই দৃঢ় হচ্ছে রাজনৈতিক সম্পর্ক।
আর সেখান থেকেই বিশ্বকাপজয়ীদের আবারো দেশের মাটিতে আনতে চায় বাফুফে। আর এতে সমর্থন দিচ্ছে খোদ আর্জেন্টাইনরাও।