আর্জেন্টাইন ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসি ব্যক্তিজীবনে অত্যন্ত সাংসারিক একজন মানুষ, একজন প্রেমিক, একজন স্বামী।
তার স্ত্রী আন্তোনেল্লা রোকুজ্জো মডেল ও সাবেক ডেন্টাল স্টুডেন্ট। মেসিকে বিয়ে করার আগেই ফ্যাশন আইকন হিসেবে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন তিনি।
রোকুজ্জুর সাথে মেসির দেখা হয়েছিলো মাত্র পাঁচ বছর বয়সে। ১৩ বছর বয়সে মেসি চলে যান বার্সেলোনায়। হয়ে উঠেন বিশ্বের সেরা ফুটবলারদের একজন।
এদিকে রীতিমতো ফ্যাশন আইকন হয়ে ওঠে রোকুজ্জো। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মডেল হিসেবে পরিচিতি পান তিনি।
সে সময় বিবাহ বহির্ভূত অবস্থাতেই মেসির সাথে অন্তরঙ্গ সম্পর্ক চলতে থাকে তার। জন্ম নেয় দুই সন্তান থিয়েগো ও ম্যাতেও।
অবশেষে ২০১৭ সালের ৩০ জুন নিজের শহর রোসারিওর একটি বিলাসবহুল হোটেলে বেশ ঘটা করেই বিয়ে করেন এই তারকা জুটি।
প্রেমিক-প্রেমিকার সম্পর্ক রূপ নেয় ‘অনন্ত জীবনের’।
বলা হয়, শতাব্দীর সেরা বিয়ে এটি।
বিয়েতে নিজস্ব ফ্যাশন স্টাইলেই নিজেকে সাজিয়েছিলেন রোকুজ্জো।
রোজা ক্লারার ডিজাইন করা গাউনটিতে তার পছন্দ মতোই বসানো হয় জটিল লেস। সঙ্গে ছিল সম্পূর্ণ টিউল স্কার্ট। ম্যাচিং ঘোমটায় মুগ্ধতা ছড়িয়েছিল রোকুজ্জো।
জাঁকজমকপূর্ণ এই অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন ২৬০ জন। তাদের মধ্যে ফুটবল স্টার সহ অন্যান্য সুপরিচিত নামি দামি ব্যক্তিরাও উপস্থিত ছিলেন। এই তারকা জুটিকে দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন তারা।
২০১৮ সালে ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে রোকুজ্জোর সমুজ্জ্বল উপস্থিতি চলচ্চিত্র-প্রেমীদের মধ্যে আলোচনা সৃষ্টি করেছিল।
সেদিন লাল গালিচায় হাঁটার সময় তার পরনে ছিল
ফ্লোর-লেংথ গাউন। পাশাপাশি ছিল স্টেটমেন্ট কানের দুল। তার এমন ফ্যাশন সেন্স তাক লাগিয়ে দিয়েছিল সকলকে।
বিয়ের পর লিওনেল মেসি-অ্যান্তোনেলা রোকুজ্জোর ঘরে কোল আলো করে আসে তৃতীয় সন্তান সিরো।
সন্তান জন্মের আগে গর্ভাবস্থায় জাঁকজমকপূর্ণ
পোশাক সিরিজ উপস্থাপন করেছিলেন রোকুজ্জো।
এ সময় তার ফ্যাশন সেন্স এতই উচ্চমার্গের ছিল যে, স্ট্যান্ডআউট লুক, হাই নেকলাইন এবং বড় হাতার ফর্ম-ফিটিং ম্যাক্সির সঙ্গে হাঁটু সমান বুট ও ফেডোরা টুপির ব্যবহার অসাধারণ লেগেছিল।
ফ্যাশন সচেতনতা দিয়ে প্রায়ই নজর কাড়ে মেসির পরিবার। সাধারণ একটি রাতের আউটিংও নিজস্ব স্টাইলের ফ্যাশন দিয়ে অসাধারণ করে তোলেন রোকুজ্জো। পাশাপাশি তার ছেলেমেয়েদের পোশাকের মিল তো থাকেই।
শুধু কাজ নয়, নিজেকে উপস্থাপনের ক্ষেত্রে বরাবরই আলাদা মেসির স্ত্রী। অনুষ্ঠান যাই হোক না কেন, তিনি নিজেকে চটকদার এবং আড়ম্বরপূর্ণ দেখাতে ভালোবাসেন।
বিন্দাস চলাফেরা করাটা তাঁর পছন্দ। ফ্যাশনে ব্যাপক এক্সপেরিমেন্ট করতে ভালোবাসেন। অন্য কোনো তারকাকে অনুকরণের চেষ্টা তাঁর নেই। বরং তাঁর ফ্যাশন যাতে অন্যরা ফলো করে সেটাই চান তিনি। মেকআপ-গেটআপ নিয়ে তাঁর বিস্তর চিন্তা রয়েছে।
গ্রীষ্মের সাধারন সাদা পোশাককেও তিনি গর্জিয়াস করেন। সানড্রেসে রাফল হাতা এবং ম্যাচিং হেডব্যান্ডের সঙ্গে মানানসই করেন নিজেকে।
স্টেডিয়াম কিংবা বিশ্বের অন্য কোনো জায়গায় যতবারই তিনি ক্যামারা বন্দি হন, ততবারই আলাদা ভাবে নিজেকে তুলে ধরেন রোকুজ্জো।
তিনি জিন্স যখন পরেন-তখন প্যান্ট স্যুট আর স্নিকার্সেও আনেন ম্যাচিং। টাসেল টপ ও চেক প্যান্টে ফ্যাশন সচেতন রোকুজ্জোকে দারুণ লাগে।
ঘরের ভেতরও ফ্যাশনেবল থাকার চেষ্টা করেন তিনি। হাইলাইটেড প্রিন্টেড ম্যাক্সির সঙ্গে থাকে হিল এবং ম্যাচিং হেডব্যান্ড। সামগ্রিকভাবে, আন্তোনেল্লা রোকুজ্জোর রয়েছে অনবদ্য ফ্যাশন সেন্স।