একসময় সৌম্য ছিলেন বাংলাদেশ দলের মারকুটে ব্যাটসম্যানের তালিকায়, তার দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে টাইগাররা জয়ের স্বাদ পেয়েছে বেশ কয়েকবার।
কিন্তু পরবর্তীতে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করতে না পারায়, জাতীয় দল থেকে বাদ দেওয়া হয়। ঘরোয়া টুর্নামেন্টগুলোতেও এখন তাকে, রীতিমতো টিকে থাকার সংগ্রাম করতে হচ্ছে।
কিছুদিন পরেই বয়স ত্রিশ ছুঁতে যাচ্ছে। এ বয়সে একজন ক্রিকেটার নিজের সেরা ফর্মে থাকেন।
অথচ সেখানে উল্টো চিত্র যেন সৌম্যর ক্ষেত্রে।
ব্যাট হাতে সময়ের সঙ্গে যেন আরও পিছিয়ে যাচ্ছেন তিনি। এমনকি রান করতে না পারায়, ঘরোয়া ক্রিকেটে একাদশের বাইরে রাখার মতো ঘটনা ঘটেছিল।
তবে নিজেকে ফিরে পেতে চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন সৌম্য। তার মধ্যে সম্ভাবনা দেখে, সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আসরে জাতীয় দলে জায়গা দেয় বোর্ড।
অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশন বিবেচনায়, সেখানে ভালো কিছু করার সুযোগ ছিলো তার। কিন্তু সেই সুযোগও কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছেন সৌম্য। প্রায় ১ বছর পর জাতীয় দলে ফেরাটা রাঙ্গাতে পারেননি তিনি।
আসরের ৬টি টি-টোয়েন্টিতে রান করতে পেরেছেন মাত্র ৭৬। যার মধ্যে সর্বোচ্চ রান ছিল ২৩। এমনকি শূন্য রানেও আউট হয়েছেন তিনি।
সেখান থেকে এনসিএলে ফিরেও হতাশ করেছেন সৌম্য। ৭১ রানের একটি ইনিংস ছাড়া, বেশ বাজে সময় কাটিয়েছেন তিনি।
চলতি বিপিএলে আরও বাজে অবস্থা এই ব্যাটারের। ঢাকা ডমিনেটর্সের হয়ে খেলা সৌম্য এখন পর্যন্ত দুইবার আলোচনায় এসেছেন।
তবে কোনোটাই ব্যাট হাতে মারকুটে পারফর্মেন্সের জন্য নয়। বরং এক ম্যাচে আম্পায়ারের সঙ্গে তর্কে জড়ানো নিয়ে, আরেক ম্যাচে বিতর্কিত আউটের কারণে।
ঢাকার হয়ে এখন পর্যন্ত পাঁচ ম্যাচে মাঠে নেমেছেন তিনি। যেখানে রান করতে পেরেছেন সবমিলিয়ে ২৬। সর্বশেষে দুই ম্যাচে আউট হয়েছেন শূন্য রানে। বোঝাই যাচ্ছে ব্যাট হাতে কি দুর্দশা এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের।
২০১৪ সালে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে চাপান সৌম্য সরকার। সে সময় তাকে দেশের অন্যতম সেরা তরুণ ক্রিকেটার বলে মনে করা হতো।
অভিষেকের পর তিন সংস্করণ মিলিয়ে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এখন পর্যন্ত দেড়শোরও বেশি ইনিংস খেলেছেন।
তবে দীর্ঘ ক্যারিয়ারে জাতীয় দলে নিজের জায়গাটা দৃঢ় করতে পারেননি তিনি। সৌম্যের মাঝে সম্ভাবনা দেখতে পেয়ে নির্বাচকরা তাকে বারবার ফর্মে ফেরার সুযোগ করে দিয়েছিলেন।
কিন্তু তা কাজে লাগাতে পারেননি এই ক্রিকেটার। কিছুতেই যেন ব্যর্থতার বেড়াজাল থেকে বেরিয়ে আসতে পারছেন না।
সৌম্যের আত্মবিশ্বাসও যেন এখন তলানিতে। তার ব্যাটিংয়ের ধরণ, শারীরিক ভাষাতেও রয়েছে আত্মবিশ্বাসের অভাব।
সৌম্যর একসময়কার সেই ভয়ডরহীন ব্যাটিং স্টাইল এখন আর দেখাই যায় না। উল্টো ব্যাট হাতে ঠিকমতো টাইমিং করতে না পারা, রিফ্লেক্স কমে যাওয়ার মতো বাজে ঘটনাগুলো সবার চোখে পড়ছে।
এছাড়া আউট হওয়ার পর মেনে নিতে না পারা, আম্পায়ারের সিদ্ধান্তকে প্রত্যেকবার প্রশ্নবিদ্ধ করে ফিরে যাওয়া তো আছেই।
ভক্তদের মনে তাই এখন একটাই প্রশ্ন, সৌম্যের ক্রিকেট ক্যারিয়ার কি তাহলে এখানেই শেষ হয়ে যাবে?
তবে সকলের চাওয়া, হাল ছেড়ে না দিয়ে এখান থেকে, নতুন উদ্যমে নিজেকে আগের ফর্মে ফিরিয়ে আনুক সৌম্য। তাহলে লাভবান হবে দেশের ক্রিকেট।