আরব্য রজনীতে রচিত হয়েছে রূপকথার গল্প। আর সেই গল্পের শেষটায় ছিল মেসি, রোনালদো, নেইমারদের হাসিমাখা দৃশ্য। সৌদিতে গোলবন্যার ম্যাচে রিয়াদ অল স্টার ইলেভেনকে ৫-৪ গোলে হারিয়েছে পিএসজি।
রোনালদোর জোড়া গোল আর মেসি, এমবাপ্পেদের গোলে রিয়াদ মেতে ওঠে গোল উৎসবে। চমক আর তারকায় ঠাঁসা ম্যাচের শুরুর আগেই ছিল বড় এক চমক।
মাঠে উপস্থিত ছিলেন বলিউড তারকা অমিতাভ বচ্চন। দুই দলের খেলোয়াড়দের সাথেই হাত মেলান এই প্রবীণ কিংবদন্তি তারকা।
যদিও সব ছাপিয়ে দর্শকদের নজর ছিল মেসি, রোনালদোর দিকেই। এই ম্যাচকে ঘিরে, দর্শকদের মাঝে উন্মাদনা কিংবা উত্তেজনার ছিল না কোনো কমতি।
তিন মিনিটের মাথায়, নেইমারের বাড়ানো পাসে গোল দিয়ে, পিএসজিকে লিড এনে দেন, বিশ্বকাপজয়ী তারকা লিওনেল মেসি। এলএম টেনের গোলে ১-০ তে এগিয়ে থেকে, রিয়াদ অল স্টারের ওপর চড়াও হয় পিএসজি।
ম্যাচের মাত্র ১৬ মিনিটে ব্যবধান বাড়িয়ে নেয়ার সুযোগ পায় তারা। প্রথম গোলে অ্যাসিস্ট করা নেইমারের কাছে সুযোগ আসলেও, ব্যর্থ হন ব্রাজিলিয়ান নাম্বার টেন।
নেইমারকে ঠেকিয়ে, অল স্টারকে দ্বিতীয় গোল খাওয়া থেকে বাঁচান গোলরক্ষক আল ওয়াসিস।
এরপর ম্যাচের মাত্র ২৫ মিনিটে ব্যবধান বাড়ায় পিএসজি। কিন্তু মেসির পাস থেকে এমবাপ্পে গোল করলেও, অফসাইডের ফাঁদে পড়ে বাতিল হয় সেটি।
এরপর ৩২ মিনিটে, ডি বক্সের ভেতর রোনালদোকে ফাউল করে বসেন, পিএসজির গোলরক্ষক কেইলর নাভাস। সৌদির মাটিতে অভিষেকেই পেনাল্টি পেয়ে যান সিআর সেভেন।
অভিষেকেই গোল করার সুযোগটাও হাতছাড়া করেননি এই পর্তুগিজ তারকা। নাভাসকে বোকা বানিয়ে নিজে স্কোর করার পাশাপাশি, দলকে সমতায় ফেরান সিআর সেভেন।
ম্যাচে উত্তাপ আরো বেড়ে যায়, ৩৯ মিনিটে পিএসজি তারকা Juan Bernat লাল কার্ড পেলে।
সমতায় ফেরার পরও চলতে থাকে দুই দলের অতর্কিত আক্রমণ। ৪৩ মিনিটে পিএসজির রক্ষণভাগের তারকা, মার্কুইনহোসের গোলে ব্যবধান বাড়ায় মেসিরা।
প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে নেইমার পেনাল্টি মিস করেন। তার শট সহজেই রুখে দেন অল স্টারের গোলরক্ষক।
তবে, ভুল করেননি সিআর সেভেন। বিরতিতে যাওয়ার কয়েক মূহূর্ত আগে, দুর্দান্ত এক গোলে আবারো দলকে সমতায় ফেরান এই তারকা। সেই সাথে অভিষেকেই পূর্ণ করেন জোড়া গোল।
২-২ সমতা নিয়েই মাঠ ছাড়ে দুই দল। দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই আবারো গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে তারা।
ম্যাচের ৫৩ মিনিটে এমবাপ্পের পাস থেকে নিজের নামের পাশে গোল যোগ করেন সার্জিও রামোস।
সমতা ভেঙে আবারো লিড নেয় পিএজি।
এরপর আবারো সমতায় ফিরতে খুব বেশি সময় নেয়নি অল স্টার। ৫৬ মিনিটে কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে, দুর্দান্ত এক হেডে লক্ষ্যভেদ করেন
আর তাতেই ৩-৩ গোলে সমতায় ফেরে রোনালদোর দল।
ম্যাচের ৬০ মিনিটে পেনাল্টি পায় পিএসজি। এবার শট নেন এমবাপ্পে। এই তারকার গোলে আবারো এগিয়ে যায় ফরাসি জায়ান্টরা।
ম্যাচের অবস্থা তখন অল স্টার একাদশ তিন, পিএসজি চার। এরপর ৬১ থেকে ৬২ মিনিটের মাথায় মেসি, নেইমার, রোনালদো, হাকিমি, এমবাপ্পে, নাভাসরা উঠে গেলে প্রাণ হারায় খেলা।
৭৯ মিনিটে একিতিকের গোলে ব্যবধান বাড়িয়ে ৫-৩ করে পিএসজি। ম্যাচের একদম শেষ মূহুর্তে অল স্টার আরও এক গোল শোধ করলেও এড়াতে পারেনি হার। ৫-৪ গোল ব্যবধানে হেরে মাঠ ছাড়ে রিয়াদ অল স্টার একাদশ।
জোড়া গোল করে ম্যাচ সেরার পুরষ্কার জেতেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। জমকালো আয়োজনেই শেষ হলো দুই দলের প্রীতি ম্যাচ।
সবার আগ্রহে থাকা মেসি-রোনালদোর হয়তো, একে অপরের প্রতিপক্ষ হিসেবে এটাই ছিলো শেষ দেখা। সবমিলিয়ে, জয়-পরাজয় ছাপিয়ে গল্পের সুন্দর একটা সমাপ্তি ঘটলো আরব্য রজনীতে।