ফরচুন বরিশাল ও ঢাকা ডমিনেটর্সের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শেষ হল চলতি বিপিএলের চট্টগ্রাম পর্ব। আর তাতে পয়েন্ট টেবিলের হিসাব নিকাশও বদলে গেছে।
ঢাকা পর্বে একক আধিপত্য দেখানো সিলেট স্টাইকার্সের সাথে সমানে সমান লড়ছে সাকিব আল হাসানের ফরচুন বরিশাল।
বিপিএলের গত কয়েকটি আসরে সিলেটের প্রতিনিধিত্ব করা দলগুলো ছাপ রাখতে পারেনি।
তবে এবার মাশরাফি বিন মর্তুজার নেতৃত্বে বদলে যাওয়া এক দল দেখা যাচ্ছে। তাতে করে সিলেট স্টাইকার্স আছে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষেই।
ঢাকায় টানা চার ম্যাচ জিতে চট্টগ্রাম পর্ব শুরু করেছিল সিলেট। বন্দর নগরীতে অবশ্য খুব বেশি ম্যাচ খেলেনি তারা।
দুই ম্যাচের একটিতে হেরেছে একটিতে জিতেছে। ঢাকার বিপক্ষে জিতে তাদের জয়ের সংখ্যা হয়েছিল পাঁচে পাঁচ।
তবে ৬ষ্ঠ ম্যাচে গিয়ে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের কাছে হারের স্বাদ পান মাশরাফি, মুশফিকরা। ৬ ম্যাচে তাদের ৫ জয়ের বিপরীতে এক হার। ১০ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের উপরে আছে নেট রান রেট বিবেচনায়।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম পর্বে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে সাকিবের বরিশাল। ২ ম্যাচে এক জয় নিয়ে সাগরপাড়ের শহরে গিয়েছিল তারা।
তবে ফিরছে ওখানে খেলা ৪ ম্যাচের সবকটিতেই জয় নিয়ে। ৬ ম্যাচে তাদেরও ৫ জয়, তবে রান রেটে কিছুটা পিছিয়ে থাকায় টেবিলে তাদের অবস্থান দুইয়ে।
চট্টগ্রামে তারা হারিয়েছে স্বাগতিক চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স, রংপুর রাইডার্স ও ঢাকা ডমিনেটর্সকে।
দলের জয়ের পথে অধিনায়ক সাকিব আছেন দুর্দান্ত ফর্মে। ২৭৫ রান নিয়ে এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক তিনি।
পয়েন্ট টেবিলের তিন নম্বরে আছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। ঢাকায় ২ ম্যাচে ২ হার নিয়ে চট্টগ্রামে গিয়েছিল ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা। তখন পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে ছিল ইমরুল কায়েসের দল।
চট্টগ্রামে গিয়েও প্রথম ম্যাচে হার সঙ্গী হয়েছে তাদের। ফরচুন বরিশালের কাছে হেরে হ্যাটট্রিক হারের স্বাদ পান লিটন দাসরা। কিন্তু এরপরই ঘুরে দাঁড়ান তারা।
কুমিল্লা সাগরিকায় জিতেছে টানা তিন ম্যাচ, তলানি থেকে উঠে এসেছে পয়েন্ট টেবিলের তিন নম্বরে। তাদের জয়গুলো এসেছে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স, সিলেট স্টাইকার্স ও ঢাকা ডমিনেটর্সের বিপক্ষে। ৬ ম্যাচে তাদের পয়েন্ট এখন ৬।
পয়েন্ট টেবিলের চার নম্বরে অবস্থান খুলনা টাইগার্সের। টানা দুই ম্যাচ হেরে চট্টগ্রামে গিয়েছিল তারা।
ভাগ্য বদলায়নি সাগরিকায় প্রথম ম্যাচেও।
রংপুর রাইডার্সের কাছে হেরেছিল ৪ উইকেটে। তবে ঘুরে দাঁড়িয়ে শেষ দুই ম্যাচ জিতেছেন তামিম ইকবাল, ইয়াসির আলি রাব্বিরা।
দুই ম্যাচেই এসেছে বড় জয়। রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে ৯ উইকেটের পর চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের বিপক্ষে ৭ উইকেটের জয়।
ব্যাট হাতে ছন্দ খুঁজে পেয়েছেন দলের অন্যতম তারকা তামিম। বল হাতে খুলনাকে পথ দেখাচ্ছেন পাকিস্তানি পেসার ওয়াহাব রিয়াজ।
এদিকে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লাকে হারিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করেছিল রংপুর রাইডার্স। তবে পরের ম্যাচেই হারে ফরচুন বরিশালের কাছে। দুই ম্যাচে এক জয় এক হার নিয়ে চট্টগ্রামে যায় নুরুল হাসান সোহানরা।
চট্টগ্রামে গিয়েও প্রথম ম্যাচে জয় পায় তারা। খুলনা টাইগার্সকে হারিয়েছে ৪ উইকেটে। কিন্তু এরপরের দুই ম্যাচেই বড় হার সঙ্গী হয় রংপুরের।
খুলনার বিপক্ষে ফিরতি ম্যাচেই হারে ৯ উইকেটে। এরপর ফরচুন বরিশালের বিপক্ষেও হারে ৬৭ রানে।
৫ ম্যাচে ২ জয় নিয়ে তাদের পয়েন্টও ৪। তবে রান রেটে পিছিয়ে থাকায় টেবিলে তাদের অবস্থান পাঁচ নম্বরে।
সিলেট স্টাইকার্সের কাছে ৮ উইকেটে হেরে টুর্নামেন্ট শুরু করেছিল চট্টগাম চ্যালেঞ্জার্স। ঢাকা পর্বে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচেই তারা খুলনাকে হারিয়েছে ৯ উইকেটের বড় ব্যবধানে।
খুলনার আজম খানের সেঞ্চুরির বিপরীতে উসমান খানের ম্যাচ জেতানো সেঞ্চুরি টুর্নামেন্টেরই সেরা মুহূর্তের একটি।
এরপর এক জয় এক হার নিয়ে ঘরের মাঠ চট্টগ্রামে খেলতে যায় চ্যালেঞ্জার্সরা। তবে সময়টা সুখকর হয়নি। স্বাগতিকরা চার ম্যাচে হেরেছে তিনটিতে। চট্টগ্রাম পর্বে একমাত্র জয় ঢাকা ডমিনেটর্সের বিপক্ষে।
সবমিলিয়ে ৬ ম্যাচে ২ জয় নিয়ে তাদের পয়েন্টও খুলনা, রংপুরের মতো ৪। কিন্তু নেট রান রেটে পিছিয়ে থাকায় চট্টগ্রামকে থাকতে হচ্ছে ৬ নম্বরে।
আর টেবিলের তলানিতে আছে ঢাকা ডমিনেটর্স। এমনিতে এবারের বিপিএলে কাগজে কলমে খর্ব শক্তির দল ঢাকা। কিন্তু প্রথম ম্যাচেই খুলনা টাইগার্সকে ৬ উইকেটে হারিয়ে বাজিমাত করেছিলেন নাসির হোসেন, তাসকিন আহমেদরা।
তবে আনন্দের উপলক্ষ্য ওই এক ম্যাচেই। ঢাকা পর্বে সিলেটের বিপক্ষে হেরেছে ৬২ রানে। চট্টগ্রাম গিয়ে যোগ হয়েছে টানা আরও ৪ হার।
অধিনায়ক নাসির হোসেন ব্যাটে-বলে দুর্দান্ত পারফর্ম করেও ভাগ্য বদলাতে পারেননি দলের। ৬ ম্যাচে মাত্র ১ জয়ে তাদের পয়েন্ট মাত্র ২।