চলমান বিপিএলে ব্যাট হাতে আলো ছড়াচ্ছেন নাজমুল হোসাইন শান্ত। সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকদের তালিকায় বর্তমানে এই বাঁহাতি ওপেনারের অবস্থান তিনে।
সাত ম্যাচে দুই ফিফটিসহ তার মোট রান ২৮১। যদিও স্ট্রাইক রেটে এখনো খুব একটা উন্নতি করতে পারেননি তিনি।
তার স্ট্রাইক রেট এখন ১১৪, যাকে টি-টোয়েন্টি সুলভ বলা যায় না। তবে সিলেটকে বড় পুঁজির ভিত গড়ে দেওয়ার কাজটি ধারাবাহিকভাবে করছেন শান্ত।
এতো ভালো করেও সমালোচকদের মুখ বন্ধ করতে পারেননি। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাকে এখনও 'লর্ড শান্ত', 'স্যার শান্ত' বলে সম্বোধন করা হয়। তাকে নিয়ে বানানো হয় নানা রকমের মিম।
এমনকি মাঠেও রেহাই নেই তার। ব্যাটিং কিংবা ফিল্ডিংয়ের সময় গ্যালারি থেকে ছুটে আসে দর্শকদের তীর্যক মন্তব্যের স্রোত।
তাকে নিয়েই যেন রাজ্যের অসন্তোষ, দোষ না করেও সবার চোখে যেন তিনিই নন্দ ঘোষ।
অবশ্য এসব নিয়ে এতোদিন সরাসরি কিছু বলেননিনি শান্ত। দেখেও না দেখার ভান করতেন এই তরুণ ব্যাটসম্যান।
তবে সম্প্রতি বেশ কয়েকবার সমালোচনা নিয়ে মুখ খোলেন শান্ত। তিনি জানান, এসব বিদ্রূপ যতটা না তাকে কষ্ট দেয়, সেটার চেয়ে অনেক বেশি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে তার পরিবারের ওপর।
এর আগে এক সাক্ষাৎকারে শান্ত দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি এখন প্রতিপক্ষ দলের সাথে খেলি না, আমার মনে হয় আমি এখন পুরো দেশের বিপক্ষে খেলি।’
একজন ক্রিকেটারের জীবনে ভালো-খারাপ দুই সময়ই আসবে। শান্ত মনে করেন, ভালো সময়ে সার্পোট করার চেয়ে, খারাপ সময়ে সার্পোট করাটাই বেশি জরুরি।
তার মতে, ' সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের যুগে যে কাউকে নিয়ে মন্তব্য করে ফেলা যায়। তবে আরেকটু জেনে বললে, যাকে নিয়ে বলা হচ্ছে, সেই ক্রিকেটারের জন্য ভালো।
কারণ তারও পরিবার আছে। নিজের ভালো লাগা, খারাপ লাগা আছে।
যতই বলেন তিনি এসব থেকে দূরে থাকেন, কিন্তু মাঝেমধ্যে তার সামনে এসব চলেই আসে।'
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই সমালোচিত হয়েছেন ক্রিকেটার নাজমুল হোসাইন শান্ত। যার মূল কারণ ছিলো জাতীয় দলের জার্সিতে ব্যাট হাতে একের পর এক ব্যর্থতা।
দেশের ক্রিকেট তো বটেই, বিশ্ব ক্রিকেটেও শান্তর মতো টিম ম্যানেজমেন্টের সমর্থন পাওয়া ক্রিকেটার খুব কমই আছে।
কিন্তু এই তরুণ যেন কিছুতেই আস্থার প্রতিদান দিতে পারছিলেন না। তার প্রতিভা কিংবা সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন ছিল না খুব একটা।
তবে ভিন্ন ভিন্ন সংস্করণের সঙ্গে মানিয়ে ব্যাট করতে না পারা, এবং ধারাবাহিকতার অভাবই ছিলো সমালোচনার মূল কারণ। বারবার ব্যর্থতার পরও, তাকে সুযোগ দিয়ে যাচ্ছিলো বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড।
তবে এখন পর্যন্ত, দলের জয়ে ভূমিকা রাখতে পারে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এমন পারফরম্যান্স,
খুব একটা দেখাতে পারেননি তিনি।
উল্টো বারবার ওপেনিংয়ে নেমে দলকে বিপদে ফেলার উদাহরণ আছে।
নির্বাচকদের পছন্দের খেলোয়াড় হলেও, শান্তর আউটের ধরণ খুবই দৃষ্টিকটু। এসব কারণে জাতীয় দলে তার থাকা নিয়েও উঠেছিলো নানা প্রশ্ন।
তবে গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকেই কিছুটা ধারাবাহিকতার আভাস মিলছে। অস্ট্রেলিয়া বিশ্বকাপে শান্তই ছিলেন লাল-সবুজ জার্সিধারীদের মধ্যে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক।
সেই ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন সিলেট স্ট্রাইকার্সের হয়ে বিপিএলেও। সমালোচনাকে পাশ কাটিয়ে, বাইশ গজে মনোযোগ দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
প্রবল সমালোচনায় চাপে পড়া স্বাভাবিক ব্যাপার। তবে সেটা থেকে ঘুরে দাঁড়াতে, সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া অনেককে পাশে পেয়েছেন শান্ত।
বাজে পার্ফম্যান্সের কারনে শান্ত একা নয়, কমবেশি সব ক্রিকেটারই ক্যারিয়ারের কোন না কোন সময় বিতর্কিত হয়েছে।
শ্রীলঙ্কার কুমার সাঙ্গাকারা থেকে বাংলাদেশের মুশফিকদের নিয়ে হয়েছে তীব্র সমালোচনা।
লিটন দাশের রানের উপর ডিসকাউন্ট দেয়া হয়েছে একসময়।
অথচ আজ তাদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ সবাই। সেখান থেকে যদি তারা ঘুরে দাঁড়াতে পারে, তবে শান্তও নিশ্চয়ই পারবেন, এমনটাই প্রত্যাশা সবার।