বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ-বিপিএলের এবারের আসর চলে এসেছ মাঝপথে।
ঢাকায় দুই পর্ব ও মাঝে চট্টগ্রাম ঘুরে, শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে সিলেট পর্ব।
এই সময়ে পয়েন্ট টেবিলে হয়েছে কিছুটা অদল বদল।
তবে যথারীতি শীর্ষেই আছে, মাশরাফি বিন মর্তুজার সিলেট স্টাইকার্স।
ঘরের মাঠ, সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তারা নামবে, শেষ চারের পথটা মসৃণ করতে।
৭ ম্যাচে তাদের জয় ৬ টি, পয়েন্ট সংখ্যা ১২।
চট্টগ্রাম পর্ব তারা শেষ করেছিল ,৬ ম্যাচে ৫ জয়ে ১০ পয়েন্ট নিয়ে।
ঢাকায় ফিরে খেলেছে মাত্র একটি ম্যাচ। যেখানে মুখোমুখি হয় সাকিব আল হাসানের ফরচুন বরিশালের।
ম্যাচের আগে দুই দলেরই পয়েন্ট ছিল ১০, তবে ওই ম্যাচ জিতে সাকিবদের দুইয়ে রেখে, এক নম্বরেই থাকলো সিলেট।
বিপিএল পয়েন্ট টেবিলের তিন নাম্বারে আছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। সব মিলিয়ে ৭ ম্যাচে তাদের পয়েন্ট ৮।
অথচ প্রথম তিন ম্যাচেই হেরেছিল ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা। এরপর টানা ৪ জয় দিয়ে, শীর্ষ তিনে উঠে এসেছে তারা।
চট্টগ্রামে টানা তিন জয় পাওয়া দলটি, ঢাকায় ফিরে হারিয়েছে ঢাকা ডমিনেটর্সকে। ফলে ঢাকার বিপক্ষে মুখোমুখি দুই লড়াইয়েই জিতেছে, ইমরুল কায়েসের দল।
চট্টগ্রাম পর্ব শেষে পয়েন্ট টেবিলের ৪ নম্বরে থাকা খুলনা টাইগার্স পিছিয়েছে এক ধাপ।
৬ ম্যাচে তাদের জয় মাত্র ২ টি, পয়েন্ট সংখ্যাও মাত্র ৪।
তবে ৬ ম্যাচে ৩ জয় নিয়ে বর্তমানে টেবিলের চতুর্থ স্থানে আছে রংপুর রাইডার্স। খুলনার অবস্থান পাঁচ নাম্বারে।
এছাড়া টেবিলের শেষ দুই দল হিসাবে আছে, চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স ও ঢাকা ডমিনেটর্স।
দুই দলের পয়েন্ট খুলনার মতো ৪। তবে রান রেটে পিছিয়ে থেকে ৬ নম্বরে চট্টগ্রাম, আর একবারে তলানিতে ঢাকা।
এবার জয় দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করা ঢাকা প্রথম ম্যাচের পর, টানা হেরেছে ৬ ম্যাচ। অবশেষে ঢাকা পর্বের শেষ ম্যাচে, খুলনা টাইগার্সের বিপক্ষে দ্বিতীয় জয় পেয়েছে তারা।
এদিকে টুর্নামেন্টের এই পর্যায়েও, ব্যাট হাতে শীর্ষে ফরচুন বরিশাল অধিনায়ক সাকিব।
৭ ম্যাচের ৬ ইনিংসে তার রান ৩০৪। যে পথে হাঁকিয়েছেন তিন তিনটি ফিফটি। স্ট্রাইক রেটটাও দুর্দান্ত, প্রায় ২০০ ছুঁইছুঁই।
সাকিব ছাড়া কেউ এখনো ৩০০ রান ছুঁতে পারেননি। তবে দলের ভরাডুবির মাঝেও উজ্জ্বল, ঢাকা ডমিনেটর্স অধিনায়ক নাসির হোসেন।
সাকিবের সবচেয়ে কাছে আছেন অনেকটা হারিয়ে যেতে বসা এই অলরাউন্ডার। ৮ ম্যাচে ২ ফিফটিতে তার রান ২৯১।
সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের তালিকায় তিন নম্বরে আছেন সিলেট স্ট্রাইকার্সের নাজমুল হোসেন শান্ত। বাঁহাতি এই ব্যাটার ৫৬.২০ গড়ে রান করেছেন ২৮১।
আর ২৭৩ রান নিয়ে চার নম্বরে আছেন সাকিবের সতীর্থ ইফতিখার আহমেদ। এবারের বিপিএলে এখন পর্যন্ত আসা তিন সেঞ্চুরির একটি এসেছে তার ব্যাটে চড়ে।
এছাড়া রংপুর রাইডার্সের শোয়েব মালিক আছেন পাঁচে, ৬ ম্যচে তার রান সংখ্যা ২২৫।
এদিকে বল হাতে অবশ্য সবার উপরে আছেন খুলনা টাইগার্সের ওয়াহাব রিয়াজ। পাকিস্তানি এই বাঁহাতি পেসার ৬ ম্যাচেই নিয়েছেন ১২ উইকেট। ওভারপ্রতি রান খরচ করেছেন ৭ থেকেও কম।
ব্যাট হাতে ঝলক দেখানো নাসির হোসেন বল হাতেও দুর্দান্ত। ঢাকা ডমিনেটর্স অধিনায়ক হাত ঘুরিয়ে নিয়েছেন ১১ উইকেট। ওয়াহাবের পরের অবস্থান তারই।
সর্বোচ্চ উইকেট শিকারির তালিকায় পরের দুইটি নামও ঢাকা ডমিনেটর্সের। ৬ ম্যাচে পেসার আল-আমিন হোসেন নিয়েছেন ১০ উইকেট।
আল-আমিনের চেয়ে ২ ম্যাচ বেশি খেলে ,সমান ১০ উইকেট আছে তাসকিন আহমেদেরও।
তার আগুন ঝরানো বোলিংয়েই, ঢাকা পেয়েছে নিজেদের দ্বিতীয় জয়।