২০২২ সালের ওয়ার্ল্ড সকার ম্যাগাজিনের বর্ষসেরা ফুটবলারের পুরস্কার জিতেছেন বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। এ নিয়ে ষষ্ঠবারের মতো এই খেতাব জিতে রেকর্ড গড়েছেন PSG সুপারস্টার।
তার পাশাপাশি ২০২২ সালের সেরা কোচ নির্বাচিত হয়েছেন আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের কোচ লিওনেল স্কালোনি।
ওয়ার্ল্ড সকার ম্যাগাজিনের ২০২২ সালের পর্যালোচনায় বর্ষসেরা ফুটবলার নির্বাচিত করা হয়েছে লিওনেল মেসিকে। নিকটতম প্রতিদ্বন্ধী হিসেবে দ্বিতীয় স্থান পেয়েছেন ফরাসি স্ট্রাইকার কিলিয়ান এমবাপ্পে। তৃতীয় স্থান পেয়েছেন আরেক ফরাসি স্ট্রাইকার করিম বেনজেমা।
১৭৪ পয়েন্ট পেয়ে তৃতীয় স্থান পেয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে আলো ছড়ানো করিম বেনজেমা। ইনজুরির কারণে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ক্লাব ফুটবলে যথারীতি আলো ছড়িয়েছেন এই মুসলিম ফুটবলার। ক্লাব ফুটবলের পারফরম্যান্স বিবেচনায় তৃতীয় স্থান পেয়েছেন তিনি ।
২৩৪ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থান দখল করেছেন বিশ্বকাপ রানার্সআপ কিলিয়ান এমবাপ্পে। বিশ্বকাপে অসাধারণ পারফরম্যান্স এর দরুন সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার ও বাগিয়ে নিয়েছিলেন তিনি।
ক্লাব ফুটবলেও সারা বছর আলো ছড়িয়েছেন এই ফুটবলার। রেটিংয়ে মেসিকে হারাতে না পারলেও দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন তিনি।
এদিকে কিলিয়ান এমবাপ্পের চেয়ে প্রায় ১০০ পয়েন্ট বেশি পেয়ে বর্ষসেরা নির্বাচিত হয়েছেন কাতার বিশ্বকাপ জয়ী লিওনেল মেসি। ২০২২ সালে সম্ভাব্য সব জয়ের ধারাবাহিকতায় লিওনেল মেসিকে বর্ষসেরা নির্বাচিত করেছে ওয়ার্ল্ড সকার ম্যাগাজিন।
লিওনেল মেসিকে বর্ষসেরার খেতাব দেওয়ার পেছনে ব্যাখ্যাও দিয়েছে সংস্থাটি।
তারা জানিয়েছে, চ্যাম্পিয়নস লিগ ফুটবল বর্তমান ফুটবলে সবচেয়ে প্রতিযোগিতামূলক আসর হলেও- বিশ্বকাপের উন্মাদনা চিরকালই সবার উপরে থাকবে। তাই বিশ্বকাপে আলো ছড়ানো ফুটবলাররা সবসময়ই উপরের সারিতে থাকেন। মেসি যেটি করে দেখিয়েছেন।
সংস্থাটি আরো বলছে, ভবিষ্যতে মেসির নামের সঙ্গে ২০২২ সালটি ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকবে। যেমন টা পেলের সঙ্গে ১৯৭০ সাল এবং ম্যারাডোনার সঙ্গে ১৯৮৬ সাল।
মেসির এবারের বর্ষসেরা নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে পেছনে ফেলেছেন।
এর আগে ৫ বার এই খেতাব জিতেছিলেন উভয় ফুটবলার। তবে এবার নিয়ে ৬ বার এই পুরস্কার জিতে সর্বোচ্চ আসনে আসীন হয়েছেন মেসি।
মেসি রোনালদো ছাড়াও রোনালদো , রোনালদিনহো , ও রবার্ট লেওয়ানডস্কি জিতেছিলেন এই খেতাব।
তিনবার এই পুরস্কার জিতেছেন ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোনালদো নাজারিও। ২ বার করে জিতেছেন রোনালদিনহো এবং Lewandowski.
এদিকে দীর্ঘদিনের আক্ষেপ ঘুচিয়ে বিশ্বকাপ ট্রফি ঘরে তোলার মাধ্যমে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ফুটবলার বনে গেছেন লিওনেল মেসি। ৩৫ বছর বয়সে এসে বিশ্বকাপ মাতিয়ে গোল্ডেন বল জিতে নিয়ে ইতিহাসে অনন্য নজির তৈরি করেছেন তিনি।
বিশ্বকাপে সাত ম্যাচে সাতটি গোল সহ তিনটি অ্যাসিস্ট করেছেন। ক্লাব ফুটবলে PSGর হয়ে লিগ ওয়ান এর শিরোপাও জিতেছেন।
পাশাপাশি চলতি মৌসুমে 21 ম্যাচে ইতিমধ্যে 13 টি গোল এবং 14 টি অ্যাসিস্ট করেছেন। তাই এই পুরস্কারের যথার্থ দাবিদার ছিলেন লিওনেল মেসি।
লিওনেল মেসির সঙ্গে সঙ্গে আরেক খেতাব জিতেছেন আর্জেন্টাইন কোচ লিওনেল স্কালোনি। আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয়ের mastermind এই কোচকে বর্ষসেরা কোচ হিসেবে নির্বাচিত করেছে ওয়ার্ল্ড সকার ম্যাগাজিন।
২০২২ সালে আর্জেন্টিনাকে Finalisima ও বিশ্বকাপ জিতিয়ে নিজেকে নতুন করে চিনিয়েছেন এই কোচ। একসময় লিওনেল মেসির সতীর্থ থেকে কোচ বনে যাওয়া স্কলানীর ছোঁয়ায় পাল্টে গিয়েছে আর্জেন্টিনার ফুটবল ধরন।
১৯৬০ সালে চালু করা হয়েছিল ওয়ার্ল্ড সকার ম্যাগাজিন।
১৯৮২ সাল থেকে, পত্রিকাটি "প্লেয়ার অফ দ্য ইয়ার", " ম্যানেজার অফ দ্যা ইয়ার" এবং " টিম অব দ্য ইয়ার " পুরষ্কার প্রদান করে আসছে। ক্রীড়া সাংবাদিকদের ভোটে এই পুরস্কার নির্বাচিত করা হয়ে থাকে।