বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ বিপিএলে অংশ নেওয়া সকল পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের দেশে ফেরার আদেশ দিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড।
আগামী ২ শোরা ফেব্রুয়ারির মধ্যে সকল ক্রিকেটারকে দেশে ফেরার আদেশ জানিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে দেশটির ক্রিকেট কর্তৃপক্ষ।
বিতর্কে শুরু হওয়া চলমান বিপিএলে কিছুটা রং এনে দিয়েছিলেন পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা। কিন্তু মাঝ পথে তাদের বিদায়ে বিপিএলের আবেদন হারাবে, এমনটাই মনে করছেন ক্রিকেটপ্রেমীরা।
কারণ এবারের বিপিএলের টপ পারফর্মার ছিলেন পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা।
ক্রিকেট খেলুড়ে দেশজুড়ে এবার একই সময়ে চলছে চারটি T-20 লিগ। বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে। এছাড়া এগুলো শেষ হতে না হতেই শুরু হচ্ছে পাকিস্তানের T-20 লিগ PCL.
এর ফলে ক্রিকেটাররা এবার বিভক্ত হয়ে গেছেন। একেকজন ছুটেছেন একেক টুর্নামেন্টে।
SA T-20 ও IL T-20র ফ্রাঞ্চাইজি মালিকানায় আছেন ভারতীয়রা। তাই এই দুই টুর্নামেন্টে এবার খেলছেন না কোন পাকিস্তানি।
এছাড়া বিগ ব্যাশ মাতানো হারিস রউফও এবার যাননি বিগ ব্যাশে। টুর্নামেন্টের মাঝে ছিল পাকিস্তানের আন্তর্জাতিক সিরিজ। সেই সিরিজ শেষে বিপিএলেই এসেছেন রউফ।
রউফের মতোই অন্যান্য পাকিস্তানি ক্রিকেটাররাও বিপিএল মাতাতে এসেছেন। এবারের বিপিএলের টপ পারফর্মারও পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা।
বিপিএলের শুরু থেকেই বল হাতে ওয়াহাব রিয়াজ, মোহাম্মদ আমিররা আলো ছড়াচ্ছেন। ব্যাট হাতে শতক হাঁকিয়েছেন আজম খান, উসমান খান ও ইফতিখার আহমেদ। আছেন অভিজ্ঞ শোয়েব মালিক। ঝড়ো ব্যাটিংয়ে আলো কেড়েছেন খুশদিল শাহ।
টুর্নামেন্টের মাঝপথে যোগ দিয়ে বিপিএলে উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করেছেন নাসিম শাহ, হারিস রউফ, মোহাম্মদ রিজওয়ান ও মোহাম্মদ নওয়াজ।
এছাড়াও আছেন মোহাম্মদ ওয়াসিম, আবরার আহমেদের মতো উঠতি তারকারা।
এবার BPL এ আছেন মোট ২২ জন পাকিস্তানি ক্রিকেটার। চার জন ছাড়া বাকি সবাই খেলেছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে। বলা যায় এবার বিপিএলে প্রাণ হয়ে আছেন এই পাকিস্তানিরা।
কিন্তু এবার হাজির হয়েছে আরেক দুশ্চিন্তা। ২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের দেশে ফিরে যাওয়ার জন্য নির্দেশনা পাঠিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড।
আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হবে পাকিস্তান সুপার লিগ। নিজ দেশের ঘরোয়া লিগে অংশগ্রহণ করার জন্যই ক্রিকেটারদের তলব করেছে PCB । নির্দেশনা দিয়েছে, ২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ফিরতে হবে দেশে।
তবে এই ব্যাপারে পাকিস্তানি ক্রিকেটাররাও ভিন্ন মত পোষণ করছেন। ক্রিকেটাররাই চাচ্ছেন, ৮ অথবা ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিপিএলে খেলতে।
এ বিষয়ে চলছে আলোচনা। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন নিশ্চিত করেছেন যে, পাকিস্তানি ক্রিকেটারদেরকে তারা বলেছেন- বোর্ড ও ফ্রাঞ্চাইজির সাথে কথা বলতে, এবং তারা কথাবার্তা চালাচ্ছে।
PCBর বেঁধে দেওয়া সময় ছিল ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। কিন্তু পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা আরো এক সপ্তাহ বেশি বিপিএলে থাকতে চাইলে- তাদেরকে অনুমতি নিতে হবে পিসিএলের ফ্রাঞ্চ্যাইজিগুলোর থেকে।
এখন PCL এর ফ্রাঞ্চাইজিগুলোর সিদ্ধান্তের ওপরেই নির্ভর করছে- পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা আর কত দিন বিপিএলে আলো ছড়াবেন।
এই ব্যাপারে বিসিবির প্রধান নির্বাহি নিজামউদ্দিন চৌধুরী গণমাধ্যমে জানিয়েছেন, "এটা আগেই ঠিক করা ছিল যে, কয় তারিখ পর্যন্ত খেলতে পারবেন পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা।
PCBর সঙ্গে PCL দলগুলোর বোঝাপড়ার ব্যাপার এটা। ব্যাপারটা ছিল PCL শুরুর আগে সব খেলোয়াড়কে রিলিজ করে দিতে হবে।"
এদিকে BPLএর রাজত্ব করছে সিলেট স্ট্রাইকার্স ও ফরচুন বরিশাল। সিলেট সাত ম্যাচের মধ্যে ছয়টিতেই জয় নিয়ে আছে শীর্ষে।
আর সমান সংখ্যক ম্যাচে পাঁচ জয় নিয়ে দ্বিতীয়স্থানে আছেন বরিশাল। এই দুই দলের পরের পর্ব খেলা মোটামুটি নিশ্চিত।
বাকি দুইটি স্থানের জন্য হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে কুমিল্লা, রংপুর ও খুলনার মধ্যে। সাত ম্যাচে চার জয় নিয়ে কুমিল্লায় পয়েন্ট ৮, ছয় ম্যাচে তিন জয় নিয়ে রংপুরের পয়েন্ট ৬,, আর ছয় ম্যাচে দুই জয় নিয়ে খুলনার পয়েন্ট ৪।
এছাড়া পয়েন্ট টেবিলের তলানির দুই দল ঢাকা ও চট্টগ্রামের পয়েন্টও '৪' করে, তবে নেট রান রেটে তারা অনেক পিছিয়ে।