চাইলেই নেট বোলার থেকে রাতারাতি দলের মধ্যমণি হয়ে ওঠা যায়। অভিষেক ম্যাচেই লাইম লাইটের সবটুকু আলো নিজের দিকে কেঁড়ে নেওয়া যায়।
কথাগুলো শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও এবারের বিপিএলে তা করে দেখিয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের ছেলে নাহিদ রানা।
বিপিএলে নিজের অভিষেক ম্যাচে ১৫০ ছুঁইছুঁই গতিতে বল করে চমকে দিয়েছেন সবাইকে, নামের পাশে জুড়ে নিয়েছেন স্পিডস্টারের তকমা।
অথচ ঢাকার বিপক্ষে খেলতে নামার আগেও অনেকেই তাকে চিনতেন না। তবে নিজেকে চেনাতে খুব বেশি দেরি করেননি রানা।
ইনিংসের সপ্তম ওভারে বল হাতে নিয়ে যা করে দেখালেন, তা দেখে বুঝার উপায় নেই দুদিন আগেও এই রানা ছিলেন খুলনার নেট বোলার!
বিপিএলে নিজের প্রথম বলটাই করলেন নো বল। পরের বলে অ্যালেক্স ব্লেকের উইকেট নিলেও সেটি ছিল ফ্রি-হিট।
প্রথম ওভারের এক্সট্রা বল বাদ দিলে ৬টি লিগ্যাল ডেলিভারির ৪টিতেই গতি উঠেছে ১৪০ এর উর্ধ্বে। এই ওভারে সর্বোচ্চ গতির বলটি ছিল ১৪৬ কিলোমিটার প্রতি ঘন্টা!
১ম ওভারে কিছুটা অগোছালো মনে হলেও পরের ওভারে রানা ছিলেন একেবারে ডিসিপ্লিনড।
এই ওভারে রানার বলের সর্বোচ্চ গতি উঠেছিল ১৪৮ কিলোমিটার! আরেকটু হলেই ছুঁয়ে ফেলতে যাচ্ছিলেন দেড়শো কিলোমিটারের ল্যান্ডমার্ক।
৩য় ওভারটা সাজিয়েছেন গতি ও স্লোয়ারের মিশেলে। এই ওভারের সর্বোচ্চ গতির বল তিনটি ছিল যথাক্রমে ১৪৫, ১৪৭, ও ১৪৮ কিলোমিটার প্রতি ঘন্টা!
ইনিংসের শেষ ওভারে আবারও ফিরেছেন গতির ঝড় নিয়ে, পেয়েছেন উইকেটের দেখা।
রানার ১৪৪ কিলোমিটার গতির বলে পরাস্ত হয়েছেন ঢাকার আমির হামজা। ইনিংস শেষে নাহিদ রানার বোলিং ফিগারটা ছিল ৪ ওভারে ২০ রানে ১ উইকেট।
ঢাকা ডমিনেটর্সের বিপক্ষে এমনই এক ছাইচাপা আগুন নিয়ে খেলতে নেমেছিল খুলনা। সেই আগুনের উত্তাপে ঢাকার ব্যাটারদের পুড়তে দেখেও নির্মল এক প্রশান্তি খুঁজে পেয়েছেন সমর্থকরা।
আর এই প্রশান্তি এনে দিতে বড় ভুমিকা রেখেছে খুলনা টাইগার্স। নিলামে দল না পাওয়া কিছু তরুণ পেসারকে ড্রাফটের বাইরে থেকে অনুশীলনে ডেকেছিল খুলনা। তাদের মধ্যে ছিলেন নাহিদ রানাও।
বাউন্সারের সাথে গতির পারফেক্ট কম্বিনেশন। লাইন লেন্থটাও বেশ দারুণ। সেই সাথে আগুনঝরা গতি তো ছিলই।
কথায় আছে, জহুরির চোখ নাকি খাঁটি সোনা চেনে।
অনুশীলনে রানার বোলিং দেখে তাকেও ঠিকই চিনতে পেরেছিলেন খুলনার কোচ ও সাবেক পেসার খালেদ মাহমুদ সুজন। তাই দেরি না করে তাকে নিয়ে নিলেন খুলনার মূল দলে।
নাহিদ রানার এই উত্থানের শুরুটা খুব একটা পুরনো নয়। মাত্র বছর তিনেক আগেই প্রথম হাতে নিয়েছিলেন ক্রিকেট বল। তবে ক্রিকেটের প্রতি তার ভালোবাসাটা বেশ পুরনো।
বড় ভাইয়ের কাছে করেছিলেন ক্রিকেট একাডেমিতে ভর্তি করিয়ে দেওয়ার আবদার। ভাই বেঁধে দিয়েছিলেন এসএসসি পাশ করার বেঞ্চমার্ক।
তবে ক্রিকেট যার মনেপ্রাণে তাকে কাছে এসব চ্যালেঞ্জ মোটেও কঠিন কিছু নয়। এসএসসি পাশের পর রাজশাহীর স্থানীয় একটি ক্রিকেট একাডেমিতে অনুশীলন শুরু করেন ২০২০ সালে।
শুরুটা বেশ দেরিতে হলেও নিজের পারফরম্যান্সের জোরে তরতর করে উঠে এসেছেন উপরের দিকে।
কোনো বয়সভিত্তিক দলে না খেলেও এক বছরের মাথায় ডাক পেয়ে যান প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে। এনসিএলে ১০ ম্যাচ খেলে এরই মধ্যে ঝুলিতে পুরেছেন ৪৬টি উইকেট।
তবে এখনই নিজের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট হতে চান না তিনি। সামনের দিনগুলোতে নিজের বোলিংয়ের গতি আরও বাড়াতে চান এই স্পিডস্টার।
সঠিক পরিচর্যা পেলে অদূর ভবিষ্যতে তাসকিন-মুস্তাফিজদের যোগ্য উত্তরসূরী হয়ে উঠতে পারেন নাহিদ রানা।