দেশের ক্রিকেটে অন্যতম সফল অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। তার অবসর নিয়ে কম জল ঘোলা হয়নি।
শেষ পর্যন্ত অঘোষিত অবসরেই কাটছে তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার। এখন নিজের জন্য আক্ষেপ নেই মাশরাফির, প্রত্যাশার জায়গাটাও কম।
তবে সাকিব, তামিম, মুশফিক, রিয়াদদের ক্ষেত্রে সম্মানটা আশা করেন। মাশরাফি মনে করেন তাদের মাঠ থেকে বিদায় বলার সুযোগ পাওয়া উচিত।
সাবেক টাইগার অধিনায়ক সাকিব-তামিমদের উল্লেখ করেছেন কিংবদন্তি হিসেবে।
২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে চোট পেয়ে ছিটকে যাওয়ার পর আর টেস্ট খেলেননি মাশরাফি। অঘোষিত অবসরেই ইতি ঘটে সাদা পোশাকের ক্রিকেট থেকে।
এরপর ২০১৭ সালে অনেকটা বিতর্কিতভাবে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটকে বিদায় জানান ক্যাপ্টেন ফ্যান্টাস্টিক।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টস করতে নেমে তার দেওয়া সেই ঘোষণা নানা আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
পরবর্তীতে জানা যায় অনেকটা জোর করেই কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে ও বিসিবি অবসরে পাঠায় মাশরাফিকে। দেশের ক্রিকেটে বড় রহস্য হয়ে আছে তার এই অবসর।
এর আগে ২০১৪ সালে নেতৃত্ব পেয়ে বাংলাদেশের ওয়ানডে দলকে বদলে দিয়েছিলে।
টি-টোয়েন্টি ও টেস্ট পেছনে রেখে মাশরাফি শুধুই খেলছিলেন ওয়ানডে। কিন্তু ২০১৯ বিশ্বকাপ ব্যর্থতার পর তার ওয়ানডে অবসর নিয়েও জটিলতা সৃষ্টি হয়।
তখন বল হাতে বিবর্ণ মাশরাফিকে বিবেচনায় রাখতে চাইছিলেন না নির্বাচকরা। আবার মাশরাফি নিজেও বিদায় বলতে নারাজ ছিলেন।
বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন সংবাদ মাধ্যমে জানান, মাশরাফি চাইলে তাকে মাঠ থেকে বিদায়ের সুযোগ করে দিবেন।
কিন্তু এসব কথা বার্তা আবার গায়ে লাগে মাশরাফির। নিজে থেকে অবসর বলেননি তিনি, বিদায়ী ম্যাচ আয়োজনের সুযোগও দেননি।
২০২০ সালের মার্চে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে অধিনায়কত্ব থেকে সরে দাঁড়ান।
তবে শুধু ক্রিকেটার হিসেবে নির্বাচকরা চাইলেই তাকে ডাকতে পারবেন সেই পথ খোলা রেখেছিলেন। যদিও আর কখনো জাতীয় দলের জন্য বিবেচিত হননি।
ততদিনে সাংসদ নির্বাচিত হয়ে যাওয়া মাশরাফিও ব্যস্ত হয়ে পড়েন রাজনীতিতে।
তবে এতোকিছুর পরেও ঠিকই খেলে যাচ্ছেন ঘরোয়া ক্রিকেট। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের সাথে নিয়মিত খেলছেন বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ-বিপিএল।
এবারের আসরে সিলেট স্টাইকার্সকে নেতৃত্ব দিয়ে জাদুর কাঠির মতো সাফল্য এনে দিচ্ছেন। বল হাতে নিজেও দেখাচ্ছেন ঝলক।
ইতোমধ্যে ৭ ম্যাচে দল জিতেছে ৬ টিতে, তার নামের পাশে আছে ৯ টি উইকেট।
মাশরাফির এমন পারফরম্যান্স দেখে আবারো আলোচনায় আসে তার অবসর। যেহেতু ওয়ানডে ক্রিকেটকে বিদায় বলেননি, তাই চাইলেই আয়োজন করা যায় তার জন্য বিদায়ী ম্যাচ।
এ নিয়ে জাতীয় দলের নির্বাচক আব্দুর রাজ্জাক জানিয়েছেন, সাবেক সতীর্থের জন্য এমন কিছু হলে খারাপ হবে না।
সেই সূত্র ধরেই আবার সংবাদ কর্মীরা ফিরেছেন মাশরাফির কাছে। বৃহস্পতিবার সিলেটে সংবাদ সম্মেলনে সাবেক টাইগার কাপ্তান সাফ জানিয়েছেন, কোনো কিছুর আশায় ক্রিকেট খেলেন না তিনি।
২০ বছরের বেশি সময় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা ম্যাশ এমনটা জানিয়েছেন বহুবার। তার জীবন যাত্রা পর্যবেক্ষণ আর চোটের সাথে লড়াই করেও ২২ গজ দাপিয়ে বেড়ানোতে যার প্রমাণ মিলে।
আনুষ্ঠানিকভাবে মাঠ থেকে বিদায় বলার সংস্কৃতি বাংলাদেশে গড়ে উঠেনি।
মাশরাফি ছাড়াও নির্দিষ্ট ফরম্যাটকে বিদায় বলেছেন তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। যদিও কারও বিদায়ই সুন্দর ছিলো না।
তামিম, মুশফিক টি-টোয়েন্টি ছেড়েছেন অনেকটা সমালোচনার জবাব দিতে গিয়ে। বোর্ডের সাথে সম্পর্ক হয়েছে শীতল৷
রিয়াদ টেস্ট ফরম্যাটকে হুট করেই বিদায় বলেছেন।
তবে গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে তিনিও বিবেচনার বাইরে আছেন আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে। বলা যায় এই ফরম্যাটে তারও অঘোষিত অবসর চলছে।
এখন কেবল সাকিব আল হাসানই খেলছেন সব ফরম্যাটে। সাকিব সহ বাকিদের পুরোপুরি বিদায়টা যেন সম্মানের সাথে হয়, সেটাই চান মাশরাফি।