সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির জন্য মালদ্বীপ ও বাংলাদেশের মত, বেশ কিছু দেশ পানির নিচে তলিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন গবেষকেরা।
তবে নির্দিষ্ট কিছু দেশই নয়, নিকট ভবিষ্যতে পানির নিচে চলে যেতে পারে কয়েকটি জনপ্রিয় স্টেডিয়ামও।
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে হুমকির মুখে থাকা স্টেডিয়ামগুলোর মধ্যে, ভারতের ওয়াংখেডে সবচেয়ে পরিচিত।
মুম্বাইয়ের এই মাঠে ২০১১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেবার অন্তর্ভুক্ত মহেন্দ্র সিং ধোনির হাতে বিশ্বকাপ ট্রফি উঠায়, ভারতীয়দের কাছে এটি অত্যন্ত গর্বের স্থান।
কিন্তু নানা ধরনের কর্মকান্ডের ফলে, বর্তমানে মুম্বাই শহরটি পৃথিবীর জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য সবচেয়ে বিপন্ন জায়গাগুলোর মধ্যে অন্যতম।
এর প্রভাবে ওয়াংখেডে স্টেডিয়াম আগামী বছরগুলোতে বিলীন হয়ে যাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে।
যদি বৈশ্বিক জলবায়ুর ইতিবাচক পরিবর্তন না ঘটে, তাহলে বিখ্যাত এই স্টেডিয়ামটি আগামী কয়েক দশকের মধ্যে একটি বড় সুইমিং পুলে পরিণত হবে।
শুধু তাই নয়, ২০৫০ সালের মধ্যে দক্ষিণ মুম্বাইয়ের ৭০ শতাংশ ডুবে যেতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
ভারতের মুম্বাই প্রদেশের মত পশ্চিমবাংলাও রয়েছে বিশাল ঝুঁকির মধ্যে। বিশেষত কলকাতা শহরের ভবিষ্যৎ প্রায় অনিশ্চিত।
কয়েক যুগ পর এই শহর সমুদ্রপৃষ্ঠের উপরে থাকবে কি না, সেটি নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে বিশেষজ্ঞদের মাঝে। আর তাই 'আইকনিক' ক্রিকেট স্টেডিয়াম ইডেন গার্ডেনের অস্তিত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এটি ভারতের সবচেয়ে প্রাচীন এবং বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম স্টেডিয়াম। তবে ইডেন গার্ডেন তৈরি করা হয়েছে হুগলি নদীর পাশেই।
অর্থাৎ বৈশ্বিক উষ্ণায়ন অব্যাহত থাকলে ইডেন গার্ডেনের অস্তিত্ব মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে। সমু্দ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পেলে প্রথম দিকেই বিলীন হয়ে যাবে এটি।
জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব সবচেয়ে বেশি যেসব দেশে পড়বে, তাদের মধ্যে একটি বাংলাদেশ।
বঙ্গোপসাগরের তীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা দেশটি জলের নিচে তলিয়ে যাবে, এমন শঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেক বিশেষজ্ঞ।
সেই সাথে রাজধানী ঢাকায় নির্মিত বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের ভবিষ্যত নিয়েও দেখা দিয়েছে বিপদের আভাস। সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়লে এই স্টেডিয়ামটিও তলিয়ে যেতে পারে।
পুরুষ ও নারী দলের ফুটবল ম্যাচ আয়োজন ছাড়াও, বিভিন্ন জাতীয় উৎসব অনুষ্ঠিত হয় এখানে। তবে বর্তমানে সংস্কার কাজ চলায়, খেলাধুলা বন্ধ রয়েছে।
'গ্রিন হাউজ ইফেক্ট নিয়ন্ত্রণ' করতে না পারলে, আগামী কয়েক দশকের মাঝে হারিয়ে যাবে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী এই খেলার মাঠ।
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, লুইস ফিগো-র মত ফুটবলের উজ্জ্বলতম নক্ষত্রেরা যেখানে বেড়ে উঠেছিলেন, সেই লিসবন ফুটবল স্টেডিয়ামের অস্তিত্ব এখন শঙ্কার মুখে।
৫০ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতা সম্পন্ন এই স্টেডিয়াম পর্তুগালের লিসবন শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত। এটি গড়ে উঠেছে আটলান্টিক মহাসাগরের উপকূলীয় অঞ্চলে।
তাই সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পেলে বাজেভাবে ভুগতে হবে পুরো শহরকে। একই সাথে স্পোর্টিং লিসবন ক্লাবের ঘরের মাঠ নিমজ্জিত হবে জলের নিচে।
ইউরোপীয় ফুটবলভক্তদের কাছে লন্ডনের স্টামফোর্ড ব্রিজ অতি পরিচিত এক নাম। সময়ের অন্যতম সেরা ইংলিশ ক্লাব, চেলসির হোম ভেন্যু হিসেবে ব্যবহৃত এই মাঠে খেলেছেন অজস্র ফুটবল কিংবদন্তি।
তবে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে হুমকির মুখে পড়েছে স্টামফোর্ড ব্রিজ স্টেডিয়াম। টেমস নদী থেকে অল্প দূরত্বে অবস্থিত লন্ডনের এই মাঠ, ৩০ বছরের মধ্যে পানির নিচে চলে যেতে পারে।
চেলসি ছাড়াও পার্শ্ববর্তী ওয়েস্ট হ্যাম এবং ফুলহ্যাম ক্লাবকে সতর্ক করা হয়েছে। তাদের স্টেডিয়ামগুলো পরবর্তী দশকে বৃষ্টিপাতের বৃদ্ধির সাথে খাপ খাইয়ে নিতে সক্ষম হবে না।