আর্জেন্টিনার আড়ালের নায়ক আনহেল ডি মারিয়া। দলের সবচেয়ে প্রয়োজনের মুহুর্তে বারবার জ্বলে উঠেছেন তিনি। সর্বশেষ বিশ্বকাপ ফাইনালেও যার প্রমাণ দেখেছে বিশ্ববাসী।
বর্তমান তরুন প্রজন্মের ফুটবলারদের কাছে এক অনুপ্রেরণার নাম ডি মারিয়া। তবে ডি মারিয়ার নিজের ও আছে এক গল্প, যার সাথে জড়িয়ে আছে তার মেয়ে মিয়ার নাম।
জন্মের পরপরই মৃত্যুকে কাছ থেকে দেখতে হয়েছে ছোট্ট মিয়াকে। হাসপাতালের সেই দিনগুলোই নতুন করে স্মৃতিচারণ করলেন কাতার বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য ডি মারিয়া।
এমনিতে ডি মারিয়ার শৈশব জীবন দারুণ রোমাঞ্চকর। অভাবের সংসারে বাবা বানাতেন কয়লা। তার আগে ছিল ছোট একটা দোকান, নাম ডি মারিয়াস ক্লিনিং শপ।
ডি মারিয়া ছিলেন প্রচন্ড চঞ্চল স্বভাবের। একবার দোকান ছেড়ে বেরিয়ে মাঝ রাস্তায় নেমে পড়েন। মায়ের নজরে পড়ায় সেদিন বেঁচে গিয়েছিলেন তিনি।
তবে অতিরিক্ত দুরন্তপনার কারণে তাকে চিকিৎসকের কাছেও নিতে হয়েছে। মাত্র ৪ বছর বয়সী ডি মারিয়ার এমন দৌড় ঝাঁপের কথা শুনে চিকিৎসকই তার মাকে পরামর্শ দেন- ফুটবল খেলানোর।
এভাবেই ফুটবল হয়ে পড়ে তার জীবনের অন্যতম সঙ্গী। যার ফলে বিশ্ব পেয়েছে অসাধারণ এক অ্যাথলেট।
তবে শৈশবের অভাব, অনটন, ঘাত-প্রতিঘাত নয়, ৩৪ বছর বয়সী তারকা ফুটবলার জানালেন- ক্যারিয়ারের যেকোনো কঠিন পরিস্থিতিতে তিনি অনুপ্রেরণা খুঁজেন তার মেয়ের কাছ থেকে।
আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম 'ওলে' তে সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকার দেন ডি মারিয়া। সেখানেই জানিয়েছেন জন্মের পর মিয়ার জীবনে বয়ে যাওয়া ঝড়ের কথা।
প্রথম সন্তান মিয়ার জন্মের এক সপ্তাহের মাথায় অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে গোল করে মেয়ের জন্য উদযাপনও করেছিলেন ডি মারিয়া।
তবে খারাপ সময়ের শুরু হয় এরপর। হাসপাতালেই জীবন হয়ে পড়ে ছোট্ট মিয়ার।
কিন্তু সপ্তাহে দুইদিনের বেশি হাসপাতালে যেতে পারতেন না তখনকার রিয়াল মাদ্রিদ তারকা। মেয়েকে রেখে বাসায় ফিরতে হতো তাকে। এমনকি জানতেন না পরদিন গিয়ে সুস্থ পাবেন কি না।
তিনি যেমনটা বলছিলেন, 'রাতে ওকে ছাড়াই বাসায় যেতে হতো। এটা খুব কঠিন ছিল। কারণ, চলে যাওয়ার সময় জানতাম না আগামীকাল ওকে পাব কি না, কী ঘটতে পারে, সেটাও জানতাম না।
কখনো এমনও হয়েছে যে, গিয়ে অনেক শিশুকে আর দেখিনি। হয়তো চলে গেছে, ভাইরাসে মারা গেছে কিংবা এটাও বলা হতো, শ্বাস বন্ধ হয়ে গেছে।'
তার কন্যার ক্ষেত্রেও ঝুঁকি ছিল অনেক বেশি। নির্দিষ্ট সময়ে আগেই ভূমিষ্ঠ হয়েছিল মিয়া। যে কারণে জীবন-মরনের সংগ্রাম দেখতে হয়েছে। ডি মারিয়ার ভাষায় ৭০ শতাংশ সম্ভাবনা ছিল মারা যাওয়ার।
কিন্তু সৌভাগ্যক্রমে জীবনযুদ্ধে কঠিন এই সময় পার করে বেঁচে গেছে ডি মারিয়া কন্যা।
আর তাতেই নতুন অনুপ্রেরণার খোরাক পাচ্ছেন কোপা, ফিনেলিসিমা ও বিশ্বকাপের ফাইনালে গোল করা আর্জেন্টাইন তারকা।
জাতীয় দল ছাড়লে কীভাবে থাকবেন? কিংবা কোনো চোটে পড়লে মানসিকভাবে কীভাবে নিজেকে চাঙা রাখবেন? এমন সব প্রশ্নের জবাবে ডি মারিয়া এখন প্রেরণা খুঁজে নেন মেয়ের কাছ থেকে।
অতটুকু ছোট মেয়ে লড়াই করে ফিরতে পারলে তিনি কেন পারবেন না? মনের সাহস বাড়াতে ছুঁড়ে দেন এমন প্রশ্ন।
২০১১ সালে আর্জেন্টিনার প্রেমিকা জর্জিলিনা কারদুসোকে বিয়ে করেন ডি মারিয়া।
তার দুই বছর পর পৃথিবীতে আসে দুজনের প্রথম সন্তান মিয়া ডি মারিয়া। তাদের দ্বিতীয় সন্তান পিয়া ডি মারিয়ার জন্ম হয় এর বছর চারেক পর, ২০১৭ সালে।