ঢাকার বাইরের সব স্টেডিয়াম কী লোক দেখানো? সব আয়োজন কেবল মিরপুরের জন্যই? যদি তা নাই হবে তাহলে দেশের একমাত্র গ্রিন স্টেডিয়াম সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম কেনো এতো অবহেলিত?
এখানে প্রায় সাড়ে ১৮ হাজার দর্শক একসাথে বসে খেলা উপভোগ করতে পারেন। ঘরোয়া ক্রিকেট তো বটেই, অতীতে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ম্যাচেও এ স্টেডিয়াম ছিল দর্শকে ভরপুর।
তারপরও ২০২০ সালের মার্চের পর থেকে কোনো এক গায়েবি কারণে এই ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হয়নি কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ!
এক টেস্ট, চার ওয়ানডে আর দুই টি টোয়েন্টির ভেন্যু সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম।
এর বাইরে গেলো চার বছরে বিসিবির নজর দু'এক রাউন্ড বিপিএল আয়োজন। এটা কি বিসিবি কর্তাদের উদাসীনতা নাকি অবহেলার শিকার সিলেট স্টেডিয়াম?- তা নিয়ে বির্তক চলছিলো গত কয়েক বছর ধরে।
সেখানে এবার বিপিএলে সিলেট স্টেডিয়ামে দর্শক উপস্থিতি যেন আবারো সে বির্তকে ঘি ঢাললো।
কোনো কিছুতেই দর্শক টানতে পারছিলো না বিপিএলের এবারের আসর। ঢাকা ও চট্টগ্রামে অর্ধেক আসর শেষ হলেও, কোনো ম্যাচেই দর্শকের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো ছিল না।
কিন্তু সিলেট পর্বে এসে পুরোপুরি পাল্টে যায় স্টেডিয়ামের দৃশ্য। ২৭ জানুয়ারি, সিলেট স্ট্রাইকার্স ও রংপুর রাইডার্সের ম্যাচ দিয়ে শুরু হয় এ পর্বের খেলা।
অন্য ম্যাচগুলোর মতো, দর্শক উপস্থিতি নিয়ে শঙ্কায় ছিলেন আয়োজকরা। তবে সব শঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে আয়োজকদের চমকে দেয় সিলেটের ক্রিকেটপ্রেমী দর্শকরা।
১৮ হাজার দর্শক ধারণ ক্ষমতার গ্যালারিতে যেন তিল ধারণের জায়গাও ফাঁকা ছিলো না! বলা চলে সিলেট পর্বে এসেই দর্শক-সমর্থকদের উৎসাহ, উন্মাদনায় নতুন করে প্রাণ ফিরে পায় নিষ্প্রাণ বিপিএল।
সিলেট স্ট্রাইকার্সকে নিয়ে শুরু থেকেই শহরজুড়ে ছিলো অন্যরকম উন্মাদনা। টানা সাফল্যে থাকা শান্ত-মুশফিকদের দলটি ঘিরে তৈরি হয়েছিলো বাড়তি আগ্রহ।
তাই মাঠে বসে নিজ দলের খেলা দেখার জন্য, সিলেটের ক্রিকেটপ্রেমীদের আগ্রহও ছিল তুঙ্গে। টিকিট নিয়ে কাড়াকাড়ি, দর্শকে ঠাসা স্টেডিয়াম। রীতিমত উৎসবের আবহ ছিলো গোটা শহরজুড়ে।
আগের দুই স্টেডিয়ামের চেয়ে সিলেট স্টেডিয়ামের দৃশ্য ছিলো পুরোপুরি ভিন্ন। চারদিনের মধ্যে সবগুলো ম্যাচেই গ্যালারি ছিল হাউসফুল।
বিশেষ করে সিলেটের ম্যাচগুলোতে পুরো গ্যালারিতে দেখা যায় ‘গোলাপি উৎসব’! ঘরের দলকে সাহস জোগাতে দর্শক-সমর্থকরাও গোলাপি জার্সি পরে হাজির হয়েছেন, সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে।
দর্শক উপস্থিতি ছাড়াও সিলেট স্টেডিয়াম নজরে আসার আরো কিছু কারণ রয়েছে। নান্দনিক প্রাকৃতিক সৌন্দর্য তো রয়েছেই, এর পাশাপাশি এখানে আছে অত্যাআধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা।
এছাড়া পাশেই আউটার স্টেডিয়াম থাকায়, খেলোয়াড়দের অনুশীলন করার প্রক্রিয়াও বেশ সহজ।
দলগুলোর থাকার ব্যবস্থা নিয়ে অতীতে অবশ্য প্রশ্ন তোলার সুযোগ ছিল। সেই জটিলতাও এখর দূর হয়েছে। গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে একটি পাঁচ তারকা হোটেল চালু করা হয়েছে সেখানে।
তাছাড়া এই ভেন্যুতে খেলা হলে ক্রিকেটপ্রেমী দর্শকের ঢল তো রয়েছেই।
এতো সব সুব্যবস্থা থাকার পরও অবহেলিত সিলেট স্টেডিয়াম!
বাংলাদেশের ক্রিকেটের সকল পরিকল্পনা যেন কেবল মিরপুরকে ঘিরেই সাজানো। এর বাহিরে জাতীয় দলের আন্তর্জাতিক সূচি বলতে বর্তমানে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরি স্টেডিয়ামের নাম উঠে আসে।
তবে সেসব তর্ক-বিতর্কে জড়াতে চাননা ক্রিকেটপ্রেমীরা। বরং ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক সিরিজ আয়োজনের ক্ষেত্রে সিলেট ভেন্যুর প্রতি বিসিবির সুদৃষ্টি পড়ুক এমনটাই প্রত্যাশা তাদের।
শুধু ক্রিকেট প্রেমীরাই নয়, বিসিবির পরিচালক শফিউল আলম নাদেলের মুখেও শোনা গেলো প্রতিবাদের সুর! সম্প্রতি এসব নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
আগামী মার্চে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ দিয়ে সিলেটে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফিরবে বলে প্রত্যাশা তার।