উচ্চতা ৭ ফুট ১ ইঞ্চি! ইম্পোর্টেড ফ্রম পাকিস্তান! বলছি গতি দানব পাকিস্তানি পেসার মোহাম্মদ ইরফানের কথা!
ক্রিকেট খেলোয়াড়দের উচ্চতা সম্পর্কে সকল ধারনাই পাল্টে দিয়েছেন ইরফান। ইফরানের আগে ৭ ফিটের উপরে কোনো ক্রিকেটারই দেখেনি ক্রিকেট বিশ্ব।
যদিও ক্রিকেটে উচ্চতা কোনো ব্যাপার না। বিশেষ করে ব্যাটসম্যান কিংবা স্পিনারদের জন্য উচ্চতার গুরুত্ব তেমন নেই বললেই চলে।
তবে পেস বোলারদের জন্য বাড়তি উচ্চতা থাকা মানে বোলিংয়ে বাড়তি শক্তি যোগ হওয়া। সেক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেন্থ, পেস আর সুইংয়ের পাশাপাশি যদি থাকে বাড়তি উচ্চতা তাহলে বিপক্ষ দলের ব্যাটসম্যানকে ভড়কে দেয়া কঠিন কিছু নয়।
সে সুযোগটাই পুরোপুরি কাজে লাগিয়েছেন এ বাঁহাতি পেসার। উচ্চতা দিয়েই নিজের জাত চিনিয়েছেন বেশ ভিন্নভাবেই। ইরফান যখন বোলিং করেন তখন মনে হয় কেউ দোতলা থেকে বল ছুড়ছে।
প্রায়ই ১৪০ কিলোমিটার গতিতে বল ছুড়তে পারেন তিনি এবং উচ্চতাকে কাজে লাগিয়ে বাউন্স দিতে পারেন বেশ যা ব্যাটসম্যানদের কলিজা কাঁপিয়ে দিতে যথেষ্ঠ!
লম্বা হওয়ার কারণে তার সাথে উদযাপনে আলাদা মাত্রা যোগ করতে হয় সতীর্থদের। উপরের দিকে হাত তুলে দিয়ে কিংবা লাফ দিয়ে ইরফানের হাতের সাথে হাত মিলিয়ে উইকেট উল্লাস করতে দেখা যায় তাদের।
সেই ইরফান এখন বাংলাদেশের বিপিএলে সিলেট স্ট্রাইকার্সের হয়ে খেলতে এসেছেন ঢাকায়! অন্যদিকে পিএসএলে যোগ দিতে সিলেট পর্ব শেষেই দেশে ফিরে গেছেন সিলেট স্ট্রাইকার্সের দুই পাকিস্তানি ক্রিকেটার মোহাম্মদ আমির এবং ইমাদ ওয়াসিম।
তাদের ঘাটতি পূরণ করতেই পাকিস্তান থেকে আনা হয়েছে মোহাম্মদ ইরফান এবং আফগানিস্তান থেকে গুলবাদিন নাইবকে।
গতকাল মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামের পাশে একাডেমি মাঠে অনুশীলন করে সিলেট স্ট্রাইকার্স। সে অনুশীলনে যোগ দেন ৪০ বছর বয়সী মোহাম্মদ ইরফানও।
অনুশীলনের একফাঁকে ইরফানের সঙ্গে ছবি তুলতে ভোলেননি সিলেট স্ট্রাইকার্সের অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিম, তরুণ ব্যাটার জাকির হাসান এবং কোচ রাজিন সালেহও।
ইরফানের সামনে দাঁড়ানো মুশফিকদের দেখে মনে হচ্ছিল যেন গ্যালিভারের সামনে কজন লিলিপুট দাঁড়িয়ে রয়েছে।
উচ্চতার এমন ফারাক দেখে হাসি-তামাশায় মেতে উঠেন সবাই। কম যাননি মোহাম্মদ ইরফানও। পরের ছবিতেই মুশফিকের সামনে হাঁটু গেড়ে বসে পড়েন তিনি।
মুশফিক তাকে উঠে দাঁড়াতে বললেও উঠে দাঁড়াননি তিনি। তার অবশ্য প্রয়োজনও ছিলো না। কেননা, হাঁটু গেড়ে বসার পর ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি উচ্চতার মুশফিক তার সমান হন।
শুধু সিলেটের ক্রিকেটাররাই নন, অন্য দলের ক্রিকেটাররাও মোহাম্মদ ইরফানের সঙ্গে ছবি তুলতে চলে আসেন।
ফরচুন বরিশালের পেসার এবাদত হোসেনও চলে আসেন ছুবি তুলতে। এসেই তিনি ইরফানের দিকে মাথা উঁচু করে তাকিয়ে হাসি-ঠাট্টা করতে থাকেন। একবার লাফ দিয়ে ইরফানের উচ্চতার সমান হওয়ার চেষ্টা করেন।
এর আগে ইফরানের সঙ্গে তোলা আফগানিস্তানের গুলবাদিন নাইবের একটি ছবি নিজেদের ভেরিফাইড ফেসবুক পেইজে আপলোড করেছে সিলেট স্ট্রাইকার্স।
যেখানে দেখা যায়, উচ্চতায় মোহাম্মদ ইরফানের সমান হওয়ার জন্য সোফায় উঠে দাঁড়িয়েছেন গুলবাদিন।
প্রসঙ্গত, ২০১০ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের পর পারফরমেন্সের চেয়ে উচ্চতা নিয়েই নজর কেড়েছেন বেশি।
২০১১ সালে আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে মাঠে নেমে আলোচনায় আসেন তিনি। এরপর থেকেই জাতীয় দলে নিয়মিত দেখা যেতো ইরফানকে।
সেসময় সময় পাকিস্তানের বোলিং আক্রমণের অন্যতম ভরসা ছিলেন মোহাম্মদ ইরফান। নিজের উচ্চতা কাজে লাগিয়ে ব্যাটারদের ভালোই ভুগিয়েছেন।
এরপর ইনজুরি আর ফিটনেসের সমস্যা নিয়ে হুট করেই আড়ালে চলে যান দীর্ঘদেহী এই পেসার। ২০১৯ সালের নভেম্বরে শেষবারের মতো পাকিস্তানের জার্সি গায়ে দেখা গিয়েছিল ইরফানকে।