বাংলাদেশী ভক্তদের ভালোবাসা নিয়ে এবার মুখ খুললেন লিওনেল মেসি! এবারের কাতারে অনুষ্ঠিত ফুটবল বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার প্রতি বাংলাদেশি দর্শকদের উন্মাদনার ঝড় ছড়িয়ে পড়েছিলো সারা বিশ্বে! সেই ঝড়ের উন্মাদনার বাতাস ছুঁয়েছে মেসিকেও!
খোদ লিওনেল মেসিকে সম্প্রতি এ নিয়ে কথা বলতে হয়েছে। আর্জেন্টাইন ফুটবল জাদুকরও জানালেন তিনি সব দেখেছেন।
কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার প্রতিটি ম্যাচ ঘিরে বাংলাদেশের আনাচে কানাচে বিরাজ করেছে টানটান উত্তেজনা, যা দ্রুতই নজরে আসে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বদলৌতে খুব সহজেই এ দেশের মানুষের ভালোবাসার কথা জানতে পারেন তারা। বিশ্ববাসী দেখেছে বাংলাদেশ যেনো এক টুকরো আর্জেন্টিনা!
পরে বাংলাদেশি দর্শকদের ধন্যবাদ জানিয়ে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন নিজেদের অফিসিয়াল টুইটার হ্যান্ডেলে পোস্টও করে।
সমর্থকদের হতে হয়নি হতাশ, ৩৬ বছরের আক্ষেপ ঘুচিয়ে শিরোপা ঘরে তোলে মেসিরা। ক্যারিয়ারকে পূর্ণতা দিতে লিওনেল মেসির হাতে এমন একটা শিরোপার আক্ষেপ যে বহু দিনের!
শিরোপা জয়ের মাস পেরিয়ে গেছে, তবু রয়ে গেছে রেশ। আর্জেন্টিনা তো বটেই বিশ্বজুড়েই এখনো চায়ের কাপে ঝড় তুলে বিশ্বকাপ নিয়ে আলোচনা চলে।
এর মাঝেই আর্জেন্টাইন সংবাদ মাধ্যম 'ওলে' তে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন লিওনেল মেসি। বাংলাদেশ প্রসঙ্গ উঠতেই তিনি জানান সমর্থকদের উন্মাদনা তিনি দেখেছেন।
আর্জেন্টিনার সাংবাদিক সোফি মার্টিনেজ তাকে বিষয়টি দেখান। সব জায়গায় আর্জেন্টিনার ১০ নম্বর জার্সি। পুরো পৃথিবীতেই ছড়িয়ে থাকা এমন কিছুকে দুর্দান্ত হিসেবেও উল্লেখ করেন এই ফুটবল কিংবদন্তি।
সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশ প্রসঙ্গ আসে আর্জেন্টিনার সমর্থকদের নিয়ে কথা বলতে গিয়ে। নিজ দেশের সমর্থকরা সব দুঃখ, হতাশা ঝেড়ে ফেলে যেভাবে শিরোপা জয়ের আনন্দে মেতেছে সেসব তুলে ধরেন মেসি।
তবে বাংলাদেশের মতো অন্য কোনো দেশের সমর্থকরা যে পাগলামি দেখিয়েছে তা অবিশ্বাস্য ছিল আর্জেন্টাইনদের কাছে৷ দেশটির সংবাদ মাধ্যমগুলো বেশ ফলাও করে প্রচার করেছে এসব খবর।
এমনকি শিরোপা নিয়ে ঘরে ফেরা মেসি, ডি মারিয়াদের স্বাগত জানানো লাখ লাখ মানুষের ভীড়েও উড়েছে বাংলাদেশের পতাকা।
দেশটির রাজধানী বুয়েনস এইরেসে বাংলাদেশি পতাকা ওড়া থেকেই বুঝা যায় যে, বাংলাদেশের আর্জেন্টিনার প্রতি ভালোবাসা কতটা স্পর্শ করেছে তাদের।
বাংলাদেশের আর্জেন্টাইন ভক্তদের নিয়ে এর আগে কথা বলেছেন শিরোপা জয়ের কারিগর কোচ স্কালোনি। তিনি মনে করেন, আর্জেন্টিনার প্রতি ভালোবাসার শুরুটা হয়েছিলো প্রয়াত কিংবদন্তি ডিয়াগো ম্যারাডোনার পায়ের জাদুর হাত ধরে!
আর লিওনেল মেসি সেই ভালোবাসার জায়গাকে নিয়ে গিয়েছেন অন্য উচ্চতায়। বাংলাদেশসহ পৃথিবীর নানা প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ভক্ত সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন স্কালোনি।
আর্জেন্টিনার জনগণও বাংলাদেশি ভক্তদের ভালোবাসাকে দারুণভাবে গ্রহণ করেছে। তাইতো বাংলাদেশ ক্রিকেটকে সমর্থন দিয়ে ভালোবাসা বিনিময়ের বার্তা দিয়েছে।
বাংলাদেশের ম্যাচের দিন তাদের দেওয়া নানা পোস্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের পর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী অভিনন্দন জানিয়ে আর্জেন্টিনার প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দেন। ফিরতি চিঠিতে ধন্যবাদ জানান আর্জেন্টিনার প্রধানমন্ত্রীও।
ভৌগলিক দিক থেকে দেশ দুটির দূরত্ব প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার। তবে ফুটবল সেই দূরত্বকে কমিয়ে এনেছে ন্যানো সেকেন্ডে!
সবচেয়ে অবাক করার বিষয় হচ্ছে, ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশে বন্ধ হয়ে যাওয়া আর্জেন্টিনা দূতাবাসও নতুন করে খুলছে এই ফুটবল উন্মাদনায় জোয়ারেই।
২৭ ফেব্রুয়ারি নতুন করে উদ্বোধন হবে দূতাবাস। সে উপলক্ষ্যে ২৬ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে আসার কথা আর্জেন্টিনার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সান্তিয়াগো ক্যাফিয়েরোর।
উল্লেখ্য, টাইব্রেকারে গড়ানো ফাইনালে ফ্রান্সকে হারিয়ে গত ১৮ ডিসেম্বর বহুল কাঙ্খিত শিরোপা ঘরে তোলে আর্জেন্টিনা।
বিশ্বকাপ জয়ী দলটিকে চলতি বছরের মাঝামাঝি সময় বাংলাদেশে আনার চেষ্টা করছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। এ নিয়ে ভক্তদের আগ্রহের কোনো কমতি নেই…