ব্র্যান্ডের জুতো কিনতে আমরা দোকানে লাইন ধরি। আর এই ব্র্যান্ডের কোম্পানিগুলোই জুতো আর বস্তাভর্তী টাকা নিয়ে লাইন ধরে মেসি, রোনালদো, নেইমারদের পেছনে!
উদ্দেশ্যে কোনো মতে এই বিশ্বখ্যাত তারকাদের পায়ে জুতোজোড়া পড়িয়ে দেয়া। ব্যস এতেই স্বার্থসিদ্ধি! মিলিয়ন ডলার খরচা করে বিলিয়ন ডলারের ইনকাম!
প্রশ্ন হচ্ছে নামীদামী ব্র্যান্ডের বুট পরার জন্য কত টাকা পান বিশ্বখ্যাত মেসি-নেইমারেরা?
নাইকি, অ্যাডিডাস ও পুমার মতো বিশ্বজয়ী বুট ব্র্যান্ডগুলো লোভনীয় অর্থের বিনিময়ে ফুটবলারদের নিজেদের দলে ভেড়ায়। কোটি কোটি টাকার চুক্তির শর্তই হলো তাদের বুট পরে খেলা!
অনুশীলনেও তাদের বুট পরতে হবে, একইভাবে বিভিন্ন সময়ে এসব বুট পরেই করতে হবে ফটোসেশান!
বর্তমানে বুট চুক্তির মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি আয় ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড নেইমার জুনিয়রের। তার সাথে বাৎসরিক ২৩ মিলিয়ন ইউরোতে রেকর্ড মূল্যে চুক্তি করেছে পুমা।
বাংলাদেশি মুদ্রায় এই অর্থের পরিমাণে ২৬০ কোটি টাকার বেশি পাচ্ছেন তিনি। পুমা ২০২০ সালে ব্রাজিলিয়ান এই তারকা ফুবলারের সাথে চুক্তি করে। আর এতেই পেছনে পড়েন রোনালদো, মেসি, এমবাপ্পের মতো বড় খেলোয়াড়েরা।
২০১১ সালে নেইমারের সাথে নাইকি চুক্তি করেছিল বাৎসরিক ১১ মিলিয়ন পাউন্ডে। অর্থাৎ নতুন প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তির অঙ্ক বেড়েছে প্রায় দ্বিগুন। পুমার 'জোগো প্রিসমাটিকো মারকুরিয়াল ভাপোর 13”ভার্সনের বুট পরেন নেইমার।
২০১৭ সালে মেসির সাথে বুট চুক্তির মেয়াদ বাড়ায় অ্যাডিডাস। তার সাথে হয়েছে আজীবন চুক্তি। বাৎসরিক ১৮ মিলিয়ন ইউরো পাবেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয়ী তারকা।
বাংলাদেশি মুদ্রায় অ্যাডিডাস তাকে বছরে প্রায় ২০০ কোটি টাকা দিয়ে থাকে। মেসির জন্য অ্যাডিডাস রীতিমতো সাবব্র্যান্ডও খুলেছে, যার নাম অ্যাডিডাস মেসি। এই ফুটবল জাদুকর পায়ে জড়ান 'অ্যাডিডাস নেমেজিজ মেসি ১৯.১ কোপা' ভার্সন।
জানা গেছে পর্তুগিজ তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর সাথে ১ বিলিয়ন ডলারে আজীবন চুক্তি সেরেছে নাইকি।
২০১৬ সালে এই চুক্তির ঘোষণা দেয় তারা। তবে শুধু বুট চুক্তির মাধ্যমে রোনালদো নাইকির কাছ থেকে পাবেন বছরে ১৫ মিলিয়ন ইউরো। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ১৭০ কোটি টাকার বেশি।
রোনালদো ব্যবহার করেন 'মারকুরিয়াল সুপারফ্লাই সেভেন এলিট সিআর১০০' এডিশনের বুট। নাইকির ইতিহাসে রোনালদো ৩য় ফুটবলার যার সাথে নাইকি আজীবন মেয়াদে চুক্তি করেছে।
বুট চুক্তি থেকে সবচেয়ে বেশি আয় করা ফুটবলারের তালিকায় বর্তমানে ৪ নম্বরে রয়েছেন ফ্রান্সের তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে। সবচেয়ে গতিসম্পন্ন ফুটবলার হিসেবেই পরিচিত এই তরুন!
তার সাথে চুক্তি করতে রীতিমতো লড়াই হয়েছে নাইকি ও অ্যাডিসাসের। তবে জল্পনা কাটিয়ে ২০১৯ সালে তার সাথে ১০ বছরের জন্য চুক্তি করে নাইকি।
যেখানে বার্ষিক ১৪ মিলিয়ন ইউরোতে মোট ১৪০ মিলিয়ন ইউরো খরচ করবে প্রতিষ্ঠানটি। বাংলাদেশি মুদ্রায় এমবাপ্পের পেছনে বুট চুক্তি বাবদ বছরে ব্যয় ১৬০ কোটি টাকার বেশি।
এমবাপ্পে ব্যবহার করেন নাইকির 'মারকুরিয়াল সুপারফ্লাই সেভেন এলিট এমডিএস জিরো জিরো থ্রি' ভার্সনের বুট।
বুট চুক্তি থেকে আয় করা সেরা দশ ফুটবলারের বাকিরা হলেন মারিও বালোতেল্লি, গ্যারেথ বেল, অ্যানটোইনে গ্রিজম্যান, পল পগবা, মার্কো ভেরাত্তি ও মোহাম্মদ সালাহ।
২০১৪ সালে নাইকির সাথে চুক্তির মেয়াদ শেষ হতেই ইতিলিয়ান বালোতেল্লির সাথে বাৎসরিক ৫ মিলিয়ন ইউরোতে চুক্তি করে পুমা। তার পায়ে দেখা যায় পুমার 'আল্ট্রা ১.১' ভার্সনের বুট।
ওয়েলসের ফুটবল তারকা গ্যারেথ বেলের সাথে অ্যাডিডাসের চুক্তি বাৎসরিক ৪ মিলিয়ন ইউরোতে। পুমার কাছ থেকে গ্রিজম্যান পান বছরে ৩.৫ মিলিয়ন ইউরো।
পল পগবার জন্য অ্যাডিডাস খরচ করে ৩ মিলিয়ন। ইতালিয়ান মার্কো ভেরাত্তির জন্য বছরে নাইকি ব্যয় করে আড়াই মিলিয়ন ইউরো।
যেখানে লিভারপুল তারকা মোহাম্মদ সালাহও অ্যাডিডাসের কাছ থেকে পান একই পরিমাণ অর্থ। প্রচারের জন্য প্রতিষ্ঠানগুলো তরুণ ফুটবলারদের দিকেও স্পন্সরের হাত বাড়ায়।
ম্যানচেস্টার সিটির মিডফিল্ডার ফিল ফোডেনের সাথে যখন নাইকি চুক্তি করে তখন তার বয়স ছিল মাত্র ১৪। ২০১৯ সালে বোরুশিয়া ডর্টমুন্ডের ইউসুফা মৌকোকোর সাথে ১০ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে ১০ বছরের চুক্তি করে নাইকি।
বলে রাখা ভালো সব পেশাদার ফুটবলারই বুট চুক্তিতে থাকেন না। এই মুহূর্তে ম্যানচেস্টার সিটির অন্যতম তারকা ফুটবলার আর্লিং হালান্ডের যেমন কোনো বুট চুক্তি নেই।