

অবশেষে হেক্সা মিশন পূরন হলো নেইমারের। তবে দেশের হয়ে দলীয় কোন অর্জন নয়, ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের বিচারে সেরা হয়েছেন তিনি।টানা তৃতীয়বার এবং সবমিলিয়ে ষষ্ঠবারের মতো সাম্বা গোল্ড কাপ অ্যাওয়ার্ড জিতেছেন ব্রাজিলিয়ান পোস্টার বয় নেইমার জুনিয়র। ব্রাজিলের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ বার এই খেতাব জয়ের মালিক পিএসজি সুপারস্টার।কাতার বিশ্বকাপ থেকে ব্যর্থতা নিয়েই ফিরতে হয়েছিল মাস দুয়েক আগে। বিশ্বকাপ মিশনটা মোটেও সুখকর ছিলনা পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের। শেষ সবকটি আসরেই ইউরোপীয় দলের কাছে হোঁচট খাওয়া যেন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে লাতিন আমেরিকার জায়ান্টদের।ব্রাজিলের হেক্সা মিশন দীর্ঘায়িত হলেও, নেইমার ঠিকই ক্যারিয়ারে হেক্সা মেশিন পূর্ণ করেছেন। চলতি বছর তুলে নিয়েছেন ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ সাম্বা গোল্ড ট্রফি। এ নিয়ে টানা তৃতীয়বার জিতলেন এই খেতাব। নিজের টুইটার অ্যাকাউন্টে দুটি ছবি পোস্ট করেছেন সেই ট্রফিসহ। ফুটবল আকৃতির সোনালি রঙের সেই ট্রফিতে জ্বলজ্বল করছে ‘সাম্বা গোল্ড ২০২২’।প্রতিবছর ইউরোপে খেলা ব্রাজিলিয়ান ফুটবলারদের পুরস্কারটি দিয়ে থাকে দেশটির গণমাধ্যম ‘সাম্বাফুট’। সংবাদকর্মী, সাবেক ফুটবলার ও সাম্বাফুটের অনলাইন পাঠকদের ভোটে নির্বাচন করা হয় এর ফলাফল।স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘স্পোর্ত’এর মতে, মোট ৩০ ফুটবলার পুরস্কারটির জন্য মনোনয়ন পান। ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগ থেকে সর্বোচ্চ ১২ জন ফুটবলার জায়গা পেয়েছিলেন।লা লিগা থেকে পেয়েছিলেন ৪ জন ফুটবলার। এদের মধ্যে ভিনিসিয়ুস, রাফিনহা, রদ্রিগো ও এদের মিলিতাও ছিলেন। রিয়াল মাদ্রিদ এবং বার্সেলোনার জয়জয়কার ছিল এই মনোনয়নে।গত বছরের পারফরম্যান্স বিচারে ৩০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকা থেকে, সেরা নির্বাচিত হয়ে পুরস্কার জিতেছেন নেইমার। ০৬ ফেব্রুয়ারি দেশটির সংবাদমাধ্যম ‘সাম্বাফুট’ তার হাতে এ পুরস্কার তুলে দিয়েছে। ২০০৮ সাল থেকে এই সংবাদমাধ্যম পুরস্কারটি চালু করেছে। কেউ কেউ এই পুরস্কারকে ‘সাম্বা ডি’অর’ও বলে থাকেন।এটি নেইমার প্রথমবার জিতেছিলেন ২০১৪ সালে বার্সেলোনায় থাকতে। ২০২০ সাল থেকে টানা তৃতীয়বার ‘সাম্বা গোল্ড’ নিজের দখলে নিয়েছেন পিএসজির এ তারকা। সবমিলিয়ে ১৫ বারের মধ্যে ছয় বার তার হাতে উঠেছে এ পুরস্কার। নেইমারের পরে সর্বোচ্চ তিন বার ‘সাম্বা গোল্ড’ উঠেছে থিয়াগো সিলভার হাতে।সম্প্রতি ৩১ বছরে পা রাখা নেইমার ক্লাব এবং জাতীয় দলের হয়ে উজ্জ্বল ছিলেন বছরজুড়ে। মোট ৪৩ ম্যাচ খেলে ৩২ গোল করার পাশাপাশি করেছেন ২০ অ্যাসিস্ট। উজ্জ্বল পারফরম্যান্সের কারনে খেতাব উঠেছে তার হাতে।নারী বিভাগে ২০২২ সালের ‘সাম্বা গোল্ড’ জিতেছেন আমেরিকান কানসাস সিটি কারেন্ট ক্লাবে খেলা দেবিনিয়া। এদিকে প্রথমবারের মতো সেরা অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবলারের পুরস্কার জিতেছেন ব্রাজিলিয়ান বিস্ময় বালক এনড্রিক। সাড়া জাগানো এ তরুণ ফুটবলার বর্তমানে খেলছেন নিজ দেশের ক্লাব পালমেইরাসের হয়ে। রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে আগাম চুক্তিবদ্ধ হয়ে সম্প্রতি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিলেন তিনি।এদিকে পিএসজির জার্সিতে বরাবরই উজ্জ্বল নেইমার জুনিয়র। সময়ের সেরা ৩ স্ট্রাইকার দলে থাকলেও, কাঙ্ক্ষিত চ্যাম্পিয়নস ট্রফি ঘরে তোলা হয়নি প্যারিসের ক্লাবটির। তাই নেইমার - মেসির যুগলবন্দী জুটিতে প্রথম শিরোপা জয়ের স্বপ্ন দেখছে ক্লাবটি। মেসি নেইমার উভয়েই দারুন ছন্দে রয়েছেন ক্লাবের হয়ে। ফরাসি স্ট্রাইকার এম্বাপেও আছেন দারুন ছন্দে। তাই এবারে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি পিএসজিতে যাচ্ছে কিনা সেটি সময়ই বলে দেবে।



