প্রথম ফুটবলার হিসেবে রোনালদো ছুঁয়েছেন ক্লাব ফুটবলে ৫০০ গোলের মাইলফলক। এর মাধ্যমেই সৃষ্টি করেছেন অনন্য রেকর্ড।
নামের পাশে ৪৯৯ গোল নিয়ে আল ওয়েদার বিপক্ষে ৯ ফেব্রুয়ারি মাঠে নামে এই ফরোয়ার্ড। এদিন একাই ৪ গোল করেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।
কিং আব্দুল আজিজ স্পোর্টস সিটি স্টেডিয়ামে ম্যাচটিতে, রোনালদো ছাড়া আর কেউ গোল করতে পারেনি। এই জয়ে আল নাসেরও ১৬ ম্যাচে ৩৭ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে এসেছে।
ম্যাচের ২১ মিনিটে প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে আড়াআড়ি শটে গোলের দেখা পান সিআর সেভেন। আর তাতেই পূর্ণ হয় ৫০০। এরপর ম্যাচের ৪০, ৫৩ ও ৬১ মিনিটে গোল করেন রোনালদো।
৫৩ মিনিটে স্পট কিক থেকে পাওয়া গোলে, ক্যারিয়ারের ৬১তম হ্যাটট্রিকে নিজের নামে লেখিয়ে নিলেন।
৩৮ বছর বয়সী এই তারকা প্রায় সাড়ে তিন বছর পর পেলেন ম্যাচে চার গোল দেওয়ার স্বাদ। এই নিয়ে ক্যারিয়ারে ১১ বার ম্যাচে ৪ গোল করলেন রোনালদো।
৫০০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করার পথে ২০ বছরের ক্যারিয়ারে ৫ টি ক্লাবের হয়ে গোল করেন রোনালদো।
যেখানে সবচেয়ে বেশি রিয়াল মাদ্রিদের জার্সিতে ৩১১ টি গোল তার নামের পাশে। দুই দফা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে খেলে গোল করেছেন ১০৩ টি। জুভেন্টাসের হয়ে ৮১ টি, আল নাসেরের হয়ে ৫ টি এবং পর্তুগালের স্পোর্টিংয়ের হয়ে ৩ টি।
৫০৩ গোল নিয়ে রোনালদো এখন ক্লাব ফুটবলের সর্বোচ্চ গোলদাতা। ৪৯৭ গোল নিয়ে তার পরের অবস্থানেই আছেন প্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসি।
বর্তমানে পিএসজির হয়ে খেলা মেসিও খুব শীঘ্রই ৫০০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করবেন। হ্যাটট্রিক সংখ্যার দিক থেকেও আপাতত পিছিয়ে আছেন আর্জেন্টাইন তারকা। রোনালদোর ৬১ হ্যাট্ট্রিকের বিপরীতে তার ৫৬ টি।
এদিকে মাইলফল ছোঁয়া ম্যাচ শেষে রোনালদো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
টুইটারে তিনি লিখেন, '৪ গোল এবং ৫০০ লিগ গোলে পৌঁছাতে পারার অনুভূতি দারুণ। এটা দলের দুর্দান্ত এক জয়।'
দলের কোচ রুডি গার্সিয়াও টুইট করে অভিবাদন জানিয়েছেন৷
রোনালদোর এই কীর্তিতে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা রোনালদো ভক্তরা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশংসায় ভাসাচ্ছেন। সমালোচকদের খোঁচার জবাবে তারাও পর্তুগিজ তারকার পারফরম্যান্সকে সামনে তুলে ধরছেন।
অথচ বেশ কিছুদিন ধরেই সবকিছু যেন রোনালদোর বিপক্ষে যাচ্ছিল। গত মৌসুমে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে শেষ ১০ ম্যাচে করতে পারেননি একটির বেশি গোল।
দিনের পর দিন কাটাতে হয়েছে বেঞ্চে, কোচ টেন হাগের সাথে বেড়েছে দূরত্ব। বিশ্বকাপে পর্তুগালের জার্সিতেও শেষদিকে ঠিকানা হয়েছিল সাইড বেঞ্চে।
বিশ্বকাপ চলাকালীন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড কোচের সমালোচনা করেছেন। টুর্নামেন্টের মাঝপথেই হয়েছেন ক্লাব ছাড়া।
ইউরোপ ছেড়ে এর মাস খানেক পর নতুন ঠিকানা গড়েন সৌদি আরবে। শুরুর কয়েক ম্যাচে এখানেও ছন্দ খুঁজে পাননি।
সৌদি প্রো লিগে প্রতিপক্ষের জালে বল জড়াতে পারেননি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। দেখা মেলেনি সুপার কাপের সেমি-ফাইনালেও। লিগে পরের ম্যাচে গোল করলেও ঠিক নিজেদের চেনা ছন্দে ছিলেন না পর্তুগিজ তারকা।
তাতে খানিক টিপ্পনীও কাটা শুরু করে দিয়েছিল সমালোচকরা। নামটা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো বলেই বেশ ভালো করে জানেন কীভাবে জবাব দিতে হয়।
আল নাসেরের হয়ে চতুর্থ ম্যাচেই গুনে গুনে এক হালি গোল করলেন, রেকর্ড বইয়ে নিজের নাম লেখালেন।
এতো এতো নেতিবাচকতার মাঝে ৫০০ গোল পূর্ণ করা ম্যাচটি নিশ্চিতভাবে রোনালদোকেও স্বস্তি দিয়েছে।