পশ্চিমা বিশ্বের কাছ থেকে অস্ত্র সহায়তা পেয়ে ক্রমেই শক্তিশালী হচ্ছে ইউক্রেন। এমন অবস্থায় নতুন করে ট্যাংক এবং সমরাস্ত্র উৎপাদন বাড়িয়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে পুতিন প্রশাসন।
ইউক্রেনকে সম্প্রতি ৩১টি অত্যাধুনিক প্রযুক্তির আব্রামস ট্যাংক দেয়ার কথা ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্র।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারির পর থেকে এখন পর্যন্ত কিয়েভ সরকারকে ২৯০০ কোটি ডলারের অস্ত্র সহায়তা দিয়েছে বাইডেন প্রশাসন।
জার্মান সরকার ইউক্রেনকে ১৪টি লেপার্ড-টু ট্যাংক সরবরাহ করার ঘোষণা দেয়। এর আগে পশ্চিমা দেশগুলোর থেকে নানান রকম অস্ত্র সহায়তা পেয়ে আসছিল ইউক্রেন।
এরমধ্যেই রাশিয়ার সামরিক শক্তিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আসছে ইউক্রেন। তাই রাশিয়া ট্যাংক উৎপাদন জোরদার করার পরিকল্পনা করছে বলে জানান, দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ ।
সাইবেরিয়ার এক ট্যাংক ফ্যাক্টরিতে সফরের সময় এমন কথা জানিয়েছেন মেদভেদেভ। বর্তমানে রাশিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের উপপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সাবেক এই প্রেসিডেন্ট।
মেদভেদে জানান, নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে পশ্চিমা দেশগুলোর ইউক্রেনকে উন্নত ট্যাংকসহ, নানা ধরনের সামরিক অস্ত্র সরবরাহের মোক্ষম জবাব হবে, রাশিয়ার ট্যাংক উৎপাদন জোরদার করা।
তিনি বলেন, রাশিয়ার শত্রু ইউক্রেন ক্রমাগত তার পশ্চিমা মিত্রদের কাছে যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র এবং ট্যাংক দেয়ার আবেদন জানিয়ে আসছে । কিভাবে এর জবাব দেওয়া উচিত তাও জানা আছে রাশিয়ার।
অস্ত্রের জবাব বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র এবং ট্যাংক উৎপাদন জোরদার করেই দেওয়া হলে, সেটাই উত্তম হবে বলে মনে করেন তিনি।
সম্প্রতি সমরাস্ত্র চাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে, ইউরোপের বিভিন্ন দেশে সফর করে সহায়তা চাইছেন ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
ইতিমধ্যে ব্রিটেন ও ফ্রান্সসহ, ইউরোপের বিভিন্ন দেশ সফর করছেন এবং এসব দেশের কাছে যুদ্ধবিমান সরবরাহ করার অনুরোধ জানিয়েছেন।
এর আগে ইউক্রেন যুদ্ধবিমান দেওয়ার অনুরোধ করলে এড়িয়ে যায় মিত্র দেশগুলো । তাই এবার স্বয়ং উপস্থিত থেকে যুদ্ধবিমান সহ সামরিক সহায়তা জোরালো আবেদন করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট।
ইতোমধ্যে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ভাষণ দেওয়ার পর, ফ্রান্স সফরে গিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাকরন ও জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শোলযের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। সেই বৈঠক শেষ হতে না হতেই বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলস সফরে গেছেন।
ন্যাটোর সদস্যপদ পাওয়ার পাশপাশি, ইউক্রেনকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য করার জন্য, ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্যদের প্রতি আকুল আবেদন জানাচ্ছেন তিনি।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন এর সদস্য হতে চাইলেও, আপাতত ইউক্রেনকে গ্রহণ করছে না ই ইউ কর্তৃপক্ষ।
পশ্চিমা বিশ্ব যখন ক্রমাগত রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে ইউক্রেনের জয় ঘোষণা করে আসছিল, ইউক্রেন সে সময় তাদের কাছে ৩০০টি এমবিটিএস ট্যাংক চাওয়ার আবেদন জানিয়েছিল। কিন্তু ইউক্রেনকে প্রতিশ্রুতি দিলেও সে সমরাস্ত্র বুঝে পায়নি তারা।
সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা যাচ্ছে, যুক্তরাজ্য ইউক্রেনে চ্যালেঞ্জার-২ ট্যাংক পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর আগে ইতালি অস্ট্রেলিয়ার সামরিক সহায়তার ঘোষণায় ও বেশ সরগরম ছিল রাশিয়া ইউক্রেন ইস্যু।
এদিকে, ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ওলেক্সি রেজনিকভ বলেছেন, ‘ইউক্রেন এই মাসে একটি সম্ভাব্য রুশ আক্রমণের আশঙ্কা করছে।
তবে কিয়েভের কাছে রাশিয়ার সেনাবাহিনীকে আটকে রাখার মতো, সামরিক সরঞ্জাম মজুদ আছে তাদের কাছে।
যদিও এখন পর্যন্ত পশ্চিমাদের বিভিন্ন সামরিক সহায়তা ইউক্রেনে পৌঁছায়নি, তবুও দেশটি রুশ বাহিনীকে প্রতিরোধ করতে পারবে।