প্লে-অফের ১ম কোয়ালিফায়ারে মাশরাফির সিলেটকে হারিয়ে, সবার আগে ফাইনালের টিকিট কাটলো কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স।
আসরের দুই টেবিল-টপারের ফাইনাল নির্ধারণী মহারণে, টানটান লড়াইয়ের প্রত্যাশা থাকলেও, মাঠের ক্রিকেটে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র।
শক্তিমত্তার বিচারে দু'দল সমানে সমান হলেও, ব্যাটে-বলে একক নৈপুণ্য চোখে পড়েছে কুমিল্লার।
মহা গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে টসে জিতে, আগে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় কুমিল্লার অধিনায়ক ইমরুল কায়েস।
অধিনায়কের সিদ্ধান্তের মান রেখে, ইনিংসের ২য় ওভারেই সিলেট শিবিরে জোড়া আঘাত হানেন, ক্যারিবিয়ান অলরাউন্ডার আন্দ্রে রাসেল।
একই ওভারে শফিকুল্লাহ গিফারি ও দলের অন্যতম সেরা ব্যাটার, তৌহিদ হৃদয়ের উইকেট হারিয়ে শুরুতেই বিপাকে পড়ে সিলেট।
পাওয়ার-প্লেতে স্কোরবোর্ডে ৪৩ রান তুলতে, আরও ১ উইকেট হারায় সিলেট স্ট্রাইকার্স।
দলের এমন বিপদের মুখে নিজের ব্যাটিং অর্ডার বদলে, আগেই ব্যাট হাতে নেমে পড়েন সিলেটের কাপ্তান মাশরাফি বিন মর্তুজা।
ওপেনার নাজমুল hossain শান্তর সাথে ৫৬ রানের জুটি gore , শুরুর বিপর্যয়ের ধাক্কা সামাল দেন মাশরাফি।
আন্দ্রে রাসেলের শিকার হয়ে ফেরার আগে, ২টি চার ও ২টি ছক্কায় মাশরাফির ব্যাট থেকে আসে ২৬ রান।
অধিনায়কের বিদায়ের পর হাত খুলতে গিয়ে, কুমিল্লার তানভীরের বলে কাটা পড়েন নাজমুল হোসেন শান্ত।
এরপর প্রোটিয়া অলরাউন্ডার জর্জ লিন্ডেকে নিয়ে, ৩৯ রানের ছোট পার্টনারশিপে, সিলেটকে আবারও ম্যাচে ফেরান মুশফিকুর রহিম।
তবে এই দুই ব্যাটারের বিদায়ের পর, মাত্র ৭ রানেই বাকি ৪ উইকেট হারিয়ে, ১২৫ রানেই গুটিয়ে যায় সিলেট স্ট্রাইকার্স।
সিলেটের হয়ে ২টি করে উইকেট ঝুলিতে পুরেন আন্দ্রে রাসেল, তানভীর ইসলাম ও মুস্তাফিজুর রহমান।
ছোট পুঁজি নিয়ে ফিল্ডিংয়ে নেমে শুরুতেই ক্যারিবিয়ান ঝড়ের সামনে পড়ে সিলেট। শুরু থেকেই সিলেটের বোলারদের উপর চড়াও হয়ে খেলতে থাকেন সুনীল নারাইন।
দলীয় ৪৮ রানে সাজঘরে ফেরার আগে, ২১৭ স্ট্রাইক-রেটে, ৩৯ রানের এক কার্যকরী ইনিংস খেলেন এই ক্যারিবিয়ান।
নারাইনের পর দারুণ এক থ্রোতে জনসন চার্লসকে ফেরান তৌহিদ হৃদয়। ৩ উইকেট হারিয়ে পাওয়ার-প্লেতে কুমিল্লার সংগ্রহ দাঁড়ায় ৫৮ রান।
এরপর রানের গতিটা কিছুটা কমে এলেও, দেখেশুনে খেলতে থাকেন অধিনায়ক ইমরুল কায়েস ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত।
অধিনায়ক ১৩ রান করে ফিরে গেলে, মোসাদ্দেককে এক পাশে রেখে দ্রুত রান তুলতে থাকেন ইংলিশ অলরাউন্ডার মঈন আলি।
এরপর ১৫তম ওভারে মঈন আলি ও জাকেরকে ফিরিয়ে, সিলেটের হয়ে কিছুটা আশার সঞ্চার করেন রুবেল হোসেন।
তবে বিপদ বেশি বড় হতে দেয়নি ক্যারিবিয়ান হিটার আন্দ্রে রাসেল। মোসাদ্দেককে সঙ্গে নিয়ে ২ ওভার হাতে রেখেই খেলা শেষ করে মাঠ ছাড়েন তিনি। মোসাদ্দেক ২৭ ও রাসেল অপরাজিত থাকেন ১৫ রান করে।
সিলেটের হয়ে রুবেল একাই শিকার করেন ৩ উইকেট। ২টি উইকেট ভাগাভাগি করেন তানজিম হাসান সাকিব ও শফিকুল্লাহ গাফারি।
লো-স্কোরিং ম্যাচে ৩০ রান খরচায় ২টি উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি, ১টি রানআউট ও দুর্দান্ত এক ক্যাচ নিয়ে, ম্যাচসেরার পুরষ্কার জিতেছেন কুমিল্লার তানভীর ইসলাম।
এই ম্যাচ জিতে, নিজেদের ৪র্থ বিপিএল শিরোপা জয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। অপরদিকে ২য় কোয়ালিফায়ারে সিলেটকে প্রতিপক্ষ হিসেবে পেল রংপুর রাইডার্স।